প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জটিলতা কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতুর কাজ

ডেস্ক রিপোর্ট : গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে প্রথম স্প্যান ওঠার পরের মাস অক্টোবরেই দ্বিতীয় স্প্যান ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় তখন ওঠেনি দ্বিতীয় স্প্যানটি। একদিকে নির্দিষ্ট সময়ে পরবর্তী স্প্যান না ওঠা, অন্যদিকে প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তে নদী শাসন জটিলতা ছিল। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে ছিল ১৪টি পিলারের নকশা জটিলতাও। এসব কারণেই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময় নিয়ে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রথম স্প্যান বসানোর প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি সেতুর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর আগে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়েছিল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনটি পিলারের ওপর দু’টি স্প্যান বসানোর পর পদ্মা নদীর মাটির স্তরের ভিন্নতার কারণে সেতুর ১৪টি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা যাচ্ছিল না। তবে সে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার মাওয়া প্রান্তের ১৪টি পিলারের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নতুন নকশা দেওয়া হয়েছে। এপ্রিলেই এসব পিলারের পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে।

সেতু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পুরো সেতুতে মোট ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এর মধ্যে ১৪টি পিলারের স্থানে শক্ত মাটির পরিবর্তে নরম মাটির সন্ধান মেলে। এতে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিলার অর্থাৎ এই ১৪টি পিলারের নকশা করা সম্ভব হয়নি। এতে ঠিক সময়ে সেতুর কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। নকশা অনুযায়ী এই ১৪টি পিলারের পাইলের সংখ্যা ৮৪।

তবে এই ১৪টি পিলারের নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় সে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখন কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। জটিলতা কেটে গেছে। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়েই কাজ শেষ হবে এ প্রকল্পের। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ তিনি জানান, ‘পিলারের জন্য পাইল তৈরি করা হচ্ছে ইস্পাতের। এসব ইস্পাতের পাইল মাটির নিচে ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার পর্যন্ত গভীরে বসানো হচ্ছে। তবে যেহেতু ১৪টি পিলারের পাইল বসানোর সময় মাটির স্তরে কাদামাটি পাওয়া যায়। এই পিলারগুলোর নম্বর হলো ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫। সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই ইউকে লিমিটেড। অন্য পিলারগুলোর জন্য প্রতিটিতে ৬টি করে পাইল থাকলেও এই ১৪টি পিলারের জন্য প্রতিটিতে ৭টি করে পাইল বসানো হবে।’

পদ্মা সেতুর ১৪টি পিলারের নকশা পরিবর্তন করা হলেও প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। থেমে ছিল না প্রকল্পের কাজ। ঠিকাদারেরা ৩১ মার্চ পর্যন্ত অন্যান্য পিলারের পাইল বসানোর কাজে সম্পৃক্ত থাকবেন। তাই তারা এপ্রিল থেকে নতুন পিলারের পাইল বসানোর কাজ শুরু করতে চান। তবে মার্চের শেষ দিকেই সংশ্লিষ্টদের নিশ্চিত করতে হবে পাইলগুলোর কোনটি কত গভীরে নিতে হবে। তবে পাইলের সংখ্যা বাড়লে গভীরতা ১২৮ মিটার থেকে কিছুটা কমে আসবে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পদ্মা আমাজান নদীর চেয়েও খরস্রোতা। তাই সংশ্লিষ্টরা খুব স্থিরভাবে কাজ করছে। এটি তাড়াহুড়া করার বিষয় নয়। তবে আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সরকার ও সেতু সংশ্লিষ্টরা সেভাবেই কাজ করছেন।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা নদী বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে মাদারীপুর জেলার চর জানাজাতের দিকে বয়ে যাচ্ছে। মাওয়ার দিকে চর পড়লে ভবিষ্যতে পদ্মা তার দিক পরিবর্তন করতে পারে। দিক পরিবর্তনের সঙ্গে মাটির স্তরেরও পরিবর্তন ঘটতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পদ্মার ওপর পিলারসহ সেতুর কাঠামোর নকশা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ করে প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যয় আরও ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত