প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ কারণে নষ্ট হচ্ছে সৌর প্যানেল

ডেস্ক রিপোর্ট : পাঁচ কারণে সৌর প্যানেল নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই কারণগুলো হলো—নিম্নমানের সৌর প্যানেল ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, ইনভার্টার সঠিকভাবে কাজ না করা, ব্যাটারি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা ও ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার পর তা পরিবর্তন না করা। এসব ত্রুটির কারণে গ্রাহকের আঙ্গিনায় বসানো এক লাখ ৪৮ হাজার সৌর প্যানেলের মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, সাধারণত একটি সৌর প্যানেল ২০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের প্যানেল বসানোর কারণে সেগুলো মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ—গ্রাহকরা যতটা সংযোগ পেতে আগ্রহী, প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণে ততটা আগ্রহী নন। ফলে প্যানেল বসানোর কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো নষ্ট হতে শুরু করে।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, শর্ত রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য সৌর প্যানেলে বসাতে হবে। কিন্তু একবার সংযোগ পাওয়ার পর ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে কোনও কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়নি। মাত্র তিন বছরের মধ্যে প্যানেল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বিরাট অঙ্কের অর্থেরও অপচয় হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক বৈঠকে নতুন করে সৌর প্যানেল ব্যবহারের জন্য মালিকদের উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে দুই কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে গ্রাহককে সৌর প্যানেল বসাতে মৌখিকভাবে শর্ত দেওয়া হয়। পরে এই মৌখিক শর্তই পালন হচ্ছিল। এরপর ২০১৪ সালে এসে সরকার সৌর প্যানেল বসানোর শর্ত উঠিয়ে নেয়। কিন্তু ২০১৫ সালে আবারও গ্রাহকের ঘাড়ে চাপানো হয় এই শর্ত। এবার এসি ব্যবহার করলে অবশ্যই সৌর প্যানেল বসানোর শর্ত দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৯টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। যার মোট ক্ষমতা ৩০ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৩০৪ কিলোওয়াট। এরমধ্যে সচল আছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫১২টি। নষ্ট হয়ে গেছে ১৫ হাজার ৪৭টি।

নষ্ট হওয়া সোলার প্যানেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির। এরমধ্যে ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানির (ডেসকো) অধীন এলাকার আবাসিক গ্রাহকদের সোলার প্যানেলের মোট সংখ্যা ৬০ হাজার ৫২৬টি। এরমধ্যে নানা কারণে নষ্ট হয়েছে ১২ হাজার ১৪৮টি। এর পরপরই আছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এই বিতরণ কোম্পানির অধীনে আছে ৯ হাজার ২৬৭টি। এরমধ্যে নষ্ট হয়েছে ১ হাজার ৫৩১টি। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) প্যানেলের সংখ্যা ১ হাজার ৯৯২টি। এরমধ্যে নষ্ট হয়েছে ৫৬টি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো)-এর অধীনে ৮ হাজার ৫৪০টি সোলার প্যানেল বসানো হয়। এরমধ্যে নষ্ট হয়েছে ৭২৮টি। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বাপবিবো)-এর অধীনে আছে ৫৬ হাজার ৭৯৪টি। এরমধ্যে নষ্ট হয়েছে ৪৭৪টি। নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আছে ১১ হাজার ৪৫০টি। এরমধ্যে নষ্ট হয়েছে ১১০টি।

সৌর প্যানেল নষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, আমরা সরেজমিনে মনিটরিং করে বেশ কয়েকটি কারণ পেয়েছি। এরমধ্যে নিম্নমানের সৌর প্যানেল ব্যবহার সবচেয়ে বড় সমস্যা। গ্রাহকরা অনেক সময় সংযোগ নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে সস্তা-নিম্নমানের প্যানেল কেনেন। এ প্যানেলগুলো কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেকে ভালো মানের কিনলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। এতে প্যানেল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘প্যানেল কিনলেও অনেকের ইনভার্টার সঠিকভাবে কাজ করে না। কাজ করছে কিনা, তাও পরীক্ষা করেন না তারা। এতেও প্যানেল সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অন্যদিকে প্যানেলের একটি দরকারি যন্ত্র হচ্ছে ব্যাটারি। সেই ব্যাটারি অনেক সময় অবহেলার কারণে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে নষ্ট হয়ে যায়। পরে গ্রাহকরা আর নতুন করে ব্যাটারি কিনতে চান না। এসব কারণেই সৌর প্যানেলের ব্যবহার কমে যাচ্ছে।’

জানতে চাইরে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারওয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিম্নমানের সৌর প্যানেল বসানোর কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সময় দিচ্ছি, যেন তারা প্যানেলগুলো ঠিক করেন। পাশাপাশি পরামর্শও দিচ্ছি, যেন ভালো মানের প্যানেল স্থাপন করে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে চাইছে। এজন্য আবাসিকের সোলার প্যানেলেরও মনিটরিং করা হচ্ছে। অনেকেই সংযোগের সময় প্যানেল বসালেও এখন আর ব্যবহার করছেন না।’ তিনি বলেন, ‘নিজেরা প্যানেল বসিয়ে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পুরণ করে বিতরণ কোম্পানির কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। এজন্য নতুন করে নেট মিটারিং পলিসি তৈরি করছে সরকার।’ বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত