প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বিএনপি ম্যাচিউরড দল হলে নির্বাচনে যাবে’

ডেস্ক রিপোর্ট : খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপি’র জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তারপরও বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে তা খালেদা জিয়ার জন্য লাভজনক হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত টক শো অনুষ্ঠান তৃতীয় মাত্রায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান। কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে, দুই শীর্ষ নেতা সাজাপ্রাপ্ত।

সাজাগুলো নির্বাচনী বছরের রাজনীতিতে কি রকম প্রভাব ফেলবে? অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের এমন প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, রায়টা যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেয়া হয় তাহলে দেশে একটা গুণগত পরিবর্তন আসার কথা। রায়টি যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠ থেকে দেশের অন্যতম প্রধান একটি দলের নেত্রীকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায় তবে গুণগত হিসেবে এটা ভাল কোনো পরিণতি আনবে না। এখন এই বিচার আমরা কিভাবে করবো। এটা কি ন্যায় বিচার হিসেবে করা হয়েছে নাকি প্রতিহিংসামূলকভাবে ওনাকে মার্জিনালাইজ করার জন্য করা হয়েছে। এই মামলার প্রেক্ষিত যদি দেখা যায় তবে ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুই নেত্রীর বিরুদ্ধেই অনেকগুলো মামলা হয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। হাজার কোটি টাকার অঙ্কে মামলা হয়েছে। ওইসময় সবাই বলেছে দুই নেত্রীকে মাইনাস করার জন্য মামলাগুলো করা হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়ই বলেছে। সেইরকম একটা মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। মাইনাস টু ফর্মুলার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করা হয় সেগুলোর একটাও সচল রাখা হয়নি। উনি ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যে নানাভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একজনের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একজনের মামলা সচল রাখা হয়েছে। তখনই সন্দেহ জাগবে মামলা চালানোর উদ্দেশ্য কি আর প্রত্যাহার করার উদ্দেশ্য। এই প্রেক্ষিতকে তো বিচার থেকে আলাদা করা যায় না। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে- এগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময় আসিফ নজরুল বলেন, হাইকোর্ট যখন কোনো মামলা বাতিল করে তখন বাদীকে ফাইট করতে হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন কি সেখানে তখন ফাইট করেছিল?

হাইকোর্ট যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলো বাতিল করলো তখন দুদক কি আপিল বিভাগে গিয়েছিল? তাদের কি উচিত ছিল না আপিলে যাওয়া? দুদক বিরোধী দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয় তখন তারা প্রবল আগ্রহ নিয়ে মামলার শেষ পর্যন্ত লেগে থাকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার সম্পন্ন করার জন্য এত ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যখন একটার পর একটা মামলা বাতিল হচ্ছিল কেন তারা আপিল বিভাগে গেল না, কেন তারা লিভ টু আপিলে গেল না, কেন তারা চেষ্টা করলো না? তার মানে রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে যেটা দৃশ্যমান। আর বাকিটা দৃশ্যমান না থাকলেও বাংলাদেশে কিভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে হস্তক্ষেপ করা হয় সেটা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিদায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে দেখেছেন। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে- বেগম জিয়ার মামলায় দুর্নীতির বিচার বা ন্যায়বিচার হয়েছে কিনা। যখন দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার হয় না। যখন দেশের অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেন, বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিচার কেন হচ্ছে না, উনি নিজেই সারপ্রাইজড। কত দুর্নীতিবাজ ফারমার্স ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কারও কোনো বিচার হচ্ছে না। কারও কোনো শাস্তি হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কেউ গ্রেপ্তারও হচ্ছে না।

একটা দেশে দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই অসংখ্য স্ক্যান্ডালের বিবরণ। সরকারি দলের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এরকম দুর্নীতির একটা মহৌৎসবের মধ্যে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের দায়ের করা একটি মামলার বিচার করলেন তখন সাধারণ মানুষের কাছে কি মনে হবে এটা ন্যায়বিচার? বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, মামলা চলাকালীন বলা হয়েছে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। অসংখ্যবার বলা হয়েছে। এ রকম একটা বিষয় যখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শক্তিশালী লোকজন অসংখ্যবার বলতে থাকেন এটা কি বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না? তখন বিচারক যিনি ছিলেন এ ব্যাপারে একবারও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে ওয়ার্নিং দেননি কেন? আবার যেটা বলা হচ্ছে সেটাও রং বক্তব্য। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ। উনি এতিমের টাকা খেয়েছেন পুরো মামলার কোথাও বলা হয়নি। একটা টাকা খাওয়া হয়নি। বরং টাকাটা তিনগুণ হয়েছে। উনি যে কারণে শাস্তি পাচ্ছেন তা হচ্ছে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ। ট্রাস্টের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করেননি। এটা অভিযোগ। বেগম খালেদা জিয়া একটা টাকাও খাননি।

অথচ রায়ের আগেই সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন খালেদাকে জেলে যেতে হবে তখন বিচারক কোনো ওয়ার্নিং দেননি। এত বড় সেনসিটিভ মামলা অথচ উনি একবারও বলেননি এটা বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সামিল। তখন মানুষের মনে সন্দেহ জাগতে পারে আসলে এটা শুদ্ধ বিচারপক্রিয়া হয়েছে কিনা। আরেকটা বিষয় হচ্ছে কাশিমপুরে ভিআইপি বন্দির সুন্দরভাবে রাখার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার রায়ের তিনদিন আগে সরকার জেল প্রস্তুত করল কোন কনফিডেন্সে। এসব ঘটনার কারণে মানুষের মনে খুব গভীর প্রশ্ন জন্মায়। এখানে আসামির বেনিফিট অব ডাউট পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মার্জিনালাইজ করার চেষ্টা করা হয় তখন বিচারিক আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করার ঘটনা বাংলাদেশে অসংখ্যবার ঘটেছে। এমনকি পাকিস্তানেও ঘটেছে। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উনি দুর্নীতির মামলায় দুইবছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন ট্রায়াল কোর্ট থেকে। কিন্তু যখন উনি হাইকোর্টে গেছেন তখন দেখা গেছে ট্রায়াল কোর্ট যেভাবে রায় দেয়ার কথা ছিল সেভাবে রায় দেয়নি। সুতরাং আমাদের এ রকম ঐতিহ্য আছে। দেশে বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার প্রচুর সুযোগ আছে। প্রধান বিচারপতির রায় পছন্দ হয়নি বলে আওয়ামী লীগের নেতারা এমনকি আইনমন্ত্রী তার বাসায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারেক রহমানকে খালাস দেয়ায় বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। নিম্ন আদালতের শৃঙ্খলাবিধি যেন উচ্চ আদালতের সঙ্গে পরামর্শ করে করা হয় এটা নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরকারের প্রচণ্ড টানাপড়েন ছিল।

সাবেক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর যে শৃঙ্খলাবিধি করা হয়েছে সেখানে নিম্ন আদালতে হস্তক্ষেপ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। সমস্ত কিছু মিলিয়ে এটা কি সত্যি তাই এখানে ন্যায় বিচার করা হয়েছে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বীকে মার্জিনালাইজ করার জন্য, নির্বাচনে অনায়াসে নির্বিঘ্নে জিতে আসার জন্য করা হয়েছে। মানুষের মনে প্রশ্ন থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, বেগম জিয়া একটি বড় দলের নেত্রী। তার রায়ে দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা বিচারিক আদালতের রায়। এরপরও উচ্চ আদালতের অনেকগুলো ধাপ বাকি আছে। সুতরাং এই রায়কে টার্নিং পয়েন্ট বলা ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, এ রকম রায়ের জন্য সরকার পক্ষ যেমন প্রস্তুত ছিল, বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপিও প্রস্তুত ছিল। যে কারণে বেগম জিয়া তার স্যুটকেসে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। বিএনপি’র নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। এবারের নির্বাহী কমিটির সভায় তারা দাবি তুলেছে নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। যা দীর্ঘ চল্লিশ বছর থেকে ছিল। দ্বিতীয় ছিল ইভিএম নিয়ে যেটা এবার হচ্ছেনা। তিন নম্বর ছিল সংসদ ভেঙে নির্বাচন করা। আমার মনে হচ্ছে সরকার সংসদ ভেঙে দিয়েই নির্বাচন করবে। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ এমপিই সরকারদলীয়। তারা অনেকেই পরেরবার অপকর্মের কারণে মনোনয়ন পাবেন না। এ রকম ১০০ লোক বাদ পড়তে পারেন। তাদের বাদ দিয়ে নতুন লোককে নমিনেশন দিলে সেখানে বহাল থাকা এমপি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বসে থাকলে ঝামেলা সৃষ্টি হবে। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ এই ভুল করবে না। পার্লামেন্ট রেখে আওয়ামী লীগেরই নির্বাচন করা সম্ভব না। প্রশাসনের দলীয়করণ অর্থাৎ প্রশাসনে আওয়ামী লীগের লোকজন ঢুকে পড়েছে।

আরেকটা বড় বিষয় এসেছে বিএনপি’র পক্ষ থেকে, প্রশাসন, সেনাবাহিনী সবাই তাদের পক্ষে আছে। সহায়ক সরকারকে সহযোগিতা করবে প্রশাসন। তাই প্রশাসনে বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যে রকম একটা আশঙ্কা ছিল দেশে বিরাট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সে রকম কিছু হয়নি। বিএনপি নেত্রী যেমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবেই তারা আন্দোলন করছেন। ড. মীজানুর রহমান আরও বলেন, এই পারসেপশনও আছে যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির যদি বিচার হতে পারে তবে অন্যান্য দুর্নীতিবাজদেরও বিচার হবে। এ সময় ড. আসিফ নজরুল বলেন, সিপিবি-বাসদ বিবৃতি দিয়েছে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফল ঘটেছে। মীজানুর রহমান বলেন, সিপিবি বাসদের পারসেপশন .০০১ শতাংশ মানুষের পারসেপশন। জনগণের পারসেপশন না। আসিফ নজরুল বলেন, রায়ের দিন পুলিশ বলেছে রায়ের দিন রাজধানীতে কাউকে কোনো সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। তারপর দেখা গেল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাপিয়ে বেড়ায় পুলিশের সামনে। এরকম অনেক ছবি ছাপা হয়েছে পত্রিকার পাতায়। পুলিশ বিএনপিকে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে করেনি। আপনারা জনগণের পারসেপশন বুঝবেন কিভাবে? জনগণকে তো রাস্তায় নামতেই দেন না। বিএনপি নেতাকর্মীরা অনশন করেছে। কিন্তু অনশন কর্মসূচি ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে চারটার পরিবর্তে একটার সময় ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশ কি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র হয়েছে? জনগণের

প্রকৃত মনোভাব কি জনগণকে অংশগ্রহণ করতে দিলে বোঝা যেত। কিন্তু পুলিশ জনগণকে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না। মীজানুর রহমান বলেন, তারা জনগণের অংশ না। তারা বিএনপি নেতাকর্মী। এরকম তো হয়নি যে খালেদার রায়ের পর উত্তাল হয়েছে দেশ। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিটা পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হচ্ছে। সবাই নির্বিকার। দায় তো কেউ নিচ্ছে না। এ সময় প্রশ্ন ফাঁস প্রসঙ্গে মীজানুর রহমান বলেন, দায় অবশ্যই নিতে হবে। এই মোবাইল ফোন যদি আজ থেকে একশত বছর আগে আসতো তবে একই ঘটনা ঘটতো। এ সময় আসিফ নজরুর বলেন, এই ইস্যুতে ডিফেন্ড করবেন না। জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ সময় মীজানুর রহমান বলেন, জাতি ধ্বংসের জন্য অভিভাবক দায়ী। মূল্যবোধ রক্ষা করার দায়িত্ব শিক্ষক-অভিভাবক সবার। মূল্যবোধ তো আকাশ থেকে আসবে না। আমাদের পদ্ধতিগত সমস্যা আছে। ফাঁস হচ্ছে বেশি। বর্ণনামূলক প্রশ্ন কিন্তু সেভাবে ফাঁস হচ্ছে না। আসিফ নজরুল বলেন, অভিভাবকদের দোষ এক আনা হলে শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের দোষ হচ্ছে পনেরো আনা।

বেগম জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মানুষের ন্যায় বিচাররের একটা প্রত্যাশা থাকে উচ্চ আদালত থেকে। বেগম জিয়া হয়তো জামিন পাবেন। উনার মামলার রায়টা হয়তো স্থগিত হতে পারে। কিন্তু সরকার যখন একটার পর একটা মামলা রিভাইভ করতে থাকে। শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয় ওনার মতো নেত্রীকে। তখন মনে হয় ওনাকে নির্বাচনের আগে পর্যন্ত যতটা জেলের ভেতরে রাখা যায় সে চেষ্টা করবে। সরকার যে দিনের পর দিন মানুষকে জেলের ভেতরে রাখতে পারে তার বিভিন্ন উদাহরণ বিএনপি’র অন্যান্য নেতাদের ক্ষেত্রে দেখেছি। আমার ধারণা সরকার ফেয়ার কম্পিটিশনকে ভয় পায়। তারা মনে করে বিএনপি যদি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে কম্পিটিশন করে তাহলে তাদের জন্য জেতা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে বেগম জিয়ার মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা।

জিল্লুর রহমান বলেন, বিএনপি তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে কিনা? এ প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, আমার ধারণা বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তারেক রহমান বা বেগম জিয়া না থাকা অবস্থাতেও যদি বিএনপি একটা ম্যাচিউরড দল হয় তারা দলকে একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রেখে নির্বাচনে যাবে। বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। তারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্লাস পয়েন্ট হবে। নির্বাচন আগের চেয়ে অনেক অনিশ্চিত হয়েছে। বিএনপি’র মধ্যে একটা অংশ থাকতে পারে প্রচণ্ড ইমোশনাল। কারাগারে বেগম জিয়ার প্রতি যে ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছে আমার অবাক লাগে। শেখ হাসিনার যদি এই পরিণতি হতো আমি অবশ্যই রিঅ্যাক্ট করতাম। উনাকে যখন দেশে আসতে দেয়া হয়নি তখন প্রথম আলোতে লিখেছিলাম। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় লিখেছিলাম। উনাদের যখন গ্রেপ্তার করা হয় লিখেছিলাম। ওনারা আমাদের নেত্রী। আমরা ওনাদের চরম দুরবস্থা দেখতে প্রস্তুত না। আমি কখনই চাই না শেখ হাসিনা জেলখানায় প্রাইভেট চিকিৎসক তাকে দেখতে যাবে কিন্তু দেখতে পাবে না। কখনই চাইব না শেখ হাসিনাকে সাধারণ কয়েদির খাবার বা সাধারণ কয়েদির ড্রেস সরবরাহ করা হবে। খালেদা জিয়ার প্রতি যা করা হচ্ছে আমি অবাক। অং সান সু চিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ রেখেছিল। হাসিনা-খালেদাকেও ওয়ান-ইলেভেনের সময় আটক রাখা হয়েছিল। তখন ওনাদের প্রতি সম্ভ্রমবোধ দেখানো হয়েছে।

তাহলে ওনারা নিজেদের কেন দেখাবেন না? এইটুক সম্ভ্রমবোধ যদি রাজনীতি থেকে উঠে যায়। আমরা বঙ্গবন্ধুর আমলে দেখেছি উনি বাংলাদেশ স্বাধীন করার পর খান এ সবুরের মতো স্বাধীনতাবিরোধীর প্রতি কি আচরণ করেছিলেন? আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর এ উদারতার কথা জানি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন একটা জায়গায় গেছে সেখানে একজনকে জেলখানায় দিয়ে সন্তুষ্ট না। জেলখানায় যতটুকু শারীরিক, মানসিক পীড়ন করা যায় সেটার ব্যবস্থা যদি রাখা হয় তবে তা হতাশাজনক। মীজানুর রহমান বলেন, অবশ্যই রাজনীতিবিদ যারা জেলে যাবেন তাদের প্রতি সম্মানবোধ থাকা দরকার। তবে জেল কোড আছে, আইন কানুন আছে। আমি মনে করি একজন কয়েদিকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এরশাদ সাহেব কিন্তু জেলে থেকে পাঁচটি আসনে জিতে গেছেন। উনারা সিমপ্যাথিটাকে কতটুকু কাজে লাগাবেন? তিনি আরও বলেন, জেলে ঢুকানো তো সামান্য ব্যাপার। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে পুরো দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা তো সরকারের উচ্চপদস্থদের জানা ছিল, কারা কারা জড়িত ছিল। আমাদের এই ঘটনাগুলোর কথাও মনে রাখতে হবে। এটারও রায় হবে। আসিফ নজরুল বলেন, একুশে আগস্টের ঘটনার মতো ঘটনা পনেরোই আগস্টের পর আর ঘটেনি। এটা বর্বরতম ঘটনা। আমরা এখন এটা বলছি যে, বেগম জিয়ার প্রতি সম্ভ্রমবোধ দেখানো উচিত। তার মানে এটা না বেগম জিয়া শেখ হাসিনার প্রতি সম্ভ্রমবোধ দেখিয়েছেন। জীবনের অধিকারের প্রতিই তো শ্রদ্ধাবোধ দেখাননি। আমার মনে হয় বাংলাদেশের সমস্ত প্রগতি, অগ্রগতি নির্ভর করে দুইটা দলের ভারসাম্যমূলক রাজনীতির ওপর। দুইটা দলই জনসমর্থিত দল। দুই দলের নেত্রী ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা নেত্রী না। ওনারা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নেত্রী। আমাদের চাওয়া থাকবে দুই দলের মধ্যে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ