প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে রেলমন্ত্রী
যানজট নিরসনে ঢাকায় বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

আসাদুজ্জামান সম্রাট : রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব গত ২৭ ডিসেম্বরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ওই প্রকল্পের আওতায় সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার দলীয় সদস্য শিরিন নাঈমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে সরাসরি কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুত গতির রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার হতে ৯০ কিলোমিটার কমবে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামে রেল ভ্রমণের সময় অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তিনি আরো জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কুমিল্লা বা লাকসাম হয়ে দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্পটি গত বছরের মার্চে অনুমোদিত হয়েছে। এরপর জুনে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের জন্য এক্সপ্রেসন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহবান করা হয়। দাখিল হওয়া ইওআইগুলো পর্যালোচনা করে ৬টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরী করা হয়। এরই ভিত্তিতে নভেম্বরে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি অবধি দাখিল হওয়া আরএফপিগুলো বর্তমানে মূল্যায়নাধীন রয়েছে।

একই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মো. মুজিবুল হক জানান, ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মায়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী গুনদুম অবধি লাইন যাবে। তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ বিদ্যমান আছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্রাক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’ বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। অনুমোদিত রিসেটেলমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী পুনর্বাসন কাজের জন্য বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) নিয়োগ হয়ে গেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকল্প পরামর্শক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর ‘ফাস্ট ট্রাক’ প্রকল্পের তালিকাভুক্ত রয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারিত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত