প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোড়াতালিতে চলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইপিডিমিওলোজি ইউনিট

মতিনুজ্জামান মিটু : অর্গানোগ্রামে নেই, জোড়াতালি আর ধার করে চলছে চাপের মুখে গড়ে তোলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইপিডিমিওলোজি ইউনিট। অথচ রোগের হাত থেকে প্রাণি বিশেষ করে মানুষকে রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট এটি। ২০০৭ সালের আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এ ইউনিটটি ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ভাবাও হয়নি। গবাধি পশু ও অন্যান্য প্রাণিসহ মানুষের জীবন ছিল হুমকির মুখে। এসময় আউটব্রেক বা মহামারি আকার ধারণ করে মেজর জোনোটিক ( যে রোগ বিভিন্ন প্রাণি ও পশু পাখী থেকে মানুষের এবং মানুষ থেকে অন্যান্য প্রাণির হয়ে থাকে) ইম্পরটেন্ট ডিজিজ অফ পোল্ট্রি এভিয়ান ইনফ্লুয়েনজা বা বার্ড ফ্লু। বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ জুড়েও ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আতংক। বিরুপ এই পরিস্থিতির চাপে ওই বছরেরই জুলাই মাসে জোড়াতালি দিয়ে ওই ইপিডিমিওলোজি(রোগ তত্ত্ব) ইউনিট শুরু করা হয়।

ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান ইপিডিমিওলোজি ও উপ পরিচালক ডা. বসির আহমেদ বলেন, ২০০৭ সালে জুলাই মাসে বার্ড ফ্লু আসলে এই ইউনিটটি গঠন করা হয়। অর্গানোগ্রামে এই ইউনিটের অস্তিত নেই। পরিস্থিতির চাপে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অন্যান্য পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশনে এনে এই ইউনিট গড়ে তোলা হয়। এই ইউনিটের হয়ে কারো বেতন হয়না। বর্তমানে আমি এবং ৩ জন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাফ্ফর গনি ওসমানী, ডা. মো. শেখ শাহিনুর ইসলাম ও ড. সৈয়দ আলী আহসান ইউনিটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। জাতিসংঘের এফএও( ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন) ইসিটিএডি( এমারজেন্সি সেন্টার ফর ট্রান্সবাউন্ডারি এ্যানিম্যাল ডিজিজ), বাংলাদেশ এর দেয়া কম্পিউটার, খাতা, কলম, কাগজ, পেন্সিলসহ বিভিন্ন সহায়তা এবং বলতে গেলে একরকম ধার করেই চলছে ইউনিটটি। নতুন অর্গানোগ্রাম হওয়ার আগে এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে এমন আশা করা যায় না। এর মধ্যেও আমরা যথায়থ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

প্রাণিসম্পদ বিশেষ করে মানুষের জীবন বাঁচাতে এই ইউনিটটির গুরুত্ব অপরিসীম। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগী ও হাঁসসহ বিভিন্ন প্রাণির তরকা(এনথ্রাক্স), গলাফুলা, বাদলা, যক্ষা, ব্রুসলোসিস, ওলানফুলা, ফাউল কলেরা, ক্ষুরা ও রানিক্ষেতসহ বিভিন্ন রোগ অনুসন্ধান এবং দরকারি সুপারিশ করাই এই ইউনিটটির কাজ। ইউনিটটি যথেষ্ট শাক্তিশালী এবং গতিশীল না থাকলে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সবধরনের প্রাণি বিশেষ করে মানুষের জীবন বাঁচাতে ইপিডিমিওলোজি ইউনিটকে জরুরী ভিত্তিতে রাজস্ব খাতে নিয়ে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার। এই সঙ্গে দরকার রোগ অনুসন্ধান বা নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত এমস্বুলেটরি ক্লিনিক ( ভ্রাম্যমান ক্লিনিক)।

সর্বাধিক পঠিত