প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৎ যোগ্য দক্ষ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিন

মোহাম্মদ আবু নোমান : নির্বাচনে জনগণ শুধু মার্কা নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, আচরণ ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই ভোট দিয়ে থাকে। যার বাস্তব উদাহরণ গত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয়Ñ যোগ্যতা, দক্ষতাসহ সার্বিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিচক্ষণতার সাথে প্রার্থী ঠিক করা।
দল ও জোটের কর্মী-সমর্থকদের বাইরে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার আছে যারা বারবার একই দল বা জোটকে ভোট দেয় না। তারা দল বা জোটের নীতি-আদর্শ, অতীত কর্মকা- ও প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা, দেশপ্রেম প্রভৃতি বিবেচনা করেই ভোট দিয়ে থাকে। মূলত নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই শ্রেণির ভোটারের জাজমেন্টেই ফলাফল নির্ধারণ হয়ে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এইসব মানুষের অনুভূতি জানার সাথে সচেতন ও ইতিবাচক হতে হবে। শুধু কতিপয় চাটুকার, চামচা, তোষামোদকারী, খয়েরখাঁ এবং জ্বি-হুজুর জাহাপনা মার্কা কর্মী-সমর্থকদের সেøাগান শুনে দলের জনপ্রিয়তার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে না।
সাম্প্রতিককালে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে যে মন্দ ধারা চলে এসেছিল, রংপুর সিটির নির্বাচনের মাধ্যমে তার অবসান যাত্রা শুরু হলো কি? যদিও জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিসর অনেকটাই ছোট। তাই এর দ্বারা ভবিষ্যৎ আন্দাজ করা যাবে না। আসলে নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে, এটাই স্বাভাবিক। এর জ্বলন্ত উদাহরণ রংপুর সিটি নির্বাচন।
রংপুর নির্বাচনে ইতিবাচক-আশাব্যঞ্জক ভূমিকা পালনসহ নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য শুভ লক্ষণ হয়তো। সেখানে নির্বাচন কমিশন তার কথা ও কাজে মিল রেখেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, ভূমিকাও ইতিবাচক ছিল। তাই যথার্থ অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে পারলে আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচন এভাবে অনুষ্ঠিত হলে সত্যিকার অর্থেই দেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হবে।
কিন্তু এই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা নির্বাচন কমিশন রক্ষা করতে পারবে কিনা এটাই সচেতন মহলের শঙ্কা ও প্রশ্ন? সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি মাত্র, মুখ্য শক্তি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটে থাকে এর সম্পূর্ণ উল্টো। রংপুর সিটি নির্বাচন একটি টেস্ট কেস মাত্র। নির্বাচন কমিশনের ওপর এখনো জনগণের আস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রংপুরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা আস্থাভাজন হওয়ার পথ ও দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে মাত্র। এই দৃষ্টান্ত আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য হতে হবে অনুপ্রেরণামূলক। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। সরকার রংপুরের নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করেনি। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনের ওপর হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে কমিশনের দ্বারা ভালো নির্বাচন সম্ভব তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রংপুর। প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যাবশ্যক ও অবশ্যপালনীয়। জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিয়ে নিরাপদে, নির্ভয়ে, নির্বিঘেœ ঘরে ফিরবে এটাই কামনা। স্বাধীন নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক কাঠামো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রংপুর সিটি নির্বাচনে দুই-এক জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও অন্য সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও বিএনপির অভিযোগ ছিল ভোটকেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কমিশন সঠিক কাজ করেছে বলে মনে হয় না। ঘটনা ছোট বা বড় হোক, সব অভিযোগই সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। যাদিও রংপুর সিটির নির্বাচন নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সংশ্লিষ্ট ভোটার ও প্রার্থীদের যথেষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। বিএনপি যা বলেছে, হয়তো পরাজয়ের হতাশা থেকে তা করছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুখস্থবিদ্যা বলা যেতে পারে।
জনগণের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে স্বচ্ছতার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করা হলে জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ বিপুল অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের মূল কাজ হবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত