প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের আয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : নিলাম ও তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বাবদ ৫৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮২ টাকা ৯০ পয়সা হিসাবে) আয় করেছে সরকার। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা আয় তরঙ্গ নিলাম থেকে। তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বাবদ এসেছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে গতকাল ফোরজি তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নিলামে অংশগ্রহণের জন্য চার সেলফোন অপারেটরই আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত অংশ নেয় গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। ১৮০০ ও ২১০০ ব্যান্ডে মোট ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ক্রয় করে বাংলালিংক। এ তরঙ্গের জন্য তাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আর গ্রামীণফোন শুধু ১৮০০ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনে। এতে তাদের ব্যয় হচ্ছে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

গতকাল প্রথম পর্যায়ের নিলামে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের পাঁচটি ব্লকে মোট ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের জন্য তোলা হয়। এতে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিল বাংলালিংক। নিলামে ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে আরো ১০ লাখ ডলার যোগ করে প্রথম ডাক শুরু হয়। এতে ব্যান্ডটিতে মেগাহার্টজপ্রতি তরঙ্গের মূল্য দাঁড়ায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে নিলামে অংশ নেয়া বাংলালিংক বিড না করায় এ পর্যায় শেষে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ চতুর্থ পর্যায়ে বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে থাকা তরঙ্গের নিলামে অংশ নেয় গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। চারটি ব্লকে মোট ১৮ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে তোলা হয়। প্রতি মেগাহার্টজ ৩ কোটি ১০ ডলারে কিনতে প্রথমেই বিড করে বাংলালিংক। এরপর গ্রামীণফোনও বিড করে। আগে বিড করায় এ পর্যায়ে বাংলালিংককে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী হিসেবে আগে তরঙ্গ ব্লক নির্ধারণের সুযোগ পায় বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যান্ডে ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নেয়। ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বাংলালিংকের তরঙ্গ ছিল ১০ মেগাহার্টজ। নতুন কেনা তরঙ্গসহ ব্যান্ডটিতে তাদের তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ।

এরপর ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ নিতে কোনো অংশগ্রহণকারী না থাকায় তৃতীয় পর্যায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। চূড়ান্ত পর্যায়ের নিলামে অবিক্রীত তরঙ্গ বিক্রির জন্য তোলা হয়। এতে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলালিংক ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার হিসাবে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনে। এতে ব্যান্ডটিতে আগের তরঙ্গসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট তরঙ্গ দাঁড়িয়েছে ১০ মেগাহার্টজ। ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ কিনতে আগ্রহী না থাকায় নিলাম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এ তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে বাংলালিংক গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিতে কাজ করবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক অস। তরঙ্গ নিলাম শেষে তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন এ তরঙ্গ যোগ হওয়ায় গ্রাহকপ্রতি তরঙ্গ বিবেচনায় এখন এগিয়ে গেল বাংলালিংক। এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ফোরজিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

ফোরজি/এলটিই সেবাদানে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডই এখন বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ব্যান্ডে গ্রামীণফোনের আগেই ১৪ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ছিল। গতকালের নিলামে আরো ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনায় ১৮০০ ব্যান্ডে গ্রামীণফোনের মোট তরঙ্গ দাঁড়াল ১৯ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ। এছাড়া টুজির আরেকটি ব্যান্ড ৯০০তে অপারেটরটির ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে। এরই মধ্যে টুজির বিদ্যমান সব তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও পেয়েছে তারা।

বিদ্যমান প্রযুক্তি নিরপেক্ষ তরঙ্গের সঙ্গে নতুন এ তরঙ্গ যোগ হওয়ায় সেরা ফোরজি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছল বলে গতকাল নিলাম-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান গ্রামীণফোণের সিইও মাইকেল ফোলি। তিনি বলেন, এখন সফলভাবে ফোরজির বিস্তৃতি ও এর ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিতে সরকার যৌক্তিক নীতি গ্রহণ করবে বলে আশা করছি।

তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বাবদ তিন অপারেটর দিয়েছে মোট ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ১ হাজার ৭৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোন দিয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ, রবি ৪ কোটি ৩৪ লাখ ও বাংলালিংক ৫ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলার।

এদিকে তরঙ্গের ওপর ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিক্রি হওয়া তরঙ্গের ওপর এ হারে ভ্যাট আদায় করা হলে অপারেটরদের দিতে হবে আরো ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৪৯১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

ফোরজি সেবার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফোরজির জন্য গত ডিসেম্বর থেকেই রবি প্রস্তুত। আমরা লাইসেন্স পাওয়ার পর পরই অন্য অপারেটরদের চেয়ে আরো বেশি শহরে ফোরজি সেবা দিতে পারব। আমাদের কাছে বিভিন্ন ব্যান্ডের যে পরিমাণ কোয়ালিটি স্পেক্ট্রাম রয়েছে, তা দিয়ে মানসম্মত ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকব আমরা।

ফোরজি সেবা চালু করতে ২০ ফেব্রুয়ারি অপারেটরদের লাইসেন্স দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। নিলাম অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে সেলফোন অপারেটররা গ্রাহকসংখ্যার তুলনায় কম তরঙ্গে সেবাটি দিচ্ছে। এতে সেবার মান নিশ্চিত করতে পারছে না তারা। এ নিলামের মাধ্যমে তাদের হাতে বেশকিছু তরঙ্গ যোগ হলো। এতে অপারেটরদের সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

গতকালের তরঙ্গ নিলামে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। নিলাম শেষে তিনি বলেন, সেবা নিয়ে গ্রাহকদের কাছে দিন শেষে জবাবদিহি করতে হয়। নিলামের মাধ্যমে অপারেটরদের জন্য তরঙ্গের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেলফোন অপারেটরদের দায়িত্ব মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ