প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামীলীগের মাথাব্যাথার কতগুলো কারণ

ড. আসাদুজ্জামান রিপন : ওবায়দুল কাদের চালাক রাজনীতিক এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তার চালাকি বালকেরাও বোঝে। ওনারা আশা করেছিলেন ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে বিএনপিও তাদের মত আদালত অবমাননামুলক মন্তব্য করে একটা হৈচৈ বাধাক। এই সুযোগে তারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাটা ত্বরান্বিত করে ফেলতেন। বিএনপি সরকারী ফাঁদে পা দেয়নি। তার মানে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে এবং আওয়ামী লীগ অনুগত সুবিধাভোগী সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক প্রেসিডেন্ট জিয়া সম্পর্কে যা যা মন্তব্য করেছেন বিএনপি কি তা মেনে নিয়েছে? না। ওসব মন্তব্যে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়ার প্রতি অবিচার করা হয়েছে এবং তাতে ইতিহাসের প্রকৃত সত্য ফুটে ওঠেনি। আমরা ব্যাথিত এবং মর্মাহত তো বটেই। এর সমালোচনাও আমরা করি। কিন্তু এ সরকারের আমলে এর প্রতিকার যে আমরা পাবো না, তাও জানি।
ইতিহাস বলে, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের একটি উপদল মোশতাকের নেতৃত্বেই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবকে হত্যা করে মার্শাল ল জারী করে এবং মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জে. ওসমানী মোশতাকের ডিফেন্স এ্যাডভাইজার নিয়োজিত হন। ঐসময়ে তৎকালীন তিন বাহিনী প্রধান সেনাপতি সফিউল্লাহ সহ মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে রেডিওতে ভাষণ দিতে যান। ওদিন ব্রি: খালেদ মোশারফও রেডিও স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তৎকালীন বিডিআর ডিজি জে. খলিলুর রহমানকে মোশতাক চিফ অব ডিফেন্স এর একটি নতুন সুপিরিয়র পদ তৈরী করে জে: জিয়াকে মার্জিনালাইজ করার উদ্যোগ নেন। মোশতাক জানতেন জে: জিয়া তার অনুগত হবেন না কারণ তিনি একজন ওয়েল ডিসিপ্লিনড অফিসার হিসেবে সুবিদিত ছিলেন। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কারণেও তিনি সেনাবাহিনীতে খুবই সম্মানিত ছিলেন। তারপরও শুধু রাজনৈতিক ফায়দা নিতে শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে নাহক প্রোপোগান্ডা অব্যাহত রেখেছে আ.লীগ।
বৈরী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ নায়ককে ভিলেন বানাবার অপচেষ্টা দেখা যায়। ভুলে যাওয়া উচিৎ না যে, ঐবৎড়বং খরাব ঋড়ৎবাবৎ, শহীদ জিয়ার বেলায় এটাই সত্য হিসাবে উদ্ভাসিত।
অথচ তৎকালীন সেনাপতি সফিউল্লাহ, জে: খলিল, খালেদ কন্যা আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছেন! আর যারা মোশতাকের মন্ত্রী হয়েছিলেন, দুত, উপদেষ্টা হয়েছিলেন পরবর্তিতে তাদের মাথায় তুলে রেখেছেন! তাদের মধ্য থেকে একজনকে ( জে: ওসমানী) রাস্ট্রপতি পদেও জিয়াউর রহমানন এর বিরুদ্ধে মনোনয়নও দিয়েছিলেন। কারণ, আওয়ামী লীগের একটা বড় মাথাব্যাথা শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর নাম ও তাঁর রাজনীতি। তাঁর কীর্তি – এদেশের ধর্ম, বর্ন, ভাষা ও ণৃগোষ্ঠী ভেদে মানুষের জন্য তাদের প্রকৃত জাতীয়তার পরিচয়ে ( বাংলাদেশী জাতীয়তা) পরিচিতি তুলে দেওয়া, হরণ হয়ে যাওয়া গনতান্ত্রিক ব্যবস্হা ফিরিয়ে আনা এবং আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিটা দাড় করিয়ে দেওয়া, সংবিধানের শুরুতে পরম করুনাময় ¯্রস্টা আল্লাহ’র নাম সন্নিবেশিত করা সহ অসংখ্য ভালো কাজ, সংস্কার – যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
জিয়াউর রহমান যদি তাঁর কালজয়ী রাজনীতিটা শুধু না দিয়ে যেতেন কিংবা বিএনপি নামের জনপ্রিয় দলটা না বানিয়ে যেতেন আর তা যদি আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ না করতো ( এখনো ৩০ পার্সেন্টেরও বেশী ভোটার তার দলকে সমর্থন করেন) তা হলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আওয়ামীলীগের মাথব্যাথা হতোনা।
শহীদ জিয়ার সৃস্ট দলটির নেতা- কর্মীরা তার প্রদর্শিত রাজনীতিটা অব্যাহত ভাবে চর্চা করলে বাকিটা জনগনই আগলে রাখবে বরাবরের মত।
পরিচিতি : বিশেষ সম্পাদক, বিএনপি/ ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত