প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনলাইন প্রচারণার ফাঁদে পড়ে জঙ্গিবাদে দুই বোন

ডেস্ক রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর অনলাইন প্রচার-প্রচারণা দেখে প্রথমে বড় বোন মোমেনা সোমা জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর ছোট বোন আসমাউল হুসনা সুমনাও বড় বোনের আদর্শ অনুসরণ করেন। তবে দেশের কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মনিরুল ইসলাম এই দুই বোনের উগ্রবাদে জড়ানোর বিষয়ে আরো অনেক তথ্য জানান। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মেলবোর্নে ঘুমন্ত এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমাকে আটক করে দেশটির পুলিশ। এ খবর জানার পর গত রবিবার সিটিটিসির একটি দল মিরপুরের পূর্ব কাজীপাড়ায় তাঁদের বাসায় যায়। সিটিটিসির কর্মকর্তারা বাসার ড্রইংরুমে সোমার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে বের হয়ে হিজাবের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ছুরি নিয়ে সুমনা সহকারী কমিশনার (এসি) তৌহিদুল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। আল্লাহু আকবার বলে স্লোগানও দেন। ছুরিকাঘাতে ওই কর্মকর্তার শার্ট ছিঁড়ে গায়ে ছুরির আঁচড় লাগে। আচমকা এই আক্রমণ সামলে ওই কর্মকর্তা নারী পুলিশের সহায়তায় সুমনাকে আটক করেন।

এ ঘটনায় পরদিন সোমবার কাফরুল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করা হয় সুমনার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি। দুই মেয়ের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার কারণ জানতে তাঁদের বাবা মো. মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গত বুধবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গুতিয়াবো গ্রামের মনিরুজ্জামানের মেয়ে সোমা প্রথমে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় যেতে পারেননি। পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ঘুমন্ত এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে ধরা পড়েন তিনি। কাউকে হামলা করবেন—এ রকম কথা ছোট বোনকে বলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে বাসায় পুলিশ এলে তাদের ওপর হামলা করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন ছোট বোনকে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘২০১৫ সালের দিকে অনলাইনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-আল কায়েদার ছড়িয়ে রাখা বিভিন্ন উপকরণ দেখে প্রথমে জঙ্গিবাদে জড়ান সোমা। এরপর ছোট বোন সুমনাকেও এই পথে ধাবিত করেন তিনি। তবে এখনো হলি আর্টিজানে হামলাকারী জঙ্গিদের সঙ্গে বা দেশের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে দুই বোনের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’

চট্টগ্রামের বাসিন্দা নজিবুল্লাহ আনসারির সঙ্গে মোমেনা সোমার সম্পর্ক ছিল জানিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালে নজিবুল্লাহ ও সোমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে নজিবুল্লাহর পরিবারের অমতের কারণে তাঁদের বিয়ে হয়নি। পরে নজিবুল্লাহ আনসারি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে সিরিয়ায় চলে যান। এরপর সোমাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। দুই বোনের মা ২০১৫ সালে মারা যান। এরপর তাঁরা জঙ্গিবাদের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েন বলে সুমনা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

নজিবুল্লাহ সম্পর্কে সিটিটিসি জানতে পেরেছে, একসময় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন নজিবুল্লাহ। পরে তিনি মালয়েশিয়ান মেরিন একাডেমিতে পড়তে যান। সেখান থেকে বৃত্তি পেয়ে পড়তে যান যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয় ২০১৬ সালে। সিটিটিসি সূত্র জানায়, ‘জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত গাজী সোয়ান নামে একজনকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ভুল করেছেন বুঝতে পেরে তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে তিনি বলেন, তুরস্কে নজিবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর একবার দেখা হয়েছিল। পরে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সন্ধান পাননি। সোয়ানের ধারণা, নজিবুল্লাহ তুরস্ক সীমান্তে মারা গেছেন। কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত