প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় বর্জ্য বিদ্যুত উৎপাদন করে ৩ জেলা সদরের চাহিদা মেটানো যায়

ফারমিনা তাসলিম : ঢাকার বর্জ্য দিয়ে প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব যা রাজধানীর বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেকের বেশি। এধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে তিনটি জেলা সদরে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

ঢাকায় প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ করতে হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, আগামী ৫ বছরে তাদের ৬০ লাখ টন আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। দুই বছর আগের চেয়ে বর্তমানে ঢাকায় ২৪ শতাংশের বেশি ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।

কলার খোসা, কাগজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ অথবা বোতল দেখা যাবে না ঢাকায় এমন কোন রাস্তা বা পাড়া খুব কমই আছে। চলতি পথে খোলা কন্টেইনারে উপচে পড়া আবর্জনাকে হাত দিয়ে পাশ কাটানো অথবা ময়লা বহনকারী ট্রাক থেকে কিছু উড়ে এসে গায়ে পড়বে না, সেই উদ্বেগ সম্ভবত সকল ঢাকাবাসীর অভিজ্ঞতায় রয়েছে। দিনের বেলায় ট্রাক থেকে ময়লা ঢালার মত বিষয়টি অহরহ ঘটছে। এছাড়া ভ্যানে করে ময়লা সংগ্রহ করে ট্রাকে তুলে দিচ্ছেন পাড়াভিত্তিক আবর্জনা সংগ্রহকারিরা। ময়লা আবর্জনা সংগ্রহকারিরা জানান, আমরা প্রত্যেকটা বিল্ডিং থেকে ময়লা সংগ্রহ করে আনি।

সিটি করপোরেশন বলছে ঢাকায় ৪ হাজারের মতো এমন পাড়াভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। শহরের তৈরি ময়লার ৮০ শতাংশই তারা পরিষ্কার করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এম এ রাজ্জাক বিবিসি বাংলাকে বলেন, মেইন রোড, লেইন, বাই লেইন যেকোন রাস্তা বলেন দোকান, মুদির দোকান, চায়ের দোকান, হকার, ফুটপাতে, কিচেন মার্কেটেও রাস্তায় দেখা যায়। প্রতি মুহূর্তে রাস্তায় বর্জ্যটা পড়তে থাকে। সকালে পরিস্কার করা হলেও সারাদিন যে ময়লাটা পড়তে থাকে তার সঙ্গে যোগ হয় বাসা-বাড়ির ময়লা। ক্লিনার পরের দিন সকালে আসে। তারা সারাদিন রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকলে সেটা আর পরিষ্কার হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, বর্জ্যটা ফেলার আগে ওরা নিচে ফেলে, ফেলে আবার ওখান থেকে বাছাই করে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্যগুলো ওরা সরিয়ে ফেলে। এটা বন্ধ করতে পারছি না। দেড় লাখ লোক ইনফরমাল রিসাইক্লিংগুলোর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এটা তো একেবারেই বন্ধ করা সম্ভব না। প্রত্যেক ওয়ার্ডে কমপক্ষে তিনটা করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফরটেশন ঘর করা হবে যে ঘরের ভিতরে ময়লার কন্টেইনারগুলো চলে যাবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বড় সমস্যা হলো জায়গা নেই।

এম এ রাজ্জাক বলছেন, ওয়েস্টার ভলিয়ম রিডাকশনটা অবশ্যই করতে হবে। ওয়েস্ট ইনসেন্ট অব পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্জ্যরে ভলিয়মটা কমানো। বাই প্রোডাক্ট হিসেবে হিট এনার্জিটাকে ব্যবহার করে কিছু ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত