প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অল্প পুঁজি, বড় স্বপ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : অল্প পুঁজি, বড় স্বপ্ন- এ নিয়ে প্রথমবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ৩০টি প্রকাশনা সংস্থা। সৈয়দ শামসুল হক, শওকত আলী, নির্মলেন্দু গুণের মতো বড় সাহিত্যিকদের পাশাপাশি নতুন এসব প্রকাশনা সংস্থাগুলো প্রকাশ করেছে নবীন লেখকদের বইও। হাজারো স্বপ্ন নিয়ে আসা নতুন প্রকাশনা সংস্থাগুলো মেলার এক কোণে থাকায় কিছুটা হতাশও। তারপরও আশার মশাল নিয়ে এগিয়ে যেতে চান প্রকাশকরা। আর মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সামনের মেলা থেকে নতুন প্রকাশকদের সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

এবারের মেলায় ৩০টি প্রকাশনা সংস্থা প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে। তারা সবাই এক ইউনিট করে বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে- পায়রা প্রকাশ, সপ্তবর্ণ, তিউরি প্রকাশন, গৌরব প্রকাশন, সব্যসাচী, মাতৃভাষা প্রকাশ, নবসাহিত্য প্রকাশনী, উৎস পাবলিশার্স, বাংলালিপি, চিরদিন প্রকাশনী, এক রঙা এক ঘুড়ি প্রকাশনী, বলাকা, কারুবাক, বইবাজার প্রকাশনী, জ্ঞান বিতান প্রকাশনী, নক্ষত্র প্রকাশনী, জেব্রাক্রসিং প্রকাশন, আদিত্য অনিক প্রকাশনী, মানবাধিকার প্রকাশন, য়ারোয়া বুক কর্নার, বাসিয়া প্রকাশনী, প্রিয় বাংলা প্রকাশ, দাঁড়িকমা প্রকাশনী, জলছবি প্রকাশন, অমর প্রকাশনী, ইন্তামিন প্রকাশন, কালো, দ্যু প্রকাশন, আলোকপাত প্রকাশন ও অন্বয় প্রকাশ। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে মেলার পূর্ব অংশে তাদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়; যা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

য়ারোয়া বুক কর্নারের স্বত্বাধিকারী জান্নাতুন নিসা সমকালকে বলেন, সৃজনশীল প্রকাশনা করার ইচ্ছা থেকেই মেলায় অংশ নেওয়া। তবে মেলার বিন্যাসের কারণে কিছুটা মন খারাপ। কারণ, নতুনদের একটি কোনায় রাখা হয়েছে। এর ফলে ভালো বই থাকা সত্ত্বেও পাঠকদের এখানে আনাগোনা কম। বড় প্রকাশকদের সঙ্গে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলে বিক্রি আরও ভালো হতো বলে মনে করেন এ প্রকাশক। তিনি জানান, অর্ধশতাধিক নতুন বই নিয়ে য়ারোয়া মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে মুহম্মদ আকবরের সম্পাদনায় ‘উকিল মুন্সি :প্রামাণ্য পাঠের সন্ধানে’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘বুনোবৃষ্টির গান’, হালিম আজাদের ‘গঙ্গানামা’, শহীদুল্লাহ ফরায়েজীর ‘চন্দ্র সূর্য যতো বড় দুঃখ তার সমান’, ইসহাক খানের ‘যুদ্ধদিনের গল্প’, বাদল চৌধুরীর ‘স্বাপ্নিক অভিযাত্রী :বঙ্গজননী শেখ ফজিলাতুন্নেছা’ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

২৬টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে অন্বয় প্রকাশ। এর স্বত্বাধিকারী শিশুসাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালী সমকালকে বলেন, নতুনদের সবার স্টল একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সবাইকে যদি পেছনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে নতুনদের উঠে আসা কঠিন। তিনি জানান, তার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘হুদা-কথা’, অপু উকিল সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’, ইসরাত জাহান ঊর্মির ‘পুরুষনামা’ ও ইসহাক খানের ‘খুদে টারজান’ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ইন্তামিন প্রকাশন থেকে এসেছে ৫৭টি বই। এর স্বত্বাধিকারী এ এস এম ইউনুছ জানান, শওকত আলীর নতুন উপন্যাস ‘শুধু কাহিনী’, নির্মলেন্দু গুণের ‘নির্বাচিত ৫০ কবিতা’, অসীম সাহার ‘পাঁজর ভাঙার শব্দ’, নূহ-উল-আলম লেনিনের ‘সময়ের কথকতা’, খালেক বিন জয়েনউদ্দীনের ‘ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি’ বইগুলোর বিক্রি ভালো।

দ্যু প্রকাশন থেকে এসেছে ৭৮টি নতুন বই। নানাধর্মী বই নিয়ে মেলায় এসেছে প্রকাশনীটি। এর বিক্রয়কর্মীরা জানান, সবশ্রেণির পাঠকদের জন্যই বই রয়েছে এখানে। যার মধ্যে ‘রুশ দেশের উপকথা’, প্রমা ইসরাতের ‘লাভ-লোকসান’, সত্যেন সেনের ‘আমাদের এই পৃথিবী’, এম এন রায়ের ‘মার্কসবাদ’, আলবার্ট রিস উইলিয়ামসের ‘লেনিন- মানুষটি এবং তাঁর কর্মযজ্ঞ’, হাসান তারেকের সম্পাদনায় ‘শতবর্ষে রুশ বিপ্লব’ বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও লেনিন, চার্লি চ্যাপলিন, গ্যালিলিও ও নিউটনের জীবনীও ভালো চলছে।

৫১টি বই নিয়ে প্রথমবারের মতো মেলায় এসেছে আলোকপাত। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানালেন, এর মধ্যে ড. নেহাল করিমের সম্পাদনায় ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদকে লেখা পত্রাবলি’, সেলিনা হোসেনের পুনর্মুদ্রিত ‘খুন ও ভালোবাসা’, ইন্দু সাহার ‘এক নদী কৃষ্ণচূড়া’ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও সৈয়দ লুৎফুল হকের ‘ড্রইং’ বইটিও চারু শিক্ষার্থীদের নজরে পড়েছে।

ভালো করছে সব্যসাচীও। এর স্বত্বাধিকারী শতাব্দী ভব জানান, তার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ফারিসা মাহমুদের ‘চন্দ্রাহত হাছন’, সাইফুদ্দিন রাজীবের ‘মধ্যরাতের ক্যাফেইন’, রবিশঙ্কর মৈত্রীর ‘প্যারিস থেকে ফেরা না ফেরা’ ও অনুরুপ আইচের ‘আমি তোমায় ভালোবাসি’ বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে প্রকাশনা ব্যবসায় থাকলেও এবারই প্রথমবারের মতো মেলায় স্টল বরাদ্দ পেয়েছে দাঁড়িকমা প্রকাশনী। দেড় শতাধিক বইয়ের মধ্যে জামশেদ নাজিমের ‘একটি গল্পের গল্প’ ও রোহিত হাসান কিসলুর ‘এক যে ছিলো দুষ্টু শিয়াল’ বই দুটির কাটতি বেশি।

তরুণদের এই আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকাশক আহমেদ মাহমুদুল হক। মাওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী বললেন, তরুণরা বড় স্বপ্ন নিয়ে মেলায় আসছে, এটা খুবই ইতিবাচক। তারা ভালো কিছু বই করেছেন, তাও জেনেছি। তাদের জন্য আগাম অভিনন্দন থাকল। স্টল বিন্যাসের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কোণার মধ্যে ফেলে রাখা ঠিক হয়নি, মূলস্রোতে আনতে হবে।

নতুন প্রকাশকদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, যেখানে নতুন প্রকাশকরা স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন, সেখানে দুটি খাবারের দোকান রয়েছে। ফলে সেখানে লোক সমাগম বেশি। নতুনদের নিয়ে আগামীবারের প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামীবারও তাদের জন্য বিশেষ চত্বর থাকবে। শূন্যাকারে চত্বরটি তৈরি করে সেখানে তাদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর কারণ হচ্ছে, শূন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা এসে ভবিষ্যতে সাফল্য পাবেন- এমন প্রত্যাশা করছি।

নতুন বই :বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায়, গতকাল মেলার ১৭তম দিনে ২২১টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রভাষ আমিনের ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’ ও হাবিবুল্লাহ ফাহাদের ‘দরজার ওপাশে ভোর’ (সময়); সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের ‘সন্তোষ গুপ্ত’ ও শামসুজ্জামান খানের ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বহুমাত্রিক বিশ্নেষণ’ (বাংলা একাডেমি); হাসান মোরশেদের ‘দাস পার্টির খোঁজে’, ধ্রুব এষের ‘আত্মগত’ ও সাহেল ফুয়াদের ‘ইনতেজার হুসেইনের শ্রেষ্ঠ গল্প’ (ঐতিহ্য); সুমন্ত আসলামের ‘শত্রুর কবলে পাঁচ গোয়েন্দা’ (কথাপ্রকাশ); রাবেয়া খাতুনের ‘রূপালি পর্দায় সোনালি লেখা’ ও ইমদাদুল হক মিলনের ‘পাতা ফুল কাঁটা’ (অনন্যা); সরকার আমিনের ‘আমিন খেলতে গেছে’ (মূর্ধণ্য); হাসান মোরশেদের ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ নির্মাণ’ (চর্চা); নিজামুল হক বিপুলের ‘কুয়াকাটা থেকে মারাকেশ’ ও তৌহিদুর রহমানের ‘অলৌকিক বাঁশি’ (বেহুলাবাংলা); রওশন আরা অশ্রুর ‘কল্পলোকের গল্পগাথা’ (নক্ষত্র প্রকাশনী); গডফ্রে বিটুর ‘জলরঙে ভালোবাসা’ (ঘাষ ফুল নদী); তালাত মাহমুদের ‘শেকল ভাঙার গান’ (বর্ণপ্রকাশ); জাহাঙ্গীর আলম, এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও শাহ্‌ মো. আব্দুল খালেকের যৌথ সম্পাদনায় ‘মূল্য সংযোজন করের সহজ ব্যবহারিক গাইড’ (গোল্ডেন হাউজ); আবিদ করিম মুন্নার ‘তিস্তাপারের গল্প’ (আবিস্কার); নাসির আহমদের ‘ভালো থাকার নির্দেশ আছে’ (রয়েল); আলমগীর কবিরের রচনাসংগ্রহ-১ ‘চলচ্চিত্র ও জাতীয় মুক্তি’ (আগামী); মোহাম্মদ শাহজাহানের ‘ক্রান্তিকালের সফল কাণ্ডারি’ (বাংলা প্রকাশনী); কেনেথ এন্ডারসনের ‘বাঘ আসছে’, রূপান্তর ইশতিয়াক হাসান (ঐতিহ্য); শারমিন শামস্‌ের ‘ভালোবাসা আর ভালো না বাসার গল্প’ (অনিন্দ্য); রফিউর রাব্বির ‘নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’ (সাহিত্য প্রকাশ)। আলফ্রেড খোকনের ‘মৌন তড়ূই’ (উৎস) এবং নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের ‘বিলডাকিনি’ (অন্যপ্রকাশ)।

ড. আগষ্টিনের চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন রাজধানীর সেন্ট জুড’স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আগষ্টিন ক্রুজের চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজেশ আলী খান প্রমুখ। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাপ্তাহিক রোববারের সম্পাদক সৈয়দ তোশারফ আলী।

মেলামঞ্চের আয়োজন :গতকাল বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘এ কে এম আহসান খান শামসুর রহমান মুজিবুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এম মোকাম্মেল হক। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ভাবনগর ফাউন্ডেশন, সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র ও নকশীকাঁথা।

আজকের অনুষ্ঠান :আজ রোববার মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘এ এফ সালাহ্‌উদ্দীন আহ্‌মদ মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী এ কে নাজমুল করিম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মুনতাসীর মামুন, মীজানূর রহমান শেলী ও সোনিয়া নিশাত আমিন। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত