প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট প্রকট হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট ব্যয়বহুল রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় উৎপাদনে আসছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালপত্র আসতে বিলম্ব, অর্থায়ন জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এই প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের তিন থেকে চার মাস পরে উৎপাদনে আসবে। এতে গ্রীষ্ফ্ম ও সেচ মৌসুমের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের গৃহীত পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে গ্রীষ্মে সংকট প্রকট হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগে এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উদ্যোক্তাদের দ্রুত তাগাদা দিতে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমের চাহিদা মেটাতে সরকার বিনা দরপত্রে প্রায় এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছিল। তেলভিত্তিক বলে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুতের মূল্যও বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্পগুলো। ডিজেলভিত্তিক ৮০০ মেগাওয়াট চলতি বছরের মার্চে এবং ফার্নেস অয়েলচালিত এক হাজার মেগাওয়াট চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে উৎপাদনে আসার কথা। এর মধ্যে ডিজেলভিত্তিক ৩০০ এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৪০০ মেগাওয়াটের কয়েকটি প্রকল্প এই সময়সূচি মানতে পারবে না বলে সূত্র জানিয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সংকটময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে রেন্টাল/কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর জোর দেয় সরকার। অধিকাংশ রেন্টাল প্রকল্প তেলভিত্তিক ছিল। এগুলোর উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় সরকার রেন্টাল ও তেলভিত্তিক প্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় রেন্টাল প্রকল্পের মেয়াদ বার বার বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া গতবছর আবার তেলভিত্তিক কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর গ্রীষ্ফ্মকালীন সময়ে চাহিদার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। লোডশেডিং বা লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। সক্ষমতা থাকলেও গ্যাসের অভাবে অনেক কেন্দ্র বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা সরকারের প্রাক্কলিত ধারণার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই সমস্যার সমাধানে গত বছরের জুনে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্রুত উৎপাদনে আনতে দরপত্র ছাড়াই দু’মাসের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করা হয়। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম ঠিক করা হয়। সেপ্টেম্বরেই উদ্যোক্তাদের প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অনেক উদ্যোক্তা চুক্তির আগেই প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেন। কিন্তু কয়েকজন উদ্যোক্তা পিছিয়ে পড়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সময়মতো উৎপাদনে আসতে পারবে না চুক্তি অনুসারে তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হবে। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য প্রতিদিন ২০০ ডলার জরিমানা আদায়ের নিয়ম রয়েছে।

অনুমোদিত বেসরকারি মালিকানাধীন ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ২০ টাকার ওপরে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে গড়ে সাড়ে আট টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। পিডিবির হিসাব মতে, ফার্নেস অয়েলের ছয় কেন্দ্র থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে বছরে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আর ডিজেলভিত্তিক ৮০০ মেগাওয়াটের চার কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বছরে বাড়তি খরচ হবে সাত হাজার কোটি টাকা।

অনুমোদিত ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বাংলা ট্রাক দাউদকান্দি ও নওয়াপাড়ায় মোট ৩০০ মেগাওয়াটের দুটি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি এগ্রিকো কেরানীগঞ্জে ২০০ এবং এপিআর নামে একটি কোম্পানি কেরানীগঞ্জে ৩০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সামিট গ্রুপ কড্ডায় ৩০০, ওরিয়ন খুলনায় ১০০, কনফিডেন্স গ্রুপ বগুড়ায় ১১৩, মিডল্যান্ড পাওয়ার আশুগঞ্জে ১৫০, একর্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার জুলদায় ১০০ ও দেশ এনার্জি চাঁদপুরে ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাবে। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত