প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দণ্ডিত তারেক চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে প্রমাণ করেছে তারা দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তারা দুর্নীতির পথ থেকে কখনো সরে আসবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়া পর তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় এমনই প্রতিক্রিয়া জানান আইন রাজনীতি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলেন, যে দলের প্রধান দুই নেতাই দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, সে দলের নৈতিকভাবে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকে না- যতক্ষণ সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বাদ দেয়া না হয়।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অনুসারে তার কোনো বক্তব্য-বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। এরূপ একজন ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার মাধ্যমে বিএনপি চরম দেউলিয়াপানা ও বেআইনি কাজ করেছে। তিনি বলেন, যে দলের প্রধান দুই নেতাই দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সে দলের নৈতিকভাবে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকে না- যতক্ষণ না সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বাদ দেয়া না হয়।

দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, বিএনপি তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে প্রমাণ করেছে, তারা দুর্নীতিকে সমর্থন করে। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে শাস্তি হোক আর যাই হোক, তারা দুর্নীতিবাজকে পরিহার করবে না। তারা দুর্নীতিবাজদের রাখতে গঠনতন্ত্র পর্যন্ত সংশোধন করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি দৈন্য পার্টি। দলের অনেক বয়স্ক নেতা থাকা সত্ত্বেও সাজাপ্রাপ্তকে দলের প্রধান করার অর্থই বিএনপি অন্য কারোর প্রতি ভরসা করতে পারে না। দলের সব ক্ষমতা মা-ছেলের মধ্যেই কুক্ষিগত রেখে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা জনগণের জন্য কিছুই করতে পারবেন না, বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়া অথবা কে থাকবেন- সেটি নির্ভর করবে দলের ওপর। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছুই বলার নেই। তবে তিনি জেলে থেকেও দল চালাতে পারবেন। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা সেটা চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। দুই বছরের অধিককাল শাস্তি হলে তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিএনপি বলছে, রাজনৈতিকভাবে তাদের নেত্রীকে হেয় করার জন্য ফাঁসানো হয়েছে। আবার সরকারি দল বলছে, দুর্নীতির করণেই তিনি জেলে গেছেন। এখানে নির্বাচন কমিশন কী বলবে। এটি আইন-আদালতের বিষয়। আর নৈতিকতা ছেড়ে দিতে হবে জনতার ওপর। জনতা তাদের কীভাবে নেবে সেটা প্রমাণ হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে বিএনপি সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ করেছে। জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে যাবে আর জনগণের টাকা আত্মসাৎ করবে, এদের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিবিদদের নীতিনৈতিকতার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা সম্পন্ন ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতি করে।

খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন থাকা অবস্থায় ৫ বছরের সাজায় জেলে অবস্থান করছেন। বিএনপির গঠনগন্ত্রে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দলীয় প্রধান হিসেবে থাকতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন বলেন, এটা একটি রাজনৈতিক বিষয়। কোন দলের কে সাজা পাবে বা নির্বাচন করবে সেটা নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয় নয়। এটি আদালতের বিষয়। তা ছাড়া কোনো দল যখন নির্বাচন কমিশনে গঠনতন্ত্র জমা দেয় তখন তাতে কোনো ব্যক্তির নাম লেখা থাকে না। সে কারণে বিএনপি তার দলের প্রধান হিসেবে কাকে রাখবে সেটি তাদের দলের সিদ্ধান্ত। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আদালতের বিষয়। আদালতই নির্ধারণ করবেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা। তবে নৈতিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামি দলের প্রধান হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি নির্বাচন কমিশনের এ সচিব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং এর পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে সেখানেই রাখা হবে। আর তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক হিসেবে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। সূত্র : ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত