প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতবিরোধী বিএনপিকে সমর্থন করবে না বিজেপি : দীপ্তিমান সেনগুপ্ত

মাছুম বিল্লাহ : ‘ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘প্রেসক্রিপশনে’ এগোচ্ছে বিএনপি’ শিরোনামে ভারতীয় বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও সাবেক ছিটমহল আন্দোলনের সংগঠক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত দৈনিক যুগশঙ্খকে বলেছেন, আমাদের সঙ্গে কোনদিনই বিএনপির সর্ম্পক ছিল না। আর বিজেপি কখনও পাকপন্থি ভারত বিরোধী দলকে সমর্থন করবে না।

দৈনিক যুগশঙ্খের কলকাতা এডিশনের প্রধান প্রতিবেদক রক্তিম দাশকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছিল মোদিজির হাতেই। বিএনপির রাজনীতি এখন শেষের দিকে,যার সঙ্গে মূল ধারার রাজনীতির কোনও সর্ম্পক নেই। বিএনপি এখন দিশাহীন। তারা ভেবেছিল মোদিজি ধণ্যবাদ জানালে লাভ হবে। কিন্তু তা হয়নি।
এদিকে যুগশঙ্খে মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে নয়, এবার শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ দলগত ভাবে বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে সচেষ্ট এমনটাই খবর। সামনের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের নেতৃত্বে ২০ সদস্যর একটি দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রামমাধবের আমন্ত্রণে নয়া দিল্লি সফরে আসছে বলে জানা গিয়েছে।

উপমহাদেশের রাজনীতি ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের বর্তমান শাসকদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক। দেশটির শেষ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার এককভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতায় জয়লাভ করা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন ওঠেছিল,তখন মনমোহন সিং সরকারই একমাত্র আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই ভারত বিরোধী বলে পরিচিত খালেদা জিয়ার দল বিএনপির সঙ্গে ভারতের বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার একথা বলে থাকলেও বিজেপির তরফে কখনই প্রকাশ্যে একথা বলা হয়নি। মোদি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আগবাড়িয়ে ওই নেতারা বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। প্রকাশ্যে তারা বলেছিলেন, এবার হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সচেষ্ট হবে ভারত। কিন্তু তা হয় নি। বরঞ্চ মোদি সরকার ঢাকার সঙ্গে সর্ম্পকের মাত্রা আরও বাড়িয়ে গেছেন। ছিটমহল সমস্যার মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান করেছে। আর নরেন্দ্র মোদিও এধরণের পদক্ষেপ শুধু দুটি দেশকে নয়,ক্ষমতাসীন দুটি দলকেও কাছে আনতে সক্ষম হয়েছে। আর তারই ফলশ্রুতিতে আওয়ামী নেতাদের এই সফর।

গত জুনে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দেশের আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ পাঠান। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছেন, ‘আগামী ১০ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।’ সফরের অংশ হিসাবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে ২০ নেতার একটি তালিকা পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের শেষ দিকে আগামী বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যেই খালেদা জিয়া দুর্নীুতর অভিযোগে ৫ বছরের জন্য জেলে গেছেন। তাই বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া কতটা সম্ভব তা এষরন কোটি টাকার প্রশ্ন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা, আগামী নিবার্চন, খালেদা জিয়ার অবস্থান ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কন্নোয়নের বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাবে। তাছাড়া নির্বাচনের আগে ভারতের ক্ষমতাসীনদল বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরিও মনে করছে শেখ হাসিনার দল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত