প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাটোরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সমৃদ্ধির জানান দিচ্ছে

তাপস কুমার, নাটোর: নাটোরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সমৃদ্ধির জানান দিচ্ছে। উপকারভোগীদের আর্থিক বুনিয়াদ সুসংহত হয়েছে। তাদের বাড়িতে যেন দুধে-ভাতে বাঙালি আর মাছে-ভাতে বাঙালির পরিবেশ।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তহবিল গঠন ও পারিবারিক খামারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন।

জানা যায়, এই প্রকল্পে গঠিত সমিতির প্রত্যেক সদস্য মাসে দুইশত টাকা সঞ্চয় জমা দিলে এর বিপরীতে সরকার সমপরিমাণ বোনাস দেন এবং একই সাথে সরকার বাৎসরিক দেড় লাখ টাকার আবর্তক তহবিল প্রদান করে। এভাবে দুই বছরে সমিতির তহবিল প্রায় নয় লাখ টাকায় উন্নীত হয় এবং তহবিলের মালিকানা স্থায়ীভাবে সমিতির সদস্যদের। সদস্যরা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আয়বর্ধক কর্মকান্ডে বিনিয়োগ করেন। নিয়মিত উঠান বৈঠক করে সাপ্তাহিক কিস্তিতে নয় বরং সুবিধাজনক সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন সদস্যরা। বেশি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হলে সমিতি থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ঋণ নেয়া যায়। ইউনিয়নের ওয়ার্ড বা গ্রাম পর্যায়ে ৪০ জন মহিলা এবং ২০ জন পুরুষকে নিয়ে এই সমিতি গঠন করা হয়।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নাটোর জেলা সমন্বয়কারীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারী মাস পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৫৬টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এসব সমিতির ৩৬ হাজার ২২০ জন সদস্য প্রায় ১৫ কোটি চার লাখ টাকার সঞ্চয় জমা করেছেন। এই সঞ্চয়ের বিপরীতে সরকার সদস্য পর্যায়ে প্রায় ১২ কোটি এবং সমিতি পর্যায়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছে। সকল সমিতির সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষিকুল-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার আব্দুর রাজ্জাক একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে গত ঈদের আগে দুইটি গরু কিনে মোটাতাজাকরণ করেছিলেন। গরু বিক্রির পর সংগৃহিত অর্থে আরো তিনটি গরু কিনেছেন, জমিতে রসুন চাষ করেছেন,বসতবাড়ির আঙ্গিনায় মাচা করে উৎপাদিত সীম বাজারে বিক্রি করছেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অল্প পুঁজি বিনিয়োগ ক্ষেত্র সম্পর্কে আমার ধারণা হয়েছে। এখন আমার অর্থ সংকট নেই, কর্মক্ষেত্রেরও সংকট নেই।

একই এলাকার জমেলা বেগমের বয়লার মুরগী আর হাঁসের খামার করেছেন। জমেলা বেগম বলেন, সমিতির ঋণে খামার করে বাড়িতে সমৃদ্ধি এসেছে। পরিবারে আগে অভার ছিল, সমিতি করে অভাব দূর হয়েছে বলে জানালেন কমেলা খাতুন।

খাজুরা ইউনিয়নের একডালা কুচকুড়ি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি রায়হান আলী ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এক দফায় দেশীয় বর্ষালী মাছ বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। সভাপতি রায়হান আরো বলেন, সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৩৭ এবং কর্ম ব্যস্ততার মাধ্যমে তারা সমৃদ্ধির পথে যাচ্ছেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নাটোর সদর উপজেলার সমন্বয়কারী মো. মাজেদুর রহমান জানান, বিদ্যমান সমিতিগুলোর মনিটরিংসহ প্রকল্পের পরিধি বাড়াতে কাজ করছি আমরা।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী ও বিআরডিবি’র ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম মিঞা বলেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠির পারিবারিক পর্যায়ের দারিদ্র্যতা নির্মূল হবে। তৃণমূল পর্যায়ের দারিদ্রতা দূর হলে বাংলাদেশ খুব সহজেই পোঁছে যাবে সমৃদ্ধির সোপানে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত