প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বকশীবাজারের রায়
আলোচনায় ভোট রাজনীতি

মামুন : বকশীবাজারের অস্থায়ী আদালত থেকে নাজিম উদ্দিন রোড। স্বল্প এই দূরত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের প্রভাব। যদিও পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় শোনার পর বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঠাঁই হয়েছে নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারেই। এখানে বসে বসে হয়তো তিনি হিসাব কষছেন। যা একেবারেই জটিল। সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

বকশীবাজারের রায়ের পর পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। কিছুটা বিস্ময়করভাবেই বিএনপি কঠোর কোনো কর্মসূচির দিকে যায়নি। অনেকেই বিএনপির এই কৌশলের প্রশংসা করেছেন। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পৌঁছে দিতে কয়েক হাজার কর্মী মাঠে থাকলেও রায়ের পর কোথাও তারা সংঘাতে জড়ায়নি। গতকালের বিক্ষোভেও ঢাকাসহ সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। ঢাকায় মিছিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নিলেও অন্য সিনিয়র নেতাদের দেখা যায়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছিলেন অনুপস্থিত। মিছিলের শেষ দিকে অবশ্য পুলিশ ধাওয়া দিয়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সে যাই হোক, রায় ছাপিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে ভোট রাজনীতি নিয়ে। আলোচনায় রয়েছে খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎও। হয়তো সহসাই তিনি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন। তার জামিন আবেদনও দাখিল করা হবে। কিন্তু এরপর কী হবে? সবই অনিশ্চিত। উচ্চ আদালত কী তার জামিন মঞ্জুর করবেন? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন তিনি কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঠিকই বলেছেন, এটা নির্ধারণ করবে তার ভাষায় ‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট।’ যদিও সরকার কী চায় সে প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি-না সে প্রশ্ন যেমন রয়েছে তেমনই নির্বাচনের সময় তিনি কোথায় থাকবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

শুধু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাই নয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো তিন ডজনের মতো মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশ কয়েকটির রায় আগামী নির্বাচনের আগে হয়ে যেতে পারে। খালেদা জিয়া যদি মুক্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন সেক্ষেত্রে দৃশ্যপট হবে একরকম। আবার তিনি যদি ভোটের ময়দানে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে পরিস্থিতি হবে আলাদা। কারণ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পক্ষেও আগামী নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে বিএনপি কী করবে তা একটি বড় প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত ডা. জোবায়দা রহমান রাজনীতির ময়দানে আসেন কি-না তাও হবে দেখার বিষয়।
সরকারি দল এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে।

সম্প্রতি সিলেট এবং বরিশালে দুটি বড় সমাবেশে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুটি সমাবেশেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর আহ্বানে উপস্থিত জনতা নৌকায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন, চলতি বছর ডিসেম্বর মাসেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা ছাড়াও নানা প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে এরই মধ্যে হয়ে গেছে একাধিক জরিপ। প্রার্থীদের আমলনামা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে। এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আওয়ামী লীগ যখন ভোট প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন বিএনপি ব্যস্ত আদালত আর কারাগারে। শুধু দলের প্রধান নন, নেতাকর্মীদের আরো একটি বড় অংশ বন্দি রয়েছেন দেশের বিভিন্ন কারাগারে। সব নেতাদের নামেই রয়েছে একাধিক মামলা।

আগামী দিনগুলোতে বিএনপি নেতাদের বেশির ভাগ সময়ই কাটবে আদালত পাড়ায়। কারাগারেও যেতে হতে পারে আরো অনেক নেতাকে। দণ্ডের কারণে অনেক নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন।

দৃশ্যত রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তি এবং দল এখন রয়েছেন একেবারেই বিপরীত অবস্থানে। সবকিছুই সরকারের অনুকূলে। আগামী নির্বাচনের প্রচারণা আর ছক কষায় ব্যস্ত ক্ষমতাসীনরা। কোন মডেলের নির্বাচন হবে সেদিকে খেয়াল রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, অনিশ্চয়তার খাদে পড়া বিএনপির রাজনীতি কোন দিকে গড়ায় তাও হবে দেখার। নেতাদের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ১. সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। ২. ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি কি ঐক্য ধরে রাখতে পারবে। দলে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা কি হবে? খণ্ডিত বিএনপি নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের কোনো ছক কি রয়েছে। এতটুকু বলা যায়, রাজনীতির সামনের দিনগুলো হবে নাটকীয়। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত