প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদকের ডিজি হচ্ছেন না বিতর্কিত বেলাল উদ্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট : বিতর্কিত কর কমিশনার, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) অপসারিত মহাপরিচালক বেলাল উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক হচ্ছেন না। তাকে দুদকের ডিজি করা হচ্ছে- এমন খবর চাওর হয়ে গেলে সংস্থাটির সর্বস্তরে অসন্তোষ, ক্ষোভ দেখা দেয়। এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া দায়িত্ব নিয়েই বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে সিআইসির ডিজি পদ থেকে অপসারণ করেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্র্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে বেলাল উদ্দিনকে অবিলম্বে এনবিআর থেকে সরিয়ে দিয়ে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা অগ্রাহ্য করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে রাজস্ব প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিনকে দুদকের ডিজি নিয়োগে প্রভাব সৃষ্টি করেন। এই কর্মকর্তা এ জন্য দুদক চেয়ারম্যানের কাছেও তদবির করেছিলেন। এমনকি ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিয়ে তাকে ডিজি করার জন্যও সুপারিশ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যানের দৃঢ়তায় বিতর্কিত বেলাল উদ্দিনকে দুদকে নেয়া হচ্ছে না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। দুদকে প্রেষণে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে কর্মকর্তার সততা, দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। চাকরি জীবনে যাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নেই- এক কথায় ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তারাই দুদকে নিয়োগের সুযোগ পান। এ পর্যায়ে বেলাল উদ্দিনের নাম উঠলে রাজস্ব প্রশাসন এবং দুদকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সিআইসির ডিজি নিয়োগের পর সাবেক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় বেলাল উদ্দিন অনেকটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহলে বেলাল উদ্দিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কেলেঙ্কারি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ করা হয়। এমনই এক অভিযোগ পেয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানকে ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, ‘আই ওয়ান্ট দিজ অফিসার আউট অব এনবিআর। আই ইন্সট্রাক্টেট সেক্রেটারি চেয়ারম্যান, (এনবিআর) ফর সাম অ্যাকশন হুইচ হি হেজ নট ইয়েট। হি শুড টক টু মি অ্যাবাউট ইট ইমিডিয়েটলি।’ অর্থাৎ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই কর্মকর্তাকে এনবিআরের বাইরে দেখতে চাই। আমি তার বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সচিবকে (এনবিআর চেয়ারমান) নির্দেশ দিয়েছি, যা এখনও করা হয়নি। এ সম্পর্কে অবিলম্বে এনবিআর চেয়ারম্যানকে আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন গত ২১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তা কয়েক মাসেও কার্যকর হয়নি। এরপর নতুন এনবিআর চেয়ারম্যান যোগ দিয়েই ১০ জানুয়ারি বেলাল উদ্দিনকে এনবিআরের সিআইসির মহাপরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করে এনবিআরে সংযুক্ত করেন।

জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের পরপরই বিসিএস (কাস্টমস ও ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা যৌথভাবে তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা সিআইসির ডিজি বেলাল উদ্দিনের নজিরবিহীন ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মকর্তাদের অহেতুক হয়রানি, আয়কর-কাস্টমস কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত ফোনকল রেকর্ড করে কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়াসহ নানা অভিযোগ করেন। অ্যাসোসিয়েশন নেতারা বেলাল উদ্দিনের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানান। যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত