প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেড়েই চলেছে পুলিশের অপরাধ

ডেস্ক রিপোর্ট : বেড়েই চলেছে পুলিশের অপরাধ।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের বার বার কঠোর সর্তকতা নির্দেশনার পরেও থেমে নেই পুলিশের অপরাধ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর হুশিয়ারির পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না পুলিশের অপরাধ । দিন দিন তা কেবল বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে অবিযোগ জমা পড়ছে। কিছু অসৎ অসাধু পুলিশ সদস্যের কারণে এ বাহিনী এখন মারাত্মক ইমেজ সংকটে।

পুলিশ সদর দপ্তর সুত্র মতে, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা থেকে ঘুষ, হয়রানি, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজি, আটক করে নির্যাতন ও মোটা অংকের অর্থ আদায় টাকা না দিলে জীবননাশের হুমকির অভিযোগ পুলিশ সদর দপ্তরে আসছে। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষ সদর দফতরের ‘আইজিপি কমপ্লেইন মনিটরিং সেলে’ অভিযোগ জানাচ্ছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৩২৫ টি অভিযোগ জমা পড়ছে। ই-মেইল, মোবাইল ফোন এবং সরাসরি এসব অভিযোগ আসে। এসব অপরাধের জন্য পুলিশ সদর দফতর ও বিভিন্ন ইউনিটের দফতর থেকে তিরস্কার থেকে শুরু করে প্রমোশন ও টাইম স্কেল স্থগিত, চাকুরিচ্যুতি ও পদাবনতির মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

২০১৭সালে ১৬ হাজার ১২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে । ২০১৬ সালে সারাদেশে ১৩ হাজার ৬শ’ পুলিশের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশ সদর দফতরের। ২০১৬ সালে এ বাহিনীর প্রায় ১৩ হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে তিন হাজার বেশি। ২০১৫ সালে ায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্যকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এসব অভিযোগ বেশিরভাগই কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তদন্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত কিছু অভিযোগ প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ঘুষ লেনদেন অন্যতম। কারণ এ ক্ষেত্রে সাক্ষী অথবা আনুষঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংগহ করা যায় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট সেলের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৫৮ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ২০১৭ সালের ১৫ হাজার ১২৭ জনকে (কনস্টেবল থেকে এসআই), ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার ৩৭ জন এবং এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল থেকে এসআই পদের ১৪ হাজার ৩৯৫ জনকে লঘুদন্ড ও ৩৫৭ জনকে গুরুদন্ড, ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার সাত জনকে গুরুদন্ড ও ২৯ জনকে লঘুদন্ড এবং সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে। ২০১৭ সালে ২৫ জনকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ঘুষ নেওয়া, নানাভাবে হয়রানি, বিয়ের পর স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া, জমি-জমা সংক্রান্ত এবং পুলিশ সদস্যের হুমকির মুখে জীবনের নিরাপত্তা চাওয়ার অভিযোগ আসছে। এগুলোর মধ্যে ঘুষ ও হয়রানির পর ভরণপোষণ না দেওয়ার জন্য পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগই বেশি।
এদিকে, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে পুলিশ। তবে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলেও মাদক ব্যবসা, বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ আছে। গত ৩১ জানুয়ারি পুলিশ সদর দফতর থেকে সারাদেশের পুলিশের জন্য ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেন,তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু করেন। যেখানে এসএমএস (০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৬) এবং মেইল (পড়সঢ়ষধরহ@ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ) করে অভিযোগ করতে পারেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাহিনীতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। উদ্যোগটি পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এসব বিষয়ে সেলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, পুলিশের যে কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সেটা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে শাস্তির সুপারিশ করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াও ফৌজদারি মামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও অপরাধ প্রবণতা কমাতে পুলিশ সদস্যদের মোটিভেশনাল ট্রেনিংও দেওয়া হচ্ছে। যেখানে অপরাধ করলে সাজা পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত