প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভয় থাকতে হবে

রবিউল আলম : আমি কোনো আইন পেশায় জড়িত না, না কোনো প্রথম সারির লেখক। একান্তই সমাজ, সংসার ও রাজনৈতিক সচেতনতার পরিবর্তন দেখার জন্য লেখার ইচ্ছা মনে জাগ্রত হয়। যখন শুনতে হয়- স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, জাতির জনককে বিপথগামী সৈনিকদের হাতে জীবন দিতে হয়, বাংলার মানুষকে হ্যাঁ-না ভোট দিতে হয়, বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশি হয়ে যায়, বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের কোর্ট মার্শাল হয়, মিরজাফর খোন্দকার মোস্তাক রাষ্ট্রপতির আসন গ্রহণ করে, ৭১ -এর রাজাকার নিজামী, সাইদি, মুজাহিদরা স্বাধীনতার লাল পতাকা নিয়ে গাড়িতে চড়ে বেড়ায়, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার সাহস দেখায় তখন একজন আধা-মুক্তিযোদ্ধা হয়ে চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে হয়নি।

উচ্চাশিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও মনের ইচ্ছাকে নাইট স্কুলে সমর্পন করলাম। শুরু হল কলম যুদ্ধ। আধা মুক্তিযোদ্ধা বললাম এ কারনে যে, আমার যুদ্ধের কোনো সার্টিফিকেট নেই। সশস্ত্র যুদ্ধ করার মতো বয়সও ছিল না। বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন যখন রায়ের বাজার হোসেন সাহেবের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন, আমি তখন তাদেরকে বাজার করে, রান্না করে খাইয়েছিলাম। দেশবরেণ্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা করেছি, সে অনেক কথা, পরবর্তীতে অন্য এক নিবন্ধে লেখা যাবে। যে লেখার ইচ্ছা আমার ছিল না, আজ তাই লেখতে হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে।

গত ১৭ অক্টোবর দৈনিক আমাদের অর্থনীতিতে বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার পড়ে ৭টি অভিযোগ সম্পর্কে জানি- অর্থ পাচার ও অনৈতিক কর্মকা-সহ। বিচারপতি মানিক প্রথম থেকেই প্রধান বিচারপতি এস, কে সিনহার অনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। সিনহা স্বঘোষিত শান্তি কমিটির লোক ছিলেন। একথা বারবার বলেছেন। তারপরেও সিনহা প্রধান বিচারপতি হয়েছেন এবং সরকার তাকে এ পদে অধিষ্ঠিত করেছেন, প্রশ্ন হল কেন? আমার মাঝে সবসময় আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভয় থাকে। আস্তা থাকে এ জন্য, জনগণের প্রতিকার চাওয়ার আর অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই বলে।

সমাজের অসহায় নির্যাতিত ও অবহেলিত মানুষগুলো যাবে কোথায়? রাষ্ট্রের অতি ব্যস্ত মন্ত্রী, মেয়র এবং প্রশাসকগণকে শত আবেদন নিবেদন করেও যখন ব্যর্থ, তখন আদালতের কাছেই প্রতিকার চাইতে হবে। ১৭ মাস শত শত অভিযোগ করেছি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে। মানব বন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন, ধর্মঘটসহ অনেক কিছু করেছি। অবশেষে আদালতে রিট আবেদন করা হয়, বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক এর বেঞ্চ মাংস ব্যবসায়ীদের আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ দেন। ভয় এ জন্য যে, আইন যেভাবেই চলুক, ভয় না থাকলে আমি নিজেকে সংযত করতে পারবো না।

জনগণের কাছে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে সমাজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আমাদের আবারও আদি যুগে ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গারা আজ হারে হারে টের পাচ্ছে আইনের শাসন নেই বলে। আবারও বলছি আইন ও বিচার আমি বুঝি না, তবে ভয় ও আস্থা রাখতে হয় দেশ, জাতি ও নিজের স্বার্থে। প্রধান বিচারপতির বিচার করতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আর কত বিতর্ক করা হবে। কিছুদিন অপেক্ষা করলে বাঙালি জাতি এস কে সিনহকে প্রশ্ন করতে পারবে, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সংগ্রামে দুইজন নেতা নেতৃত্ব দিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলে দুইজন নেতা নেতৃত্ব দেয়? জাতির জনকের একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন না হলে, জাতির জনকতো একাধিক হওয়ার কথা।

আমার বাড়ির পাশে ধানমন্ডি ১৯নং এস কে সিনহার বাড়ি, তিনি রায়ের বাজারে এসে বাজার করতেন, প্রধান বিচারপতি থেকে এস কে সিনহা হলে আবারও হয়তো রায়ের বাজারে বাজার করতে হবে, নাও হতে পারে। বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অভিযোগ, শত শত কোটি টাকা পাচার করা হলে পুরনো বাড়িতে ফেরত নাও আসতে পারে। মনের প্রশ্ন, কতজন নেতাকে নেতৃত্ব দিতে হয় স্বাধীনতার জন্য প্রশ্ন করার ইচ্ছা হয়তো অপূরণ থাকবে। আমিও অনেক কিছু জানি প্রতিবেশী হওয়ার কারণে, কিন্তু লিখব না। আইনের প্রতি, বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা, সম্মান ও ভয় থাকার কারণে। বিশ্বের সব দেশেই আইনের প্রতি ও শ্রদ্ধা জনসাধারণের মাঝে জাগ্রত করার লক্ষ্যে নানা কৌশল গ্রহণ করে।

ট্রাফিক সার্জেন্টদের হলুদ জামা পড়ানো হয়েছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে কালো কাপড়ে, সরকার দেশের স্বার্থে অপরাধী নির্মূল করার পরিবর্তে অপরাধ নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছে এবং লক্ষ্য অর্জনে সফলও হয়েছে। মিয়ানমার মানুষ নির্মূল করে কি অর্জন হয়েছে জানি না, তবে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা না থাকলে আদি যুগে ফিরে যেতে হবে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রাখতে হবে, নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে ও সমাজের স্বার্থে। ভয় ও আস্থা অর্জনে রাষ্ট্রের যে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, এ বিষয়ে আমরা কতজন নাগরিক সচেতন হতে পেরেছি। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কত শত কোটি টাকা ব্যয় করেন, তাও আমরা কতজন নাগরিক জানি। আজ বিচার বিভাগ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করে জনমনে আস্থা ও ভয় নির্মূল করতে পারব, ফিরিয়ে আনতে কি পরিমাণ সময় ও অর্থের ক্ষতি হবে এ বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দাতাদেরকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। তবে মনের কষ্টে একান্ত ইচ্ছা না থাকা সত্বেও বিচারপতির কাছে দুটি প্রশ্ন রেখেই আমার এই লেখা শেখ করতে চাই- মাননীয় প্রধান বিচারপতি দয়া করে বলবেন কি, পৃথিবীর কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে একাধিক নেতা নেতৃত্ব দিয়েছে? কোন দেশের বিচার বিভাগ দুর্নীতি তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে? শত প্রতিকূলতার মাঝেও সরকার বিচার বিভাগের আস্থা ও ভয় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টাকরছেন। চেষ্টা করছেন আপনার সম্মান অক্ষুণœ রাখতে। অতি বিপ্লবী হয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়ে কি প্রমাণ করে গেলেন, অতি শিক্ষা নেই বলে বুঝতে পারছি না। তবে এ কথা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না, যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেলেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি/সম্পাদনা : গাজী খায়রুল আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত