প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টের অপসারণ প্রচেষ্টায় আদালতে বিরোধী নেতারা

মাছুম বিল্লাহ: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে অপসারণের সব ধরণের চেস্টা অব্যাহত রেখেছে দেশটির বিরোধী জোট। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে বিরোধী জোট প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে অপসারণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ, জুমহুরি পার্টির প্রধান জসিম ইব্রাহিম, আদালত পার্টির উপনেতাসহ সব বিরোধী নেতা একযোগে গত রোববার সুপ্রিম কোর্টে আবদেন দাখিল করে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আইন ভঙ্গ করেছেন এবং ওই পদে থাকার উপযুক্ত নন মর্মে রুল জারির আবেদন করেছেন।

বিরোধী দল নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট যেসব কারণে ইয়ামিনের অপসারণ চেয়েছে: ১. নজিরবিহীন দুর্নীতি, ২. মালদ্বীপের জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা লঙ্ঘন, ৩. সংবিধানপরিপন্থী আইন পাসের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখ-গত অখ-তা হুমকিগ্রস্ত করা, ৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আইন সমুন্নত করতে ব্যর্থতা।
আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, অডিটর জেনারেল, প্রসিকিউটর জেনারেল, দুর্নীতি দমন কমিমন ও পুলিশ বাহিনীর প্রধানদের প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করেন। ফলে এসব বিভাগ নিরপেক্ষ ও ভীতিহীনভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরোধ করতে পারছে না।

এ প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বিচার বিভাগের দায়িত্ব হলো, সংবিধান সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন বজায় রাখা, মালদ্বীপের ভূখ-গত অখ-তা নিরাপদ রাখা, নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিরাপদ রাখা এবং সাংবিধান ও আইনানুসারে প্রেসিডেন্টকে কর্তব্য ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। বিরোধী দল সংবিধানের ১১৭(বি) ধারার আলোকে প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করার আবেদন জানায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে।

তারা আবেদনে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত, প্রতিবেদনে পেশ ও বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করার জন্যও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানায়।

এদিকে জুমহুরি পার্টির প্রধান জসিম ইব্রাহিমের মালিকানাধীন রিসোর্টগুলোতে করফাঁকি অভিযোগ তদন্তের জন্য অভিযান চালানো এবং পাশ্চাত্যের পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শূকর ও অ্যালকোহলের বরাদ্দ বাতিল করার পর শনিবার সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার জন্য এমপি ও চাচাত ভাই মামুন ফারিসকে গ্রেফতার করেন ইয়ামিন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সরকার আশঙ্কা করছে, ফারিস মুক্ত থাকলে তিনি তদন্তে বাধা দিতে পারেন, প্রমাণ গোপন করতে পারেন, প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন, প্রমাণ ধ্বংস করতে পারেন, সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র প্রমাণ উত্থাপন করেন, এর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে।

ফারিসের বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম বিরোধীদের এক সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা জানি না নির্বাচন হবে কিনা। আমারা জানি না ফলাফল কেমন হবে। আমরা জানি না নির্বাচনে কোন কোন জিনিস সম্পৃক্ত হবে। ফলে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলার দরকার নেই।’

তার এই মন্তব্যে সরকারি মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপের (পিপিএম) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ক্ষুব্ধ হন। পিপিএমের উপনেতা আবদুল রহিম আবদুল্লাহ এক টুইটবার্তায় বলেন, নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য আহ্বান অবশ্যই তদন্ত করা হবে। এটি কোনো কৌতুক নয়। তিনি বলেন, দেশের ও জাতির স্বার্থে নেতাদের গোপন এজেন্ডা ফাঁস করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আদম শরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালাবে, তহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার যন্ত্র পিএসএমকে বলেন, আমরা দেশের শান্তি বিঘিœত হওয়ার সুযোগ দেবো না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত