প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত

মুফতী মুজাহিদ সরকার: আমারা মুসলমান, মুসলিম হিসেবে প্রতিনিয়ত বহু ইসলামী নিয়ম-নীতি পালন করে থাকি। যেমন: নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত, দান-সদকা ইত্যাদি। এসব দৈনন্দিনের ইসলামী রীতি-নীতিকে শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদত বলে। আমরা প্রতিদিন ছোট বড় অনেক ইবাদতই করে থাকি। দিনের শুরু থেকে আরম্ভ করে শেষ লগ্ন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ইবাদতে মগ্ন থাকি।

এসব অক্লান্ত শ্রমের মাধ্যমে পালিত ইবাদত দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য এক ও অদ্বিতীয়, তা হল আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জন করা, তার সানিদ্ধতা অর্জন করা, এর ফলে পরকালে অফুরন্ত নেয়ামত ভোগের প্রতিশ্রুত হওয়া। এই উদ্দেশ্যে পৌঁছার জন্য তা একনিষ্ঠভাবে শুধু তার জন্যই হতে হবে। কিঞ্চিত পরিমাণ রিয়া (ছোট শিরক) বা অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকা যাবে না।

এমর্মে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আমি জিনজাতি ও মানবজাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি (আল-কুরআন)
এই আয়াত থেকে প্রতিয়মান হয় যে ইবাদতের ক্ষেত্রে রিয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা রিয়া ইবাদতকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেমন ক্ষুর চুলকে ধ্বংস করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন আমি তোমাদের সম্পর্কে যে বিষয় সর্বাধিক আশঙ্কা করি, তা হচ্ছে ছোট শিরক। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি বলেন: রিয়া। (মুসনদে আহমদ শরীফ)

এই হাদিসটি বায়হাকী শরীফে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহপাক যখন বান্দাদের কর্মের প্রতিদান দিবেন, তখন রিয়াকার লোকদেরকে বলবেন: তোমরা কাজের প্রতিদান নেয়ার জন্য তাদের কাছে যাও, যাদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে কাজ করেছিলে। এরপর দেখ, তাদের কাছে তোমাদের জন্য প্রতিদান আছে কি না।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, আমি সেই আমল থেকে মুক্ত, সে আমলকে খাঁটিভাবে তার জন্যই করে দেই যাকে সে আমার সাথে শরিক করেছিল। (মুসলিম শরীফ)
শিরকের আলোচনা করত: রাসূল (স:) বলেন, পিঁপড়ার নিঃশব্দ গতির মতোই শিরক তোমাদের মধ্যে গোপনে অনুপ্রবেশ করে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে ও পাঠকবৃন্দকে শিরকের মত আত্মব্যাধি থেকে মুক্ত থেকে শিরক মুক্ত ইবাদত করার তৌফিক দান করুন আমীন।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক জামিয়া মাদানিয়া রওজাতুল উলূম কুমিল্লা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত