প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে সরকারবিরোধীরা। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য এবং সহিংসতার দিকে দেশকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তায় এক ধরনের উসকানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা এমন ধারণা করছেন। তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে পুলিশের জন্য আবারো চ্যালেঞ্জ আসছে। যদিও পুলিশ ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের বিশৃঙ্খলা ও পরবর্তী নাশকতা মোকাবিলা করেছে এবং দক্ষতার সঙ্গে। আর নির্বাচনের বছরে পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন পুলিশকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। অবশ্য পুলিশ যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে এবং নজরদারি করা গোয়েন্দা সংস্থায় বিশ্বমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যোগ হয়েছে। এর ফলে আগাম গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার মতো সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। যার ফলে অনেক ঘটনা প্রতিরোধ করাও সম্ভব হচ্ছে। জানা গেছে, পুলিশের সব ক’টি রেঞ্জে এবং মেট্রোপলিটন এলাকার দায়িত্বে থাকা প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সদর দফতর থেকে। এ ছাড়া স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে স্পেশাল অ্যাটেনশন দেয়ার জন্য পুলিশ সুপারদের কাছে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে সারাদেশের পুলিশ সুপাররা নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ বার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সম্প্রতি নতুন পুলিশ প্রধান নির্বাচনী দায়িত্ব পালন ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় আইনের মধ্যে থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সব বিষয় মাথায় রেখে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেউ যাতে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ না পায় এ জন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্রিয় রয়েছেন দায়িত্বশীলরা। এ ক্ষেত্রে যে মাত্রার প্রযুক্তি এবং সোর্স নিয়োগ করা প্রয়োজন তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে পুলিশ সক্ষমতা এবং সফলতা দেখিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের হামলা এবং নাশকতা মোকাবিলা ও পরবর্তী অভিযানগুলো উল্লেখ করার মতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান, অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের ওপর নজরদারি আছে বলেও জানান তিনি। বলেন, যে কোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিট কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য বাড়ানো হয়েছে সাইবার টহল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার হওয়ায় দলটির পক্ষে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ও বিএনপি মারমুখী হয়েছে। সরকার পক্ষ এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে বের হচ্ছে নানা ধরনের কথাবার্তাও। কারো কারো কথায়- আকার ঈঙ্গিতে উসকানিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকেও যেতে পারে।

বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, রাজনৈতিক সংকট, অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতার দিকে দেশকে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। আগে যেভাবে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় ছিল, তারা নতুন ইস্যুতে সক্রিয় হচ্ছেÑ যা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জন্য আগামীতে চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি মহাসচিব ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচন হবে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবশ্য ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে খালেদা জিয়াকে আরো অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ হামলার জন্য সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্পষ্টভাষায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করেছেন।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় পুলিশকে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নৈরাজ্য, নাশকতা, রেললাইন উপড়ে ফেলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহর ছাড়িয়ে এটিকে ছড়িয়ে দেয়া হয় রাজপথ, রেলপথ, জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশের সব ইউনিট ও জননিরাপত্তা নিয়োজিত অন্যসব সহায়তাকারী বাহিনীকে চরম ব্যস্ত থাকতে হয়। শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ১৭ জন পুলিশের প্রাণ যায়। গুরুতর আহত হয় সহস াধিক পুলিশ সদস্য।

জালাও পোড়াও করে অসংখ্য প্রাণহানির পর দেশে শুরু হয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। এ আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সামগ্রিকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। এমনকি দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস আছে বলে প্রতিষ্ঠা করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় সরকারবিরোধী চক্র। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল ছিল পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জ। তারপর ভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন দেশের নাগরিক লোক হত্যার মাধ্যমে সরকার পতনের ছক করে নাশকতাকারীরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের এ বছরে পুলিশের সামনে আবারো এক ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। যা প্রতিহত করার দ্রুত সক্ষমতা এখন পুলিশের তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেয় জঙ্গিরা। এ কারণে জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর কঠোর নজরদারিও আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের তালিকা নিয়ে কাজ করছেন। তাদের ওপরও নজর আছে। কেউ নাশকতায় জড়ানোর চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, নাশকতায় জড়িতদের তালিকা আপডেট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে কারা কারা রাজনৈতিক সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে তাদের তালিকায় করার ব্যাপরে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ে।

জানতে চাইলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহাম্মদ বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধীচক্র যে কোনো সময় আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু আমাদের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় তারা ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, যারা সরকারের ভালো চায় না, দেশের উন্নয়ন চায় না তারা নানা ইস্যুতে দেশে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের প্রতিহত করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এসেছে।

একইভাবে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। পুলিশ আগেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফল হয়েছে আগামীতেও হবে। তিনি বলেন, তার রেঞ্জের সব পুলিশ সুপারদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ