প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলবায়ু তহবিলের টাকা ফারমার্স ব্যাংকে কেন

ডেস্ক রিপোর্ট : ফারমার্স ব্যাংকের মতো লো-রেটিং ব্যাংকে জলবায়ু তহবিলের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কেন রাখা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলা হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের মতো একটি ‘লো-রেটিংয়ের’ ব্যাংকে ৫০০ কোটি টাকা কেন রাখা হল কমিটি সে প্রশ্ন তুলেছে। তহবিল কর্তৃপক্ষ তাদের জবাব দিয়েছে। তারা কমিটিকে জানিয়েছে, ফারমার্স ব্যাংক আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য কিছু সময় চেয়েছে। তারা টাকা ফেরত দেবে। এরপর ভবিষ্যতে শুধু সুদের হার না দেখে ব্যাংকের অবস্থা দেখে এই টাকা রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।’

সংসদীয় কমিটির সভাপতি বলেন, ‘জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আমানত মোট ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত। আমানতের বিপরীতে ৮৭১ কোটি টাকা সুদ পাওয়া গেছে। সুদের ৬৪৪ কোটি টাকা অব্যবহৃত আছে।’ বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ১ হাজার ৩২১ কোটি টাকার বেশি জমা আছে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান, মতিঝিল ও গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখায় জমা আছে মোট ৪৯৯ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফারমার্স ব্যাংক সবচেয়ে বেশি সুদ দেয়ার কথা বলেছিল। ফারমার্স ব্যাংকের সর্বনিন্ম সুদের হার ৯ শতাংশ। কিন্তু, এসব হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নবায়ন করতে পারছে না। তারা এই টাকা ফেরতও দিতে পারছে না।

ব্রিফিংয়ে হাছান মাহমুদ আর বলেন, যশোর রোডের শতবর্ষী গাছগুলো কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিয়মানুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়নি। এমনকি বনবিভাগের মতামতও নেয়নি। ফলে ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। আদালতের আদেশে ওই গাছ কাটা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গাছগুলো কাটা যাবে না। গাছ রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে হবে। এছাড়া সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কাজ করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল করার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ ও মো. ইয়াসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে ৪০০ কোটি টাকার বনজ সম্পদের ক্ষতি : গত আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজার অঞ্চলের ৪০০ কোটি টাকার বনজ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বনের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে। আর পরিবেশগত ক্ষতি কয়েক হাজার কোটি টাকা। কারণ এই সময়ে পাহাড়, জলাশয়, সমুদ্র সৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতের বিপর্যয় নেমে এসেছে। কমিটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ : কমিটির বৈঠকে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একের পর এক পিটিয়ে বাঘ হত্যার ঘটনায় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঘ রক্ষার পাশাপাশি বাঘের বংশ বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত