প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি গুপ্তচর

ডেস্ক রিপোর্ট: সব মহলের সমালোচনার মুখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করে মন্ত্রিসভায় পাস হয় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’। সরকার ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি করলেও মূলত নতুন আইনে বিষয়গুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংযোজিত ৩২ ধারার বিরুদ্ধে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন সাংবাদিকরা। নিজেদের কাজ করার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিকরা ভার্চ্যুয়াল আন্দোলন আন্দোলন শুরু করেছেন। আর তাদের এই আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য #আমিগুপ্তচর (#=হ্যাশট্যাগ)।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের গোপনীয় বা অতিগোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে গোপনে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ জন্য ১৪ বছরের জেল এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় কোনো অনিয়ম তুলে ধরতে গেলে এই আইনের ৩২ ধারা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার সুযোগ আছে। যদি তাই হয় তাহলে ‘আমরা গুপ্তচর’। কারণ পেশাগত কারণে এবং সমাজের অনিয়ম তুলে আনতে সাংবাদিকরা গোপনে চিত্র ধারণ করে রিপোর্ট করে থাকেন।

একাত্তর টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট পারভেজ নাদির রেজা তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, … ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ নম্বর ধারার এই অপরাধ আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনে বহুবার করেছি। যেহেতু আমি আমার অনেক সহকর্মীর মতো এই পেশা এখনো ছেড়ে যাইনি, বিদেশে পাড়ি দেইনি। যেহেতু আগামী দিনগুলোতেও সাংবাদিকতা করেই যেতে চাই, সেহেতু আমি নিজেকে আইনের ভাষায় গুপ্তচর হিসেবে ঘোষণা করলাম। আসুন স্বঘোষিত এই গুপ্তচরকে গ্রেফতার করুন এবং সাংবাদিকতার গলাটিপে হত্যা করার মিশনে সফল হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। #আমিগুপ্তচর

টিভিএনএ’র ইনচার্জ সাংবাদিক এনামুল হক বলেন, ৫৭ ধারার জন্য আমরা বহুদিন থেকে আন্দোলন করছিলাম। এই ধারাটি বাতিল করা হলেও বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩২ নম্বর ধারা তার থেকে জঘণ্য। এর দ্বারা সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন আরো বাড়বে।

জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এভাবে কোনদিনই সাংবাদিকতাকে আটকে রাখা যাবে না। এর আগেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু কোনটিই সফল হয়নি। কলম চলেছে, কলম চলবে।’

পারভেজ নাদির রেজার পোস্টটি শেয়ার দিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের আরেক সংবাদকর্মী হাবিবুর রহমান #আমিগুপ্তচর লেখা সম্বলিত প্রোফাইল পিকচার আপ করেছেন তার ফেসবুক ওয়ালে।

যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ পাপ্পু তার তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, #Digital_Law_32। #চর_চর_আমি_গুপ্তচর।

জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের রিপোর্টে যদি গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির ফুটেজ প্রচার করি। আর সেই খবরের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান করে দুর্নীতির সত্যতা পায়, তবে সেটা কিভাবে গুপ্তচরবৃত্তি হবে? উল্টো তারাই তো আমাদের গুপ্তচরবৃত্তির ফায়দা লুটল।’

বাংলাভিশনের সংবাদকর্মী এস এম ফয়েজ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় যা বলা হয়েছে, তাতে করে আগামী দিনে কেউই আমরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারব না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিরোধী ভয়ঙ্কর কালো আইন ৩২ ধারা।

তিনি বলেন, ‘আইনে আমাদের কর্মকাণ্ডকে গুপ্তচরবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করছে। প্রতিবাদ স্বরূপ হ্যাশট্যাগ আমি গুপ্তচর লিখে ছবি তুলে সবাই ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার দেব। আর স্ট্যাটাসে হ্যাশট্যাগ আমি গুপ্তচর লিখতে পারি। ৩২ ধারা দিয়ে কণ্ঠ বা কলম বন্ধ করা যাবে না। অনুসন্ধান চলবে।’

এদিকে মঙ্গলবার সচিবালয়ে ৩২ ধারার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এখানে সাংবাদিকদের কোনো সমস্যা দেখছি না। কেউ কোনো দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করলে সেটা কিন্তু অপরাধ হবে না। এটাকে অপরাধ মনে করার কোনো আইন নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না এ আইন সাংবাদিকতার অন্তরায় হবে। এ আইন করেও আপনাদের থামাতে পারবো বলে মনে হয় না। আপনারা যেটা করেন, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে গোপনে ধারণ এটা কি ঠিক? এটা ঠিক নয়।’

গোপনে যদি কোনো দুর্নীতির ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয় তাহলে এটা কি গুপ্তচরবৃত্তি হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনারা গোপনে ভিডিও করবেন কেন? পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত