প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসছে ভোটারবান্ধব নির্বাচনী বাজেট

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ভোটারবান্ধব করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য করের বাড়তি বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে নতুন বাজেট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। তবে রাজস্ব আদায়ে করের আওতা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে বেশিসংখ্যক মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় এনে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে এটি হবে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। তবে এটিকে সাদামাটা হিসেবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী বাজেট উচ্চাভিলাসী হবে না।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে নতুন বাজেটে ভ্যাটের হার অপরিবর্তিত থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আগামী বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপ থাকবে। এ জন্য চলতি বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন খুব কঠিন হবে না। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পাশাপশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অর্জন কঠিন হবে। সফলভাবে নির্বাচন উৎড়ে যেতে ভোটারদের তুষ্ট করার দিকে নজর দিচ্ছে সরকারের। সে লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও তার কার্যালয় এ বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছে।

সূত্রমতে, বাজেটের মূল কাজ শুরু হয় মার্চ থেকে। জুনে বাজেট পেশ করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাজেটের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ভোটের কারণে এবার কাজ শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বর থেকেই।

জানা গেছে, জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও বরাবরের মতো ছয় খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ ছয় খাতের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হলে রূপকল্প-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজেটের আকার : প্রাথমিকভাবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে চার লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়।

রাজস্ব আদায় : আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হবে তিন লাখ ৪০ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট তা আদায় হবে নতুন কোনো করারোপ ছাড়াই। করের আওতা বাড়িয়ে এ টার্গেট পূরণ হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। এনবিআরকে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত খাত থেকে আগামী অর্থবছরে রাজস্বপ্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ১১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে আট হাজার ৬২২ কোটি টাকা। আর কর-ব্যতীত প্রাপ্তি প্রাক্কলিত হচ্ছে ৩৩ হাজার ১১২ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে জিডিপি হবে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ অঙ্কে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেতে হলে অবশ্যই বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো করতে হবে। কারণ বিনিয়োগ না বাড়লে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বাজেট ঘাটতি : আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে তার পরিমাণ এক লাখ ২৭ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ধার করবে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং অন্য খাতে এক হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেট সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং ভোটারদের খুশি করার মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নজর দিয়েছে সরকার। কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন

এফবিসিসিআই এবং জনতা ব্যাংকের পরিচালক আবু নাসের বলেন, আগামী বাজেটে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও জরুরি। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা, জননিরাপত্তার বিষয়ে আরো জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই যেন ছোট উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে ভোটের বাজারে কোনোক্রমেই পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আসছে বাজেটের কোনো সম্পৃক্ততা নেই মন্তব্য করে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী বাজেট বলে কিছু নেই। আমার কথা হলো, এটা শেষ বাজেট। তাই এখানে ইনোভেটিভ কিছু থাকবে না। যা করছি সেটা কন্টিনিউ করা হবে। আর যেহেতু আমরা আশা করি যে, আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় আসব, তাই আমরা চাই, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছি, সে ধরনের বাজেটই দেওয়া হবে। তথ্যসূত্র : ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত