প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়ানডে ম্যাচ, ওয়ানডে ভালোবাসা ও চিরন্তন ভালোবাসা

সৈয়দ রশিদ আলম : ঢাকার মিরপুরের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচ খেলায় যত দর্শক হন তার চাইতে অন্তত ৫০ ভাগ বেশি দর্শক ওয়ানডে ম্যাচে উপস্থিত হয়ে যান। সবাই চান এই ওয়ানডে ম্যাচে ফলাফল দেখতে। সবাই জানেন একটি দল জিতবে এবং একটি দল হারবে। কারণ, এটি ওয়ানডে ম্যাচ। টেষ্ট ম্যাচের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোন সুযোগ নেই। তেমনি ওয়ানডে ভালোবাসা যা ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন দিবস’ হিসেবে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে পালন করা হলো, তার ফলাফল অনেকটা ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচের মতো। ভ্যালেন্টাইন দিবসে, ভালোবাসার জয় হবে অথবা ভালোবাসার পরাজয় হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে ভালোবাসা কি জয়-পরাজয়ের জন্য তৈরি হয়েছে?

পরম করুণাময় মানুষের অন্তরে এক চিরন্তন ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন। কন্যা সন্তান বাবাকে বেশি ভালোবাসে, পুত্র সন্তান আবার মাকে বেশি ভালোবাসে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা এটাও ¯্রষ্টার পক্ষ থেকে আর্শিবাদ। পৃথিবীর সকল প্রেমিক মহাপুরুষরা প্রতি মুহুর্তে ¯্রষ্টার ভালোবাসায় ডুবে থাকতেন। আর ¯্রষ্টা এই প্রেমিক হৃদয়কে শান্ত করার জন্য অনবরত ভালোবাসা ঢেলে দিতেন। যেমন- হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহ.) তার ‘প্রেমিকের শাস্তি’ পুস্তুকে বলেছেন, হে প্রভু নিজামকে তুমি পরিত্যাগ করো না, নিজামকে যদি তুমি পরিত্যাগ করেই ফেলো তাহলে নিজাম তোমাকে এক মুহুর্তের জন্য পরিত্যাগ করতে পারবে না, কারণ নিজামের অন্তরে তুমি চিরকালের জন্য ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছো।

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার থেকে নিয়ে সমস্ত বিশ্বসাহিত্যের কালজয়ী লেখক সাহিত্যিকরা, কবিরা, গজল লেখকরা চিরন্তন ভালোবাসার কথাই বর্ণনা করেছেন। তারা কেউ একদিনের ভালোবাসার প্রত্যাশা করেন নি। তারা জানতেন ভালোবাসা দেওয়া মানে, ভালোবাসা ফেরত পাওয়া নয়। তারা এটাও জানতেন তার প্রেমিক হৃদয়ে যাকে তিনি চিরদিনের জন্য বসিয়ে রেখেছেন খুব শীঘ্রই তার প্রিয়তমা তাকে ভুলে যাবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু তারপরও প্রেমিক হৃদয়ে তার প্রেমাস্পদকে হৃদয়ে প্রতি মুহুর্তে ভালোলাগার ও ভালোবাসার মানুষকে চিরস্থায়ীভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। প্রেমিক হৃদয় যাকে সে ভালোবেসেছে সে তাকে খুব শীঘ্রই তার ভেতর না পাওয়ার যন্ত্রনা, হাহাকার তৈরি করে দিবে। কিন্তু তারপরও সে জীবনে একবার হলেও কোন একজনকে ভালোবেসে ফেলবে। যাকে একবার ভালোবেসে ফেলবে কোনদিনই তাকে অন্তর থেকে মুছে ফেলতে পারবে না, এটাই ভালোবাসা। এই ভালোবাসা চিরন্তন।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যারা চিরন্তন ভালোবাসায় নিজেদের সমর্পিত করেছেন, তাদের ভালোবাসার জয় হবেই হবে। ভালোবাসার জয় মানে প্রেমিক হৃদয়ের জয় নয়, পরাজয়ের ভিতর দিয়েও সে যে ভালোবাসা তার ভিতর প্রবেশ করেছে। এটা কোনদিনই অন্তর থেকে মুছে যাবে না। মুছে যাওয়ার বিধান রাখা হয়নি। কারণ এটাই ভালোবাসা। বিশ্বের সকল পরাজিত ও জয়ী প্রেমিক হৃদয়কে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। প্রতি মুহুর্তে ভালোবাসারই জয় হোক। মির্জা গালিব যথার্থই বলেছেন- বর্ষায় যেভাবে বৃষ্টির বর্ষণ হতে থাকে, প্রেমিক হৃদয়ের চোখ থেকে ভালো লাগার, ভালোবাসার মানুষের জন্য অশ্রুবর্ষণ হতে থাকবে। এটাই ভালোবাসা।

লেখক: গবেষক/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত