প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড্ডায় বাদশা হত্যা
আটক সন্ত্রাসী নুরা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

মেরুল বাড্ডায় যুবককে গুলি করে হত্যার পর পালানোর সময় জনতার হাতে আটক সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে হাতিরঝিল এলাকায় ধরা পড়ার পর গতকাল রোববার ভোরের দিকে তাকে নিয়ে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় ‘অভিযানে’ যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেখানেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত নুরা বনানীর ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসাইন মুন্সীসহ বেশ কয়েকটি হত্যা, ডাকাতি ও ছিনতাই মামলার আসামি। মেরুল বাড্ডার মাছের আড়তে নুরার গুলিতে নিহত আবুল বাশার বাদশাও একই অপরাধ চক্রের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক ব্যবসার অর্থ বণ্টন নিয়ে মতবিরোধে তাকে খুন করা হয়।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী সমকালকে বলেন, নিহত নুরা রামপুরা, বাড্ডা, বনানী ও খিলগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে বনানীর ব্যবসায়ী হত্যা ছাড়াও ২০১৩ সালে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গত বছরের মাঝামাঝি মধ্যবাড্ডার পানশী হোটেল এলাকায় গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও সে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ছয় থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে।

গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে নুরার লাশ শনাক্ত করেন তার ভাই কামাল ও বোন কুলসুম। এ সময় কামাল জানান, সাত বছর ধরে তার সঙ্গে নুরার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে সে বাড্ডা এলাকাতেই থাকত বলে শুনেছেন। তবে নুরার অপরাধ সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ডিবি সূত্র জানায়, জনতার সহায়তায় গ্রেফতারের পর নুরাকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পর গতকাল ভোরে তাকে নিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের উদ্দেশে সাঁতারকুল রোডের প্রজাপতি গার্ডেন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তখন চার-পাঁচ সন্ত্রাসী পুলিশের ওপর আক্রমণ করে নুরাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সুযোগে নুরাও পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নুরা আহত হয়। পুলিশ আহত নুরাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশের তিন সদস্য সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বনানীর ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে প্রথম যে ব্যক্তিকে দেখা যায়, সে-ই হলো নুরা ওরফে নুরি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বাড্ডার আফতাবনগরে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বনানীর ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত সাদ্দাম হোসেন ও আল আমিন। এর পর আল আমিনের স্ত্রীকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করে নুরাসহ কয়েকজন। কিন্তু চক্রের টাকা-পয়সার মূল লেনদেনকারী বাদশা এতে আপত্তি জানায়। বিরোধের এক পর্যায়ে গত শনিবার বাদশাকে গুলি করে হত্যা করে নুরা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শিউলি আক্তার বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে নিহত নুরা ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া আরিফ, রাজু ও মাসুমকে আসামি করা হয়েছে।

বাদশার স্ত্রী শিউলি আক্তারের ভাষ্য, তার স্বামী কাপড়ের ব্যবসায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করত। নুরা এর আগে বেশ কয়েকবার মাদক ব্যবসা করার জন্য বাদশাকে চাপ দিয়েছিল। বাদশা তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত