প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয়াপল্টনে রিজভী
ওবায়দুল কাদের আইন আদালত নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছে

শিমুল মাহমুদ : ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আইন আদালত নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের বলছেন জেলখানা আরাম আয়েশের জায়গা নয়, আবার পরক্ষণেই বলেছেন-কারাগার শান্তিতে স্বস্তিতে থাকার জায়গা। সেখানে তিনি (খালেদা জিয়া) বিশ্রাম নেবেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব যেন এগুলো বলে আইন আদালত নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছেন। পরস্পরবিরোধী কথা বলাতে আওয়ামী নেতাদের জুড়ি মেলা ভার।

তিনি বলেন, তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশ্রামের জন্য তাক মিথ্যা মামলা দিয়ে, প্রহসনের বিচার কার্য চালিয়ে অন্যায় সাজা দিয়ে, জেলে আটকিয়ে রেখেছেন কেন ? এধরণের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকেরই বিশ্রাম নেয়ার সময় চলে এসেছে। কারন তার কথাবার্তার মধ্যে অসংল্গনতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী গণতন্ত্রকামী দল বিএনপি তুমুল আন্দোলন করে স্বৈরশাসক কিভাবে উৎখাত করতে হয় তা তারা ভালভাবেই জানে। কাদের সাহেব আপনি বলেছেন-আগামী নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়াকে নিয়ে, না তাকে ছাড়া যাবে এটি আদালতের বিষয়, সরকারের বিষয় নয়। আমি বলতে চাই আইন, প্রশাসন, বিচার সবই আপনাদের করতলে।

বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি আইনমন্ত্রীর ভাষ্যেই প্রমাণিত হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মনের মাধুরী দিয়ে সাজানো মামলা, অন্যায় রায় এবং এখনও রায়ের কপি না দেওয়ার কলকাঠি নাড়ছে সরকার।

ওবায়দুল কাদের উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছেন দাবি করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের একমাত্র মুখপাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফেব্রুয়ারী মাসে যেভাবে মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেই একইভাবে বর্তমান স্বৈরশাসক উৎপীড়িত জনগণের প্রতিবাদকে বাধা দেয়ার জন্য তাদের আশা-ভরসার প্রতীক দেশনেত্রীর কন্ঠকে রুদ্ধ করার জন্যই তাকে আটক করে রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি ও নির্বাচন উভয়ই দিতে ব্যর্থ আপনারা। সমালোচনা গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত শক্তি। যে দেশে বিরোধী দল সরকারকে উদ্দেশ্য করে কিছু বললেই জেল-জুলুম সহ্য করতে হয় সেদেশে কী তন্ত্র চালু আছে সেটি জনগণ আপনার কাছ থেকে জানতে চায়। কেউ সমালোচনা করে Facebook এ কিছু লিখলেই তাকে যুযু’র ভয় দেখিয়ে আটক করা হয় সেটা কী জীবিত গণতন্ত্র নাকি গণতন্ত্রের মৃতদেহ ?

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভয়েই দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছে। স্বরশাসকের সাথে আঁতাত করে অনুগ্রহভাজন বিরোধী দল নিয়ে কোন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চলে না। কোন্ দেশে বিরোধী দল থেকে মন্ত্রী পরিষদে মন্ত্রী থাকে ? যেদেশে দু:শাসনের নির্মমতা বজায় থাকে সেখানেই ভাঁওতাবাজীর অপশাসনে সরকারী দল বিরোধী দল একাকার হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাহেবের কাছে জানতে চাই- কোন দেশে পত্র-পত্রিকায় সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হলেই সেই পত্রিকা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় ? ঠিক ধরেছেন, স্বৈরশাসক দ্বারা শাসিত দেশে শাসকগোষ্ঠী জনগণকে শোষন করে, নিপীড়ণ করে। জনগন আজ সেই শোষন-পীড়ণের চিত্রই অবলোকন করছে।

সকলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অর্ধেকের বেশী আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতায় ভয় ডর আছে বলেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আজ কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কাদের সাহেব আপনি বলেছেন-আদালতের আদেশের বাইরে বেগম জিয়র বিষয়ে সরকারের কোন হাত নেই, কোন হস্তক্ষেপ নেই। তাহলে বিধান অনুযায়ী যে সময়সীমার মধ্যে রায়ের কপি পাওয়ার কথা, সেই রায়ের কপি এতদিন পরেও বেগম জিয়ার আইনজীবীরা হাতে পাচ্ছেন না কেন ? তাহলে মনে হয়-তাঁর রায়ের কপি বিদেশ ভ্রমণ শেষে কারও Dictation এর অপেক্ষায় রয়েছে। রায়ের কপি দিতে গড়িমসি করা জামিন বিলম্বিত করারই সরকারের কুটকে․শল। গণতান্ত্রিক দেশে জামিন মানবাধিকারের অংশ, এটি অধিকার, এটি কারো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, সরকার কর্তৃক রায়ের কপি প্রদানে বিলম্ব শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বেগম জিয়াকে বেশিদিন কারাপ্রকোষ্ঠে আটকিয়ে রাখার অশুভ ইঙ্গিত। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় জনগণের নেত্রীকে বন্দী করে রাখতে পারবেন না। বিপুল জনগণের স্রোত ধেয়ে আসছে। দেখবেন-তাদের প্রিয় নেত্রীকে জনগণ মুক্ত করবেই।
সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশনেত্রী এবং দেশের মানুষের ধর্যের পরীক্ষা নেবেন না, তাও আবার একুশের মাসে। ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারীতে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে জনগণ দেখিয়ে দিয়েছিল তারা ভয় পায় না, তারা ফুঁসে উঠেছিল। আর গত ৮ই ফেব্রুয়ারীতেও ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে তারা প্রমান করেছে জনগণের অধিকার হরণকারী অগণতান্ত্রিক শক্তিকে জনগণ তোয়াক্কা করেনি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনী অভিযান ও ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও তাদের প্রিয় নেত্রীর গাড়ীবহরে ছুটে এসেছিল বাঁধভাঙ্গা বন্যার পানির মতো।

সারা দেশে গ্রেফতারকৃত নিখোঁজ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে জনসম্মুখে হাজির করার জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ থেকে আজ পর্যন্ত মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৫৫ জনের অধিক। এবং ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ পর্যন্ত মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৪৭২৫ জনেরও অধিক বলে জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত