প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনদুর্ভোগ পুঁজি করে চলছে খাল পারাপার বাণিজ্য

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাউজিং এলাকাখ্যাত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে গ্যাস, পানি, ড্রেনসহ নানা সমস্যা। অথচ অভিযোগ নিয়ে কার্যালয়ে এসেও কাউন্সিলরের দেখা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। দেখভালের অভাবে এলাকায় বাড়ছে অনিয়ম। এ নিয়ে হতাশ এলাকাবাসী। অন্যদিকে খাল পারাপার নিয়ে জনদুর্ভোগকে পুঁজি করে বহু বছর ধরে এলাকায় চলছে অবৈধ ব্যবসা। সেটিও দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসীর দাবিÑ কাউন্সিলরের মদদেই এটি চলছে।

আদাবর, বায়তুল আমান, শেকেরটেক, মনসুরবাগ, শ্যামলী রিং রোডের একাংশ, পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটি, মনসুরাবাদ, কমফোর্ট হাউজিং, সুনিবিড় হাউজিং, নবোদয় হাউজিংসহ আরও কতগুলো হাউজিং এলাকা নিয়ে গঠিত রাজধানী উত্তরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। আড়াই লাখ জনসংখ্যার এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ব্যস্ত থাকেন সব সময়। সাক্ষাৎকারের জন্য মাসখানেক চেষ্টার পরও দেখা মেলেনি এই কাউন্সিলরের। এলাকার অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার সাক্ষাতের সময় দিয়েও পরে নানা কারণ দেখিয়ে বাতিল করেছেন তা। টেলিফোনেও কথা বলেননি ঠিকভাবে। শেষমেশ গতকাল দেখা দেবেন বলে কার্যালয়ে ডাকলেও দিনভর অপেক্ষা করে দেখা দেননি তিনি। ফোন দিলেও কেটে দিয়েছেন। এক কথায়, এড়িয়ে গেছেন তিনি।

গতকাল কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, এ রকম আরও অনেকেই বসে আছেন দীর্ঘক্ষণ। অথচ কাউন্সিলরের দেখা নেই। অফিসের হালও করুণ। একটি মাত্র কম্পিউটার, সেটিও বিকল। কার্যালয়ের মতো এলাকাজুড়েও চলছে অনিয়ম। ওয়ার্ডের বড় অনিয়ম মনসুরাবাদের গৈদার খাল কেন্দ্র করে।

আদাবর ও দারুসসালাম এলাকার মধ্যে সহজ যাতায়াত মনসুরাবাদের পার্শ্ববর্তী গৈদার খালের ওপর দিয়ে। একটি সাঁকোর অভাবে মাত্র ২০-২৫ ফুট প্রশস্থ এই খালটি নিয়ে কষ্টে আছেন এলাকাবাসী। আর এই ছোট্ট দুর্ভোগটি পুঁজি করে বহু বছর ধরে এখানে অবৈধভাবে চলছে নৌকা পারাপার ব্যবসা। একজন বাসিন্দা বলেন, এইটারে নৌকা পারাপার বলে না। নৌকা বাইতে হয় না এখানে। মাঝি নৌকা ঘোরালেই পার হয়ে যায়। তবু দিতে হয় ৫ টাকা করে।
প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক মানুষ নৌকায় পার হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা তোলা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। মাসে যা দাঁড়ায় দেড় লাখ টাকা। আর বছর ঘুরে হয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এভাবেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জনগণের ভোগান্তিকে জিম্মি করে। অথচ কোনো পুল তো দূরে থাক, সামান্য একটি সাঁকোর ব্যবস্থা করতে পারেননি কাউন্সিলর। উল্টো কাউন্সিলর বিষয়টি জানার পরও এখানে দিব্যি চলছে এ ব্যবসা। খোদ কাউন্সিলরের ছত্রছায়ায়ই চলছে এ ব্যবসা বলে জানান এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, কাউন্সিলর চাইলেই এখানে অন্তত একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিতে পারেন। একটি সাঁকো করতে তো আর লাখ টাকা লাগে না। কিন্তু তিনি করেননি। তা হলে তো এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে ভাই!

শাম্মী আখতার নামে এক গৃহিণী বলেন, এই পারাপার নিয়ে আমাদের কষ্ট অনেক দিনের। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসাসহ আমার পরিবারের প্রতিদিন ৩০-৪০ টাকা করে মাসে প্রায় হাজার টাকা খরচ হয় এখানে।
এদিকে অবৈধভাবে ভরাট ও দখলের চাপে খালটির অবস্থা মৃতপ্রায়। সরেজমিন দেখা গেছে, দুই ধারের অনেক জায়গায় মাচা তৈরি করে ঘেরাও দিয়ে চলছে ভরাট ও দখল। সেখানেও অবৈধভাবে চলছে দোকান ও গ্যারেজ ব্যবসা। অন্যদিকে ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর খালের দশাও খারাপ। স্লুইসগেটের ওদিকে খালের অস্তিত্বই বিলীন প্রায়।
ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে। কিন্তু কাউন্সিলরের তদারকির অভাবে সেখানেও চলছে অনিয়ম। কমফোর্ট হাউজিং, মনসুরাবাদ, সুনিবিড় হাউজিংসহ অনেক এলাকাই নোংরা।

ওয়ার্ডে লাগেনি এলইডি বাতির ছোঁয়া। ওয়ার্ডের ১ লাখ ৭ হাজার ভোটারের জন্য নেই তেমন নাগরিক সুবিধা। গ্যাস-পানি সমস্যাসহ এলাকায় নেই কোনো কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন পার্ক ও খেলাধুলার উন্মুক্ত মাঠ। এলাকায় সরকারি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি এলাকায় একটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত নেই। অথচ ভরপুর আছে মাদকের প্রকোপ। মনসুরাবাদ, সুনিবিড় হাউজিং ও শ্যামলী হাউজিংসহ ওয়ার্ডের অনেক অংশে সরব আছে মাদক। সরেজমিন স্লুইসগেটের উন্মুক্ত জায়গায় দিনেরবেলায়ও দেখা গেছে মাদক সেবন। সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত