প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যদি খালেদা অপরাধী হন, বিএনপির হাল ধরবেন কে ?

রাশিদ রিয়াজ : বিএনপির সিনিয়র নেতারা ৩ সদস্যের একটি ও ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করে দলের জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছেন। যদি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি মামলায় অপরাধী হন তাহলে তার অবর্তমানে বিএনপিকে পরিচালনার জন্যে এ দুটি কমিটি কাজ করবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় দেওয়া হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে  বেগম জিয়ার সাজা হলে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে এ ধরনের বক্তব্যকে বিএনপির নেতারা গুজব বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে সরকারি দলের একাধিক নেতা বলেছেন, বেগম জিয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনো হাত নেই, বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

মামলায় যদি বেগম খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হন কিংবা তাকে কারাগারে যেতে হয় তহালে তার পক্ষে দলকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুব কমই থাকবে। এরফলে দেশের প্রধানধারার রাজনীতিতে খালেদার অনুপস্থিতিতে এক বিরাট শূণ্যতা সৃষ্টি হবে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্বে শূন্যস্থান তৈরি হবে।

বিএনপির একাধিক নেতার ধারণা দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তৈরি হলে দলের হাল ধরতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেছেন, সিনিয়র নেতাদের জোবায়দা রহমানকে সহায়তা করার জন্যে আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে জোবায়দা রহমান আদতে রাজনীতিতে ইচ্ছুক কি না সে নিয়েও ধোঁয়াশায় রয়েছেন বিএনপির নেতারা। তাদের কারো কারো মতে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের স্বার্থেই এবং জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের রাজনীতিতে জোবায়দার আগমন ঘটতে পারে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে চেয়ারপারসন বেগম জিয়া নিজেই দলের এক বৈঠকে তার অনুপস্থিতি ঘটলে ৩ ও ৫ সদস্যের দুটি আপৎকালীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এ কমিটিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মওদুদ আহমদ থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই কমিটিকে সহায়তা করবেন অপর ৫ সদস্যের কমিটি। এ কমিটিতে তিনজন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা কিংবা একজন যুগ্ম সম্পাদক থাকতে পারেন। এ দুটি কমিটির সম্ভাব্য সদস্যদের কেউ গ্রেফতার হলে তার স্থলে আরেক নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির বুদ্ধিজীবী হিসেবে খ্যাত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া নিজেও তার অনুপস্থিতিতে দলের হাল কে ধরবেন তা নিয়ে চিন্তা করছেন। বিএনপির মত বড় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মত যোগ্য সম্পন্ন নেতার অভাব হবে না। বিএনপির নেতারা এও জানেন বেগম জিয়া যদি কারাগারে যান তাহলে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে তিনি নিজেও ভেবেছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির শূণ্য পদ পূরণের পাশাপাশি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ইউনিট তাদের কমিটি গঠনের জন্যে কাজ করছে। দলের একজন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বলেন, এ কমিটির ৩ জন সদস্য, ছাত্র ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, উভয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও দুই বিশেষ সচিবের পদ প্রায় চূড়ান্ত।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে যিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি দূরদর্শিতা ছাড়া বিবেচনা করবে না। যদি সরকার তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে বিএনপিকে পরিচালনার মত নেতৃত্বের অভাব হবে না। খালেদার অনুপস্থিতিতে দল চালানোর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গী বিএনপির আছে। সরকার কিংবা সরকারি দলের কোনো নেতা যদি মনে করেন খালেদাকে গ্রেফতার করলে বিএনপির রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে, দলটি ভেঙ্গে যাবে তাহলে তারা ভুল করছে। সরকার শত চেষ্টা করেও বিএনপিকে বিভক্ত করতে পারবে না। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, রাজপথে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি এও জানান, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত