প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমাদের দেশের গরীব মানুষের মতো শ্রমিক মৌমাছিরাও বোকা: মতিয়া চৌধুরী

মতিনুজ্জামান মিটু : আমাদের দেশের শ্রমিকের মতো, আমাদের দেশের গরীব মানুষের মতো শ্রমিক মৌমাছিরাও বোকা বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। রোববার রাজধানীর ফার্মগেটের আ কা মু গিয়াস উদ্দীন মিল্কী অডিটরিয়ামে দ্বিতীয়বারের মৌমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে মৌ চাষ সম্প্রসারণ, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। দু’দিনের এ মেলা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেমিনার আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, নিজেরা কম খেয়ে বোকা শ্রমিক মৌমাছিরা ফুলের মধু সংগ্রহ এবং পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। সব শ্রেণী পেশা ও বয়সের মানুষই মধু খায়। মধু খেয়ে মানুষ নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে। আগে শিশুর জন্মের সময় প্রথমেই মুখে মধু দেওয়া হতো। এখন ডাক্তারা শিশুর গালে মধু দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু কেন এই নিষেধাজ্ঞা তা আমার বোধে আসেনা। আমাদের দাদি, নানি ও মায়েরা মুখে মধু নিয়ে জন্মেছে। তাদের কিছু হয়নি। এসব বিষয়ে দেশে একধরনের ফতোয়া চলে। একসময়ে বলা হয়েছিল খেসাড়ির ডাল খেলে ল্যাথারিজম হবে। বলা হয়েছে সরিষার তেল খেলে শরীর ভাল থাকবেনা। যদি খেসাড়ির ডাল খেয়ে কেউ মারা যেত তাহলে চাপাইনবাবগঞ্জে মানুষ থাকতো না।

রানি সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তাদের পছন্দের পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, তাদের রানি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন নাকি সবঠিক ছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী রানি না, উনি সাধারণ মানুষের বোন। তিনি বলেন, আমি বিদেশ থেকে নতুন নতুন প্রজাতি আনার বিপক্ষে নই। তবে দেশি মৌমাছি নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। কারণ এরা বছরের পর বছর নানা প্রতিকুলতায় টিকে আছে। দেশী প্রজাতির সঙ্গে বিদেশ থেকে আনা মৌমাছির ক্রস করে নতুন জাত উদ্ভাবন করা যেতে পারে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দিন দিন পানির লেয়ার নীচেয় নামছে। বোরো উৎপাদনে পানির খরচও বেশি। এক কেজি ধান উৎপাদনে পানি লাগে ৩ হাজার ২শ লিটার। আমাদের নাচারাল ধান আউশ আমনের দিকে জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, দানাদার খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঝেমধ্যে আমাদের দানাদার খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। আর এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে গম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ বলেন, মৌচাষে আগ্রহীদের নাম নিবন্ধন করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কাঁচা মধুকে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানির আহবান জানান তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের প্রফেসর সাখাওয়াৎ হোসেন। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিসিকের মৌ চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খোন্দকার আমিনুজ্জামান ও এগ্রো প্রসেসিং এসসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএই’র হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান।

‘ফসলের মাঠে মৌ পালন, অর্থ পুষ্টি বাড়বে ফলন’ প্রতিপাদ্যের এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের ৬০টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলায় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্ব সাধারণের জন্য খোলা থাকছে এ মেলা। মেলায় এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা সরিষা, ধনিয়া, তিল, কালিজিরা, লিচু এসব ফসলে মৌ-চাষ, মধু আহরন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারছেন দর্শনার্থীরা। মেলা উপলক্ষ্যে এদিন সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বের হয় বর্নাঢ্য র‌্যালি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত