প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোনো উদ্যোগই কাজে লাগছে না

ডেস্ক রিপোর্ট : একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েও এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না। নিত্যনতুন কৌশল প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রীতিমতো দিশেহারা বোধ করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকটি চক্রের একাধিক সদস্যকে পাকড়াও করেও নাগাল পাচ্ছেন না প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারিগরদের। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার ফাঁস হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের প্রশ্নপত্র। এ নিয়ে চলমান এসএসসির সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হলো। পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও এখন নিজেদের অসহায়ত্ব মেনে নিচ্ছেন।

প্রতিবারের মতো গতকালও পরীক্ষা শুরুর আগেই হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ফঁাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

পরীক্ষার্থী ও সংশ্নিষ্টরা জানান, গতকাল সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে পদার্থবিজ্ঞানের বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ‘গ’ সেটের প্রশ্ন উত্তরপত্রসহ হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া যায়। এরপর তা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। আর পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ের ‘ঘ’ সেটের প্রশ্নপত্রও পাওয়া যায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯টি বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁস হলো।

এ বিষয়ে সমকালের পক্ষ থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ‘খ’ সেট পরীক্ষার প্রশ্নও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই তা ফেসবুকে পাওয়া যায়। একইভাবে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে পরীক্ষা শুরুর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে বাংলা দ্বিতীয়পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (বহুনির্বচনী) অভীক্ষার ‘খ’ সেটের উত্তরসহ প্রশ্নপত্র, ৫ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৮টা ৪ মিনিটে ইংরেজি প্রথমপত্রের ‘ক’ সেটের প্রশ্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৪৮ মিনিট আগে সকাল ৯টা ১২ মিনিটে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের ‘খ’ সেটের, ৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ‘খ’ সেটের, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে গণিতের ‘খ-চাঁপা’ সেটের প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়। এ ছাড়া আইসিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র গত রোববার ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে ‘ক’ সেটের প্রশ্ন পাওয়া যায়। আর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ‘গ’ সেটের প্রশ্নও ফাঁস হয়।

একের পর নিত্যনতুন উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা এখন হতাশা বোধ করছেন। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো, গ্রেফতার, ইন্টারনেট বন্ধ ও গতি কমানো, কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহূত ৩০০ মোবাইল ফোন ও টেলিফোন নম্বর শনাক্ত করাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন ফাঁসের প্রবণতা রোধ করা যায়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক গতকাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস চিহ্নিত করা গেছে। কেন্দ্র থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে। আর শিক্ষকরাই এতে জড়িত। তবে সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁস করায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কিছুতেই এই অপরাধ ঠেকানো যাচ্ছে না। একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আটক হলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এর সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউই ভয় পাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের এই নীতিনির্ধারক আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিই বদলে ফেলতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ‘সবাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গালি দিচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেটি কোথাও বলা হচ্ছে না। যারা গালি দিচ্ছেন, তারা কেউ পরামর্শ দিয়ে বলছেন না যে, ঠিক কোন কাজটি করলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব।’ সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ