প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইন না থাকায় খেলাপির খাতায় নাম উঠছে না ইইএফ-খেলাপিদের

জাফর আহমদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকুইটি এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড (ইইএফ) থেকে উদ্যোক্তারা ২৪০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৩৬ কোটি টাকা নিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক চুক্তির বিপরীতে এ সব টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ৮ বছর বিনা সুদে ব্যবসায় খাটানোর পর ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু আট বছর অতিক্রম করলেও অর্ধেক টাকা ফেরত দেয়নি। আইন না থাকার কারণে খেলাপি এ সব ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপির তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো-সিআইবি) নাম তুলতে পারছে না। অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বিনা সুদের ইইএফ খাতের বিনিয়োাগকারীদের মাঝে বিতরনকৃত ঋণর পরিমান ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২৩২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে ইইএফ ঋণ ব্যবস্থাপনা অপর সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে হস্তান্তর করলে যৌথভাবে বিতরন করে আরও ৮টি প্রকল্পে। এ ৮ প্রকল্পে বিতরণ করে আরও ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এরপর ২০০৯ সাল থেকে আইসিবি ৭২০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯৩৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করে। মোট ইইএফ-এর মধ্যে ২৪০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৩৬ কোটি টাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ শেষে ফেরত আসে ২৭২ কোটি টাকা। আর খেলাপি থেকে যায় ২৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু এ ব্যাপারে আইন না থাকার কারণে এ সব খেলাপির নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপির তালিকায় উঠানো যাচ্ছে না।

বিষয়টি স্বীকার করেন ইইএফ এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আইসিবি এর মহাব্যবস্থাপক মো. রেফাত হোসেন। তিনি বলেন, ইইএফ আইন সংশোধনি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সুত্র জানায়, সংশোধনি পাশ হলে কোন ইইএফ গ্রহণকারী খেলাপি ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে নাম ওঠার পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইনে মামলা করা যাবে। পাশাপাশি এখন কোম্পানির শেয়ার তফরুপকারি হিসাবে যে মামলা করা হচ্ছে সে সব মামলাও চালু থাকবে।

প্রসঙ্গত, ইইএফর বর্তমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রকল্পের ৫১ শতাংশ দিচ্ছে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী। বাকী ৪৯ শতাংশ বিনা সুদে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ বছর পর এ সব ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ