প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শহীদ জোহা দিবসকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি

মাহফুজ উদ্দিন খান: উত্তাল ১৯৬৯ সালের প্রতিটি দিন বাঙালির স্মৃতিপটে অম্লান হয়ে থাকবে। ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাকে। সেদিন শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে এক অনন্য নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে রাবি কর্তৃপক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ ড. জোহা দিবস পালন করে আসছে। কিন্তু জাতীয়ভাবে এখনও এ দিবসের স্বীকৃতি মেলেনি।

এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী মুহম্মদ আবদুল খালেক। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা ও আমি’ এবং ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা’ নামে দুটি বইও রচনা করেছেন। বই দুটিতে ওইদিনের ঘটনা উল্লেখ করে লিখেছেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্ররা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বের হলে উপাচার্যের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ফেলে ছুটে যান ড. জোহা। ছাত্রদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনেন। তাতেই বিপত্তি ঘটে। প্রশাসন মনে করে, যে ব্যক্তি এক ডাকে ফেরাতে পারে সেই হয়তো ছাত্রদের রাস্তায় নামিয়েছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সেদিন তার কথা কাটাকাটিও হয়। সেই মিছিলে আহত ছাত্রদের তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেইদিনই রাত ১০টায় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভায় ড. জোহা বলেন, ‘শুধু ছাত্ররা নয়,আমরা সবাই মিলে এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো, মরতে যদি হয় আমরা সবাই মরবো।’

পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে রাবি প্রধান ফটকের কাছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এসময় সেনারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে উদ্যত হলে সে সময়ের প্রক্টর ড. জোহা বলেন, ‘প্লিজ, ডোন্ট ফায়ার। আমার ছাত্ররা এখনই চলে যাবে এখান থেকে।’ অনুরোধ উপেক্ষা করে লেফটেন্যান্ট বলেন, ‘ফায়ার অ্যান্ড কিল দেম’। গুলি চালাতে গেলে ড. জোহা নিজে এগিয়ে যান। তখন তার ওপরই গুলি চালায় সেনারা।

একই রকম বর্ণনা পাওয়া যায় শহীদ শিক্ষক ড.শামসুজ্জোহাকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘দাবানল’, রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ বকুলের পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া, আনিসুর রহমান সম্পাদিত ‘তিমির হননে’ শীর্ষক প্রকাশনায় পাওয়া যায় শিক্ষক ড. জোহাকে হত্যার মর্মান্তিক বর্ণনা।

১৯৬৯ সালের ওই মর্মান্তি ঘটনার পরের বছর থেকে দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। এরপর দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু জাতীয়ভাবে ড. জোহার এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি মেলেনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা করে আসছি শহীদ ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যার দিবসটির স্বীকৃতি আদায়ের জন্য। ২০১৬ সালে ড. জোহা স্মারক বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তিনি তখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি। তবে আমরা এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত