প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে অধ্যক্ষকে মারধর করেছে কাউন্সিলর

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: থানার এক দারোগার উপস্থিতিতে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও তার সহযোগীরা জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর শেরে বাংলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষর বাসায় হামলা চালিয়ে অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে অধ্যক্ষর উপজেলা সদরের বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে ।

অধ্যক্ষ মোঃ তৌহিদুর রহমান ইরান জানান, বেলা এগারোটার দিকে তার পুত্র প্রথম শ্রেণীর ছাত্র নাফিজ আব্দুল্লাহ আতিক পার্শ্ববর্তী ইচলাদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার অনুষ্ঠান উপভোগ করতে যায়। এসময় স্কুলের সামনের সড়কে বসে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় আতিককে স্বজোরে ধাক্কা দেয়।এতে আতিক গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

অধ্যক্ষ আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে গিয়ে পুত্রের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি থানার ওসিকে অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক থানার এসআই ফরিদ হাসপাতালে পৌঁছে অধ্যক্ষকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসআই ফরিদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনি পরিত্যক্ত অবস্থায় নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় আনার সময় বাঁধা প্রদান করেন উজিরপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেমায়েত হোসেন সরদারের স্ত্রী হিরা বেগম ও তার জা তানিয়া বেগম। তাদের বাঁধা উপেক্ষা করে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হলে অধ্যক্ষ তৌহিদুর রহমানকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন হিরা ও তানিয়া বেগম।

অধ্যক্ষ আরও জানান, এ ঘটনার পর বিকেল তিনটার দিকে পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন সরদার, তার সহদর আনিস সরদার ও মনির হোসেনের নেতৃত্বে ৪০/৫০জন সহযোগীরা উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন তার বাসায় হামলা চালায়। এসময় তিনি (অধ্যক্ষ) মোবাইল ফোনে হামলার বিষয়টি উজিরপুর মডেল থানার ওসিকে অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক থানার এসআই তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হামলাকারীদের নিভৃত করে এসআই তৌহিদুল অধ্যক্ষকে ঘরের দরজা খোলার জন্য বলেন। দরজা খোলার সাথে সাথেই কাউন্সিলর ও তার ভাইয়েরা দারোগা তৌহিদুলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে অতর্কিতভাবে অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। এসময় স্বামীকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা অধ্যক্ষর স্ত্রী আটিপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক শাহানারা মনিকে মারধর করে শ্লীলতাহানী করে।

খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার ওসি গোলাম সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্পাদনা: উমর ফারুক রকি

সর্বাধিক পঠিত