প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৪ই ফেব্রুয়ারির সেই রক্তঝরা দিন
যেদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ছাত্ররা

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : ছাত্ররা চাইলে নিষ্কলুষভাবে যেকোনো আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে। কারণ ছাত্রদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই এবং তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থও থাকে না। আর ছাত্ররা চাইলে একটি দেশকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ত্যাগী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে এসব কথা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্টের কর্মী তসলিমা রানা নীলা। ওই দিন সেই মিছিলে তিনিও ছিলেন। বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটির আরেক তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনে সামরিক আইনের বিরুদ্ধে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। কালক্রমে যা গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। তখন জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারের বিতর্কিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রয়ারিতে স্মারকলিপি দিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ে দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি করে। এতে জয়নাল ও দিপালী সাহাসহ অন্তত ১০জন নিহত হয়।

তসলিমা সেই দিনের কথা মনে করে বলেন, সেই উত্তাল ঘটনাটির ৩৫ বছর চলে গেছে। কিন্তু এখনো দিনটি আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বলে হয়ে আছে, কারণ এখনতো এই দিন ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে পালন করে কিন্তু সেই দিনটা ছিল আন্দোলনের চরম অবস্থায় ছাত্রদের অবস্থান। সেই দিন সকাল ১০টায় বটতলায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রদের জমায়েত ছিল এবং সেখান থেকে স্মারকলিপি নিয়ে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল শিক্ষা ভবনে, শিক্ষানীতির প্রত্যাহারের দাবিতে। আমরা বটতলা থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে যাচ্ছি, এই সময় আমাদের ডান দিকে ছিল কার্জন হল আর বামদিকে ছিল শিশু একাডেমী। তখনই আমরা গুলির আওয়াজটা শুনি এবং তখন ছাত্ররা ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়। আর সেই সময় ওখানে বেশ কিছু দুর্ঘটনাও হয়েছে এবং তখন রীতিমত গোলাগুলি হচ্ছে। তখন আমরা ঢুকে গেলাম কার্জন হলে। তারপর আমরা সেখানে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ। তারপর বিকেলের দিকে অবস্থানটা একটু স্বাভাবিক হলো, তখন আমরা আবার চলে এলাম বটতলায়।

তিনি বলেন, সেই সাথে শহরের অবস্থটাও ছিল খুবই থমথমে, তখন আমি আহত হইনি। বিকেলের দিকে যখন আমরা আবার বটতলায় জমায়েত হলাম তখন ট্রাকে করে গফুর, জয়নালের ডেথ বডি আনা হয়েছিল এবং তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আখতারুজ্জামান বক্তৃতা দিচ্ছেন, এমন সময় আমরা শুনতে পেলাম পুলিশ একটা মেশিন বের করেছে যেটা রঙিন পানি ছড়াচ্ছে যাতে করে ছাত্রদের চিহ্নিত করে সহজে গ্রেফতার করা যায়। আর সেটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং ওই সময়ে তারা আবার ছাত্র ভঙ্গ হয়ে যায় এবং অপরাজেয় বাংলার পেছনের কলাভবনের ভিতর দিয়ে আমি অনেকের সাথে দৌঁড়াচ্ছিলাম। তখন আমি ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাই এবং সেই সময় অনেক ছাত্র আমার উপর দিয়ে চলে যায়। পরে আমাকে অনেকে ধরে নিয়ে কলাভবনের করিডোরে নিয়ে যায় এবং তারপর সেখান থেকে আমরা দোতলায় চলে যাই ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে এবং একটা রুম খুঁজতে থাকি। পড়ে না পেয়ে আমরা ৪ তলায় চলে যাই। ৩০-৪০ জন ছাত্রছাত্রী ছিলাম এবং সেখানে গিয়ে একটা রুমে আমরা কোনোভাবে জায়গা পাই।

তিনি আরও বলেন, তখন যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তার কেনো প্রাসঙ্গিকতা এখনো ২০১৮ সালে নেই বলবো না, আছে কিন্তু যেভাবে থাকা দরকার সেইভাবে নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। তবুও আমি আশাবাদী এর ভেতর থেকেই বেড়িয়ে আসবে এমন কেউ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত