প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

সারোয়ার জাহান: দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বিচারক তাঁর বয়স, সামাজিক মর্যাদা, শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় অপরাধের তুলনায় সাজা কম দিয়েছেন।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন এবং দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটি।

দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিবিষয়ক সভা হলেও আলোচনা বিএনপি, খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে দু-একজন আলোচক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন।

আইনমন্ত্রী বিএনপির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি আগেই বুঝতে পেরেছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাঁচার উপায় নেই। তাঁদের সাজা হবে বুঝতে পেরেই গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনেছে। খালেদা জিয়ার সাজার মধ্য দিয়ে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

খালেদা জিয়ার মামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, এ মামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যেসব জঞ্জালের বিচার হওয়া উচিত, তা–ই নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরেছেন, এখন বলছেন রাজনৈতিক মামলা। এটি ঠুনকো এক্সকিউজ। এটি ছাড়া তাদের বলার কিছু নেই।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিএনপির উদ্দেশে আরো বলেন, ‘রায়ের কপি তো আপনারা পাবেন। কিন্তু এতিমের যে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মেরে দিলেন তা কবে ফেরত দেবেন?’

মন্ত্রী বলেন, ‘রায়ের কপি দেবেন আদালত। প্রতিটি মামলায় দুটি পক্ষ থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। কিন্তু রায়ের কপি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও পক্ষ নেই । এই রায়ের পাতার সংখ্যা ৬৩২। দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি, রায়ের কপি পেতে হলে রায়টা কত বড় তার ওপর নির্ভর করে। শুধু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায়ের কপি হাতে ধরিয়ে দেওয়া জরুরি। তারাই একমাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার দাবিদার। অন্যান্য ক্ষেত্রে রায় লিখতে যে সময়টুকু প্রয়োজন তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। সরকারের এখানে কোনও হাত নেই।’

বিএনপির গণস্বাক্ষর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে তারা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন। আমি যতদূর জানি, সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। গণস্বাক্ষরের নামে তারা কার সম্পত্তি লিখে নেয় তা আপনারা বুঝে দেইখেন। সাদা কাগজে সই দিয়েন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি দল যারা বাংলাদেশে বিশ্বাসী না, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। তারা ক্ষমতায় থেকে কি না করেছে। তাদের আমলে বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা চুরি করেছেন। তার জন্য মামলা করেছে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। এই মামলা কোনও রাজনৈতিক মামলা না। সেই আমলে আড়াই কোটি টাকার বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। এতিমদের টাকার জন্য সাজা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক বয়স, সামাজিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কনসিডারেশনে ৫ বছর সাজা দিয়েছেন। যদিও আরও বেশি দেওয়া উচিত ছিল।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী, সাংবাদিক স্বদেশ রায়, মোজাম্মেল বাবু, মঞ্জুরুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত