প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতালি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরো বক্তব্য

প্রিয় সাংবাদিক ভাইবোনেরা, আস্সালামু আলাইকুম। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।

ভাষা আন্দোলনের মাসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর রহমানসহ নাম জানা ভাষা শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে যুক্ত থেকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন স্বাধীন- সার্বভৌম বাংলাদেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ, নির্যাতিত দু-লাখ মা-বোন, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় চার-নেতা এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহামান্য পোপের আমন্ত্রণে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি আমি ভ্যাটিকান সফল করি। ১৩ই ফেব্রুয়ারি রোমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল- IFAD এর Governing Council- এর ৪১তম অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে Keynote বক্তব্য প্রদান করি। IFAD- এর প্রেসিডেন্ট Mr. Gibert F. Houngbo- এর আমন্ত্রণে আমি এই অনুষ্ঠানে যোগদান করি। ভাটিকানে দ্বিপাক্ষিক সফর এবং IFAD- এর – Governing Council- এ যোগদানের জন্য বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী, মাননীয় কৃষিমন্ত্রী এবং মাননীয় পরবাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে বিশ্ব খাদ্য সস্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত আর্থিক সংস্থা হিসেবে IFAD প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংস্থাটি কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন বিশেষতঃ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এ বছর ৪১তম গভনিং কাউন্সিল সভার প্রতিপাদ্য ছিল “From fragility to long- term resillence: investing in sustainable rural economies’’| IFAD এর সদস্য দেশসমূহ কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যামান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার করণীয় সর্ম্পকে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আলোচনা করে। এছাড়াও, সভায় যুব উন্নয়ন এবং নারীর অধিকতর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিগত ৪০ বছর ধরে IFAD বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের ক্ষমতায়ন, দারিদ্র বিমোচন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। IFAD প্রতিষ্ঠার পর তাদের সর্বপ্রথম প্রকল্পটি বাংলাদেশে গ্রহণ করে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ৭৮২ মিলিয়ন ডলার অনুদান এবং স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য ঋণ দিয়েছে। গুরুতৃপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক ফোরামের গভনিং কাউন্সিলের সভায় আমার উপস্থিতি এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে IFAD এর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিমূলক সর্ম্পক আরও জোরদার হয়েছে। IFAD এর সভায় আমার মূল প্রবদ্ধে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্যের কথা তুলে ধরি। গ্রামীণ যুবশক্তির উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং পল্পী জনগণের ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার বিষয়েও আলোকপাত করি। আমি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য উৎপাদনের সাফল্য তুলে ধরি এবং বাংলাদেশের জনগণের যে কোন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিনব ক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রতিকূল পরিবেশেও আমাদের কৃষিজীবীরা যে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে তা বিশ্ববাসীকে অবহিত করি। জাতীয় পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও আমার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি আমি উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উচ্চ ফলনশীল জাতের উদ্ভাবনসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা আমার বক্তব্যে তুলে ধরি। এছাড়া একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পসহ প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরি। সম্মেলনে বাংলাদেশের উত্তর- মধ্যঞ্চলীয় ছয়টি জেলার ২৫টি উপজেলায় গরীব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো ও বাজার উন্নয়নের নিমিত্ত `Promote Resilience of Vulnerable Through Access to Infrastructure, Improved Skills and Information ( PROVATi3)শীর্ষক একটি প্রকল্প আমার উপস্থিতিতে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত