প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক হাতে গোলাপ অন্য হাতে বই

ডেস্ক রিপোর্ট : ভালোবাসার স্পর্শে বর্ণিল হয়ে উঠেছিল অমর একুশে বইমেলা। এ যান্ত্রিক শহরে তরুণ-তরুণীরা হাত ধরে বললো ‘ভালোবাসি’। গোলাপ ছিল কারো হাতে, কারো হাতে ছিল বই। তবে ফুলের স্নিগ্ধতায় বইয়ের পবিত্রতায় তারা একে অপরকে জানিয়েছেন ভালোবাসার কথা। গতকাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের জোয়ারে ভেসে অনেকেই এসেছিলেন বইমেলা প্রাঙ্গণে। বইমেলা যেন হয়ে উঠেছিল তাদের প্রিয় মিলনস্থল।

ভালোবাসা দিবসে একুশের গ্রন্থমেলায় মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হয়। সব বয়সের বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে বইমেলা প্রাণের মেলায় পরিণত হয়। অধিকাংশ স্টলেই ক্রেতার ভিড় ছিল সারাক্ষণ। বই বিক্রিতে প্রকাশকরাও খুশি। প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো থেকে প্রকাশক ও বিক্রেতারা জানান, মেলায় বিক্রি ভালো। বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস ও শিশুকিশোর গ্রন্থ। ভালোবাসা দিবসের কারণেই বোধ করি, কবিতার বইয়ের বিক্রি গতকাল ভালো ছিল।

শোভা প্রকাশের প্রকাশক মিজানুর রহমান বলেন, এবারের মেলার পরিবেশ অতীতের যে কোনো মেলার চেয়ে ভালো। প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোর মাঝখানের স্থানগুলো বড় আকারের হওয়ায় দর্শনার্থীরা খুব সহজেই স্টলে স্টলে ঘুরে ঘুরে বই পছন্দ করতে পারছেন। তিনি জানান, এ মেলায় তিনটি দিবসে বিক্রি বেশি হয়, একুশের দিনে, পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে।

অন্বেষা’র স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন জানান, মেলায় বিক্রি ভালো। বিপুলসংখ্যক পাঠক আসছেন মেলায়। উপন্যাস ও ছোটদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থী বাড়বে, আর বিক্রিও বাড়বে। এসেছে ১৯২টি নতুন বই :গতকাল মেলায় ১৯২টি নতুন বই এসেছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে : পারিজাত প্রকাশনীতে মোনায়েম সরকারের ‘বাংলাদেশ ২৫ মার্চের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায়’ ও অ্যাডভোকেট তানজিনা আখতারের ‘নারী এগিয়ে যাচ্ছে’, মাহি প্রকাশনে শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত ‘কিশোর গল্প সংকলন’, অনন্যা প্রকাশনীতে মুনতাসীর মামুনের ‘উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গের সংবাদ সাময়িকীর সঙ্গে রোমাঞ্চ’, রাত্রি প্রকাশনীতে সুকুমার বড়ুয়ার ‘চাঁদে প্রথম মানুষ’, বাংলা একাডেমি এনেছে ‘ফোকলোর কিসসা’ ও কথা প্রকাশনে এসেছে জামাল রেজার উপন্যাস ‘তুমি আমি’।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান :গতকাল মেলার মূলমঞ্চে ছিল ‘শিশু সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা ও শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিকিত্সক ও কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল। আলোচনায় অংশ নেন সুব্রত বড়ুয়া, কবি দিলারা হাফিজ ও সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পী দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে অসংখ্য শিশু সংগঠন গড়ে উঠেছে। আবার সংগঠনগুলোর মধ্যে ভাঙনও হয়েছে। খেলাঘর দুভাগ হয়েছে। আমি মনে করি দুভাগ হওয়া দোষের কিছু নয় বরং কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। কাজও বেশি হচ্ছে।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশেও একসময় শিশু সংগঠনগুলো শিশুর জীবন গঠনে প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে নগরায়ণের প্রভাবে খোলামেলা পরিবেশে শিশুর বেড়ে উঠার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।

দিলারা হাফিজ বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন আমাদের জীবনযাত্রা সহজ করলেও এর অপব্যবহার ও ব্যবহার-অজ্ঞতা শিশুর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সুব্রত বড়ুয়া বলেন, আমরা আজ খুব বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি, ফলে শিশুর জীবন বিকাশে সংগঠনের প্রায়োজনীয়তা উপেক্ষিত হয়ে পড়ছে।

মোহিত কামাল বলেন, নিষ্ক্রিয় হতে থাকা শিশু সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করতে হবে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত শনাক্ত ও তা সমাধান করে সাংগঠনিক শক্তিকে জোরদার করতে হবে। ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত