প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের আগে একে অন্যের উপর হাতুড়ি চালাচ্ছে শ্রীলংকার দলগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শ্রীলংকায় আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একে অন্যের বিরুদ্ধ হাতুড়ি চালাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অদ্ভুত আচরণ করছেন। এর কারণ হলো শ্রীলংকার রাজনৈতিক শ্রেণী ও ভোটার উভয়েই আসন্ন নির্বাচনকে অনেকটা ক্ষমতাসীন সরকারী জোট এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে গণরায় হিসেবে দেখছেন।

প্রথম তোপ চালান প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা, যিনি শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) প্রধান। ভোটার ও প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসাকে অনেকটা দেখানোর জন্য যে নিজের ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের ভেতরেও দুর্নীতিকে তিনি প্রশ্রয় দেন না, সিরিসেনা ২০১৫ সালের সেন্ট্রাল ব্যাংকের বীমা কেলেঙ্কারির রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

রিপোর্টে দেখা গেছে, সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নর অর্জুনা মাহেন্দ্রানের জামাতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১১৪৫০ মিলিয়ন লংকান রুপি লুট করেছে। এই গভর্নরকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গে যিনি মাহেন্দ্রানের কথার উপর বিশ্বাস করে এইসব ঘটনার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি।

সিরিসেনা এমনকি বিক্রমাসিঙ্গের ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও এই কেলেঙ্কারির জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন, কারণ তারা এই বীমা কেলেঙ্কারির বিষয়টি সংসদে আলোচনা করতে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিঙ্গে এবং তার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেই থেমে যাননি সিরিসেনা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাহিন্দা রাজাপাকসার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, আগের শাসনামলেও ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একই ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে সেন্ট্রাল ব্যাংকে।

এসএলপিপি এর প্রতি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সিরিসেনা এই দলের লোকদেরকে এসএলএফপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এসএলপিপি “দুর্নীতিবাজদের নোংরা আবর্জনা ছাড়া আর কিছু নয়”।

ইউএনপির প্রধানতম রাজনৈতিক শত্রু হলো রাজাপাকসার এসএলপিপি। রাজাপাকসার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিঙ্গে সোমবার বলেছেন, দুর্নীতি ও প্রতারণা বিরোধী প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন প্রস্তাব করেছেন যাতে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অপরাধে রাজাপাকসাকে সমস্ত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

এসএলপিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিক্রমাসিঙ্গে বলেন, “এসএলপিপির সাথে থাকার কোন অর্থ হয় যে দলের নেতার সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, যার মানে হলো সে জীবনে আর নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারবে না, এবং ভোটও দিতে পারবে না?

রাজাপাকসার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলো তদন্তের জন্য বিশেষ সিআইডি টিম গঠন করেছেন বিক্রমাসিঙ্গে। এখন তিনি স্পেশাল হাই কোর্ট গঠনের দিকেও যাচ্ছেন, যেখানে দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলার দ্রুত বিচার হবে।

এদিকে, সিরিসেনার এসএলএফপি নিয়ে বিক্রমাসিঙ্গে কিছু না বললেও তার দলের লোকজন প্রেসিডেন্টকে ছেড়ে কথা বলছে না। এসএলপিপি এমপিদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন যে স্পিকার ৬ ফেব্রুয়ারি বীমা কেলেঙ্কারি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনায় রাজি হয়েছেন। যদিও এ সময়টাকে প্রাক-নির্বাচনী “নিরব সময়” হিসেবেই গণ্য করা হয়।

১০ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে নজর রেখে সব দলই পার্লামেন্টে বীমা কেলেঙ্কারি নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ এই নির্বাচনই শ্রীলংকার রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে যাচ্ছে। সূত্র : সাউথ  এশিয়ান মনিটর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত