প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদাকে হেনস্তা করাটা আমরা ভালো চোখে দেখছি না : ফখরুল (ভিডিও)

ফারমিনা তাসলিম: বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রধান ছিল গণতন্ত্র। সে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, ন্যায়বিচার, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করায় বিএনপি লড়ছে। আজকের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, সারাজীবন লড়াই করেছেন। তাকে এভাবে হেনস্তা করাটা আমরা ভালো চোখে দেখছি না। আমরা তারপরও আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে, একটা সুষ্ঠ নির্বাচন হবে সকলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনকালিন সরকারকে নিরপেক্ষ রেখে।

ফখরুল সোমবার রাতে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে আগুণ সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, সে সময়ে অনেক পত্রিকায়ও এসেছিল যে বোমা সরঞ্জাম করত সেসব লোকজন ধরা পড়েছে তার কোন দলের লোক । কয়েকদিন আগে দেখা গিয়েছে বরিশালের একজন এমপি ও পরিবহন মালিক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার ইঙ্গিতে পরিবহনের একটি গাড়িতে পুড়িয়ে দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ জন পুলিশের লোক সেখানে ছিল। সুতরাং আগুন কিংবা বোমা সন্ত্রাস সম্পর্কে মন্তব্য করা, বিএনপি এটা করেছে আমি কোনমতে মেনে নিতে রাজি নই।

ফখরুল বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছে, আপনাকে বুঝতে হবে জিনিসটা কী? সরকারের চরিত্রটা কী? কিভাবে কাজ করছে? তার উদ্দেশ্যটা কী? বিএনপির সঙ্গে তার আচরণ, অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে তার আচরণটা কী? সেটাও আমাদেরকে বুঝতে হবে। আজকে যে ঘটনাটা ঘটছে সারা বাংলাদেশে বা আজকে এখন পর্যন্ত কতগুলো মামলা আমাদের বিরুদ্ধে আছে জানেন, ৭৮ হাজার মামলা। কতজন লোককে আসামি করা হয়েছে জানেন, ৮ লাখের ওপরে আসামি করা হয়েছে। আমাদের কাছে অল ডকুমেন্ট আছে। অজ্ঞাতনামাভাবে অনেক মামলা করে দিল। আমার বিরুদ্ধে ৮৬টা মামলা আছে। একটা মামলা আছে সেক্রেটারিয়েটে যেয়ে বোমা মেরেছে। এফআরআইয়ে বলা হচ্ছে মামলার দুজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোটর সাইকেল করে এসে বোমা মেরে চলে গেল। তারপরে বলছে এটার নির্দেশক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, টাকা দিয়ে এই কাজ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা অপরিচিত যাদের আপনি ধরতে পারেননি, যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই, যাদের কাছ থেকে কোন বক্তব্য নিতে পারেননি। তারা জানলো কিভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জড়িত আছে। সেটা যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কাজ করছে আপনি কিভাবে জানলেন? আইনের ব্যাপারটা কিন্তু অত্যন্ত পরিষ্কার।

ফখরুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ময়লার গাড়ি পুড়িয়েছি আমি নিজ হাতে। আমি বাস আটকে দিয়ে বাস পুড়িয়ে দিলাম। এই জিনিসগুলোতে আপনাকে আসতে হবে। এগুলোর জন্য যেটা প্রয়োজন অনুসন্ধানী রিপোর্ট আপনাদের করা দরকার। সরকারি দল যা বললো, অন্য দল বা আইজি যা বললেন তা নিয়ে আপনারা ধরে নিলেন। সে সঙ্গে এর মধ্যে একটা অনুসন্ধান পরিচালনা করা খুব বেশি প্রয়োজন। আমরা সবসময় যে অস্বীকার করেছি শুধু নয়। আমরা প্রমাণও দিয়েছি এখানে সরকারি দলের লোকেরাও জড়িত।

তিনি বলেন, বিএনপি হলো লিগাল ডেমোক্রেটিক পলিটিক্যাল পার্টি। বিএনপি কোন সন্ত্রাসী দল নয়। বিএনপি কোন এই ধরনের কাজকর্মের দল নয়। যেটা হয়েছে সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে তদন্ত করেন যদিও আজকাল বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। তারপরেও বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনি তদন্ত করেন করলে আপনি দেখবেন অন্য চিত্র চলে আসছে আপনার সামনে।

ফখরুল বলেন, অবরোধ, হরতাল কর্মসূচি এগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষিতে উঠ আসে। এর যথার্থতা সঠিক হচ্ছে কি হচ্ছে না এ সিদ্ধান্ত একমাত্র তখন হতে পারে যখন আপনার ফলটা পাওয়া যায় অনেক সময়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ১’শ ৭৩ দিন হরতাল করেছিল। তখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে একটি বাসে আগুন দিলে ১১ জন মারা গিয়েছিল। এই জিনিসগুলো আমাদের রাজনৈতিক কালচারের মধ্যে অনেকটা থেকেই গেছে। এটা আমাদের না এটা বেশিরভাগ ফরওয়ার্ড কান্ট্রিগুলোতে এখনোও আছে। এমনকি আমেরিকা, ইংল্যান্ডেও সেখানে আপনার সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনো সহিংসতার পক্ষে নই। সহিংসতাকে আমরা সবসময় না করে আসছি। কিন্তু এটার জন্য একটা পলিটিক্যাল পার্টিকে দায়ী করা হয়। এটাকে তদন্ত না কওে দোষারোপ করা কোনমতে সমীচিন নয়। আমরা বলছি এটার তদন্ত হোক। আমাদের হাতে সরকার ও পুলিশ নাই। কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারব না।

ডিএনসিসির যে নির্বাচনটা হলো না সে রাজনীতিতে বিএনপির ক্ষেত্রে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মনোনীত হয়ে থাকেন। এরকম কিছু?

এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আপনি শুধুমাত্র বিএনপির কথা বলছেন কেন আওয়ামী লীগের কথা বলছেন না কেন ? আতিক সাহেব কোন রাজনীতির মানুষ? এজন্য বলছি আপনাকে জিনিসটা কিন্তু কালচারের ব্যাপার আছে। এটা প্রয়োগের প্রয়োজন আছে। যেমন ধরুন আনিসুল হক সাহেব তিনি তো রাজনীতির বিষয়ে তেমন জনপ্রিয় ছিলেন না। রাজনীতিতে নিয়ে আসার পর দেখা গেছে তিনি অনেক ভালো কাজ করেছিলেন। এমনকি আমার দলের নেত্রীও বলেছিলেন, আনিসুল হক ভালো কাজ করছে। এ বিষয়গুলো তিনি ব্যবসায়ী নাকি অন্য কী ব্যক্তি এগুলো কোন বিষয় না। জনগণের কল্যান হিসেবে কেউ কাজ করে কি না সেটা দেখার বিষয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত