প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিফল জানা ও বিশ্বাস করা কুফরী

সাইদুর রহমান: ভালো মন্দের তাকদির একমাত্র আল্লাহই জানেন। তিনিই একমাত্র গায়েব তথা অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী। অন্য কোন মাখলুকের সাধ্য নেই তার এই ক্ষমতায় অংশিদারি করা। ইসলামে রাশিচক্রে বিশ্বাস ,জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা ও বিশ্বাস হারাম। বিশ্বাস নিয়ে জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া, তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জ্যোতিষশাস্ত্রের বই কেনা, রাশিফল পড়া সবকিছুই নিষিদ্ধ। প্রথমত এর মাধ্যমে জ্যোতিষবিদ দাবি করেন, ভবিষ্যৎ জ্ঞান তার কাছে রয়েছে। অথচ কোরআনে আল্লাহ বলেছেন : অদৃশ্যের চাবিকাঠি একমাত্র তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না (সূরা আন’আম : ৫৯) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘বল আল্লাহ ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না’ (সূরা আন-নামল : ৬৫)

জ্যোতিষীর কথায় বা জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে বিধৃত রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : ‘যে জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি শাখা সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করল সে জাদুবিদ্যার একটি শাখার শিক্ষা গ্রহণ করল’ (আবু দাউদ ও ইবনে মাযাহ)।

এ বিষয়ে হাদীসে আরও এসেছে, হজরত হাফসা (রা.) কর্তৃক বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে গণকের কাছে যায় এবং কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৫৫৪০)

জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা হারাম বলে প্রমাণিত হয়েছে ইবনু আব্বাস (রা) এর বর্ণিত হাদীছের ভিত্তিতে। উক্ত হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জ্যোতিষশাস্ত্রের কোন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করার অর্থ হচ্ছে যাদু বিদ্যার জ্ঞান লাভ করা। সুতরাং এভাবে কেউ যত জ্ঞান অর্জন করল, ততই তাঁর গুনাহের পরিমাণ বাড়তে থাকল।’ (সুনান আবু দাউদ, হা/৩৯৮৬)

জ্যোতিষীর বলা অথবা জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে থাকা অথবা তার রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করা সরাসরি কুফরির নামান্তর। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,যে কোন ভবিষ্যতদ্রষ্টা গণকের নিকট গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, মুহাম্মদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করল।( আহমাদ ও আবু দাউদ )

পূর্বে বর্ণিত হাদিসের মত এই হাদিসে শাব্দিকভাবে গণকের সম্বন্ধে উল্লেখ করা হলেও জ্যোতিষবিদদের জন্যেও সমভাবে প্রযোজ্য। উভয়ই ভবিষ্যতের জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবি করে। জ্যোতিষবিদদের দাবি সাধারণ গণকদের তৌহিদের বিরোধিতা করার মত। সে দাবি করে যে মানুষের ব্যক্তিত্ব নক্ষত্র দ্বারা নিরূপিত এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড এবং তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নক্ষত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত