প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্বৈত ভোটার নিয়ে হার্ডলাইনে ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বৈত ভোটারদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতদিন দ্বৈত ভোটারদের আগের জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক রেখে পরেরটি বাদ দিয়ে দেয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে দুটো এনআইডিই লক করে রাখতো কমিশন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতে তার আগেরটি বহাল রেখে পরেরটি বাদ দেয়া হতো। কিন্তু এখন কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দ্বৈত ভোটার হলে তার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্বৈত ভোটার হতে সহায়তাকারী ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, নিজে নির্বাচন করতে কিংবা পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক ব্যক্তি দ্বৈত ভোটার হন। এ ছাড়া সম্পত্তি আত্মসাৎসহ নানা অসদোপায় অবলম্বনের জন্যও অনেকে দ্বৈত ভোটার হন। জাতীয় নির্বাচনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসব দ্বৈত ভোটার অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। তাই আগামী নির্বাচনের আগেই এসব দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায় ইসি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে এরই মধ্যে দেশের সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমকালে কিছু ভোটার দ্বৈত ভোটার হিসেবে এএফআইসি ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। এসব চিহ্নিত ভোটাররা ভিন্ন ভিন্ন হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য আংশিক পরিবর্তন করে একই ব্যক্তিকে দু’বার ভোটার হওয়ার বিষয়ে যিনি বা যারা সহযোগিতা করবেন পরবর্তী সময়ে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে তাদের অধীন কর্মচারীদের এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তিÑ ‘(ক) কোনো ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পুনঃপরীক্ষণ, সংশোধন বা হালনাগাদকরণ সম্পর্কে; বা (খ) কোনো ভোটার তালিকাতে কোনো অন্তর্ভুক্তি বা উহা হইতে কোনো অন্তর্ভুক্তি কর্তন সম্পর্কে; এমন কোনো লিখিত বর্ণনা বা ঘোষণা প্রদান করেন যাহা মিথ্যা এবং যাহা তিনি মিথ্যা বলিয়া জানেন বা বিশ্বাস করেন বা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন না, তাহা হইলে তিনি অনধিক ছয়মাস কারাণ্ড বা অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোটার তালিকা আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী কেউ যদি জ্ঞাত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বৈত ভোটার হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ দ্বৈত ভোটার হলে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র জানায়, ইসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, বরিশাল ও পিরোজপুরের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সর্বশেষ রোববার নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানো ইসির উপসচিব মো. আবদুল হালিম খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার মো. আবদুল খালেক (ভোটার নং ৭৫১৭৮৩০০০৯৭ ও ৭৫১৭৮৩০০০২৯৯) এবং মো. আবদুল মান্নান (ভোটার নং ৭৫১৭৮৩৯৬৭৯০০ ও ৭৫১৭৮৩০০০২৭৮) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য/মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তথ্য পরিবর্তন করে দু’বার ভোটার হওয়ায় কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১৮ অনুযায়ী মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মামলার বিবরণাদিসহ সচিবালয়কে অবহিত করার জন্যও বলা হয়। এ ছাড়া ইসির যুগ্ম-সচিব ও এনআইডি উইংয়ের পরিচালকের (অপারেশন্স) কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে, এই দুই ব্যক্তির প্রথমবারের অন্তর্ভ–ক্তি বহাল রেখে দ্বিতীয়বারের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করার ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে মোট ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ১০৫ জন, যা মোট ভোটারের ৫০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন যা মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ