প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির মুরোদ নেই!

তারেক : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ে বিএনপি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের মতে, এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চালানোর মতো নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। পাশাপাশি সরকারের কঠোর অবস্থান অনুমান করতে পেরেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ কারণেই শক্তি-সাহসহীন দলটি ‘অহিংস’ পথে থাকতে বাধ্য হয়েছে। বিএনপির এই অহিংস আন্দোলনকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে না দেখে নৈতিক পরাজয় হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে এই নীতিকে রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারণী-পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ায় নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন। এ কারণেই রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মতো ‘মুরোদ’ নেই বিএনপির।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলোর মতে, বিএনপি ধরেই নিয়েছে, তারা নির্বাচনে যাবে। এই মুহূর্তে দলটির চেয়ারপারসন কারাবন্দি। তাই নিজেদের অবশিষ্ট শক্তি ক্ষয় করতে চায় না। তাই আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করেছে। আর বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে তারা যে ভুল করেছে, তা বুঝতে পেরে দলীয় চেয়ারপারসনের শাস্তি হলেও সহিংস পথে পা বাড়ায়নি বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। সরকারের সফল রাষ্ট্র পরিচালনার কারণে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার মতো ইস্যু তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কোনও পর্যায়ের নেতাকর্মীই আন্দোলন-সংগ্রামের কোনও যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। সামনে নির্বাচন। এখন বিএনপি নেত্রী দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবন্দি। সব মিলিয়ে দলটি এখন মেরুদণ্ড ভাঙা। তাই আন্দোলন-সংগ্রামে সহিংস হওয়ার মতো মুরোদ নেই তাদের। এ কারণে দলটি বাধ্য হয়েই অহিংস থেকেছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শাস্তি হলেও বিএনপি সহিংস আন্দোলনে যেতে পারেনি হাতি-ঘোড়া পেছনে পায়নি বলে। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা সাহস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। দলটি নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে সহিংস আন্দোলনে যাওয়ার সাহস পায়নি। এটা বিএনপির কোনও রাজনৈতিক কৌশল নয়।’

ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি মনে করি, বিএনপির পলিসি অবশিষ্ট শক্তি ক্ষয় করা নয়, নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা। তাই তারা সহিংস আন্দোলন করে শক্তির অপচয় করেনি।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় বিএনপি নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। সহিংস হওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। অতীতে সহিংস আন্দোলন করে তাদের ক্ষতি হয়ে, সেই ভুল বুঝতে পেরেছে তারা।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শাস্তি হওয়ার পর বিএনপির সামর্থ্য ও প্রয়োজন যেটুকু ছিল, সে অনুযায়ী তারা আন্দোলন করেছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ে দলটি নৈতিকভাবে এতই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাহস-শক্তি কোনোটাই দলের নেতাকর্মীদের ছিল না। তাই তারা বড় ধরনের কোনও আন্দোলনে যেতে পারেনি। সহিংস আন্দোলনের সাহসই পায়নি।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারক খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হলেও বিএনপি অহিংস আন্দোলন করেছে বলে তাদের ধন্যবাদ। অবশ্যই বিএনপি যে চরিত্রের দল, তাতে তাদের এই আচরণকে অবিশ্বাস্য মনে করে জনগণ।’ তিনি বলেন, ‘তারা তাদের অতীত কর্মকাণ্ডে বুঝতে পেরেছে, তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই আর ভুল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।’ এটা রাজনীতিতে শুভ লক্ষণ বলে আমরা মনে করি।’ বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ