প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে নারিকেল মাইটের উপস্থিতি এবং দমনে নেই গবেষণা, নেই সুপারিশ

মতিনুজ্জামান মিটু: প্রধান ক্ষতিকারক পেস্ট হিসেবে চিহ্নিত নারিকেল মাইটের বাংলাদেশে উপস্থিতি এবং দমন সম্পর্কে নেই বিস্তারিত গবেষণা, নেই সুপারিশ। নারিকেলের ফলন শতকরা ৪২ ভাগ কমানোর জন্য দায়ি ভয়ংকর এই পেস্ট অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছড়িয়েছে এক দেশ থেকে আরেক দেশের গাছে গাছে। বাংলাদেশেও ছড়িয়েছে মহামারি আকারে।

বাতাস, নরিকেল, ডাব ও নারিকেল চারার মাধ্যমে দেশে থেকে দেশান্তরে মাইটের বিস্তার ঘটে থাকে। এছাড়া মৌমাছি, বোলতা ও মধু আহোরনকারি পাখির মাধ্যমেও ছড়িয়ে থাকে নারিকেল মাইট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি মন্ত্রনালয়ের বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্য এম. এনামুল হক জানান, মাইটের উপস্থিতি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৬৫ সালে মেক্সিকোতে। পর পরই এটি দেখা যায় ব্রাজিল ও আইভেরি কোস্টে। ১৯৯৮ সালের ভারতের কেরালায় নারিকেল মাইটের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। ভারতে ১৯৯৯ সালের শেষভাগে এ মাইট মনিটরিং এর জন্য বিস্তারিত সার্ভের আয়োজন করা হয়। ওই সার্ভে ফলাফলে প্রকাশ পায় সেখানকার প্রায় ৫৮৯ লাখ ফলন্ত নারিকেল গাছে মাইট আক্রমণের কথা। তখন থেকেই নারিকেল মাইট দমন ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেয় ভারত। নারিকেল চাষিদের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে মাইট সম্পর্কে গবেষণা এবং এদেশে মাইটের উপস্থিতি ও তার দমন সম্পর্কে বিস্তারিত সুপারিশমালা তৈরীর সুপারিশ করেন তিনি।

বছর খানেক আগে এই বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্যের দেয়া ওই সুপারিশের কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি। তাই অধরাই রয়ে গেছে কবে কখন কিভাবে বাংলাদেশে নারিকেল মাইটের বিস্তার ঘটেছে এবং বর্তমানে এর বাস্তব পরিস্থিতি কি?

অন্য মাইট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ‘ইরিওফিড’ নামে পরিচিত এ নারিকেল মাইটের আকার খুবই ছোট। প্রায় ১০-১৫ গুণ পাওয়ারের ম্যাগনিফায়িং গ্লাস ছাড়া খালি চোখে দেখা যায়না। লম্বায় প্রায় ২০০-২৫০ এবং চওড়ায় প্রায় ২০-৩০ মাইক্রোনের নারিকেল মাইটের ৪টি পা থাকে। পুরুষ মাইটের চেয়ে স্ত্রী মাইট আকারে কিছুটা বড়। ফুল ও ফলের জন্য বের হওয়া কাঁধি এবং তাতে ক্ষুদ্র কচি নারিকেল গাঁথা ধরার সঙ্গে সঙ্গে মাইট তার বোটার উপরিভাগের ক্যাপ বা খোলসের নীচেয় নরম অংশে অবস্থান নেয়। একটি স্ত্রী মাইট প্রতিদিন ৫-১০টি ডিম দেয়। নারিকেল বা ডাবের গায়ে গাঢ় বাদামি ছোবড়া দাগ দেখেই বোঝা যায় মাইট আক্রমণের লক্ষণ। আক্রমণের মাত্রা অত্যাধিক হলে কচি অবস্থায় অপূর্ণ ডাব মাটিতে ঝরে পড়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পক্ষ থেকে মাইট দমনে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। তবে এতে কাজ হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে প্রকল্পটির উপ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এ পেস্ট দমনের ব্যবস্থা আছে। তবে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে দু একটি গাছের জন্য ব্যবস্থা নিয়ে কাজ হচ্ছেনা। এক যোগে সাব গাছের জন্য ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া নারিকেলের মাইট দমন করা যাবেনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ