প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদার সাজা পরও বিএনপি কেন হরতাল-অবরোধ দেয়নি?

ডেস্ক রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের পরও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ আছে দলটির কর্মসূচি। হরতাল-অবরোধের কর্মসূচির যায়নি দলটি। কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া এ ধরনের কর্মসূচি দিতে নিজেই বারণ করে গেছেন।

দলের নেতাকর্মীদের আবেগের কেন্দ্র খালেদা জিয়ার সাজার পরও কেন বিএনপি হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যায়নি এনিয়ে শুক্রবার রাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র বাংলা বিভাগের অনলাইন সংস্করণ।

এতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের প্রতিবাদে দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন। দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রথম দিনে শুক্রবার বিএনপির এসব বিক্ষোভ থেকে বড় রকমের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

এরপর দলটি কী ধরনের কর্মসূচি নিতে পারে তা নিয়ে নানান আলোচনা রয়েছে।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা এ মুহূর্তে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নিয়ে এগোতে চান।

একই সঙ্গে তারা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনগত লড়াইও চালাবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে- তারা আসলে নির্বাচন সামনে রেখে তাদের দলের নেত্রীর পক্ষে মানুষের সহানুভূতি এবং জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচির দিকে না গিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতে চাইছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নেত্রী আমাদেরকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমরা সেই ধরনের হরতাল-অবরোধের মতো কোন কর্মসূচিতে যাব না। আমরা নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের যে প্রতিবাদ চলছে, সেভাবে আমরা সোচ্চার হব। যেমন আমরা দু’দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছি।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে এবং পরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন যে সহিংস রূপ নিয়েছিল, এবার বিএনপি সে ধরনের আন্দোলনের দায় নিতে চায় না বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়।

এছাড়া বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। সেই নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে গিয়ে সেটাকে নির্বাচন পর্যন্ত লম্বা সময় টেনে নেয়া সম্ভব নাও হতে পারে বলে দলটির নেতাদের অনেকে মনে করেন।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সারাদেশের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়েছে। এটাকেও দলটি কাজে লাগাতে চাইছে। এসব বিবেচনা করে বিএনপি এখন মিছিল বা জমায়েত করার মতো কর্মসূচি নিয়েই এগোতে চাইছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেত্রীর পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে রবি-সোমবারের মধ্যে তার আইনজীবীরা আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, আপিল করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।

তবে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা- এনিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

অবশ্য মির্জা ফখরুল মনে করেন, তাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে যতদূর আলোচনা করেছি, এই সাজার মাধ্যমে শেষপর্যন্ত আমাদের নেত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। এটা তারা করতে পারবে না। এটা সম্ভব হবে না।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেনারেল এরশাদের আমলে কয়েক বার বন্দী হয়েছিলেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি এক বছরের বেশি সময় জেলে ছিলেন। কিন্তু এবারই প্রথম তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে গেছেন। সেটা বিএনপির রাজনীতি কী প্রভাব ফেলবে সেই প্রশ্নও উঠছে।

কিন্তু বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব না। বরং আমরা মনে করি যে, আমরা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হব। কারণ বেগম জিয়াকে আজকে যে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে এটি জনগণ মেনে নেয়নি, মেনে নেবে না।’ পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত