প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাকার প্রবাহ কমাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট :  নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠাননির্বাচনকে সামনে রেখে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসাবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, নতুন মুদ্রানীতিতে মুদ্রার ব্যাপক প্রক্ষেপণ কমিয়ে আনা হয়েছে। গত মুদ্রানীতিতে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ, নতুন ঘোষণার তা কমিয়ে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ফজলে কবির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সংবলিত ‘মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট’ প্রকাশ করা হয়।

মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় ফজলে কবির উল্লেখ করেন, গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন নাগাদ এই প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে আগামী ৫ মাসে প্রায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনতে হবে। অবশ্য গত নভেম্বরের পরই ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণে সাবধানতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই মাসে (নভেম্বর) বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ঋণ কার্যক্রম ও বৈদেশিক পরিশোধ দায় সৃষ্টিকারী ব্যাংকগুলোর জন্য কঠোরতর শৃঙ্খলা আরোপের কথা বলেন। তিনি ব্যাংকগুলোকে আগাম ও আমানতের অনুপাতের নির্দেশিত মাত্রার মধ্যে থাকার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ প্রাসঙ্গিক সব ম্যাক্রোপ্রুডেনশিয়াল নিয়মাচার শৃঙ্খলা পরিপালনের বাধ্যবাধকতাও কঠোরতর করা হবে বলে জানান তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন উচ্চমাত্রায় ঋণ দেওয়ার অঙ্গীকার বা বৈদেশিক পরিশোধ দায় সৃষ্টিকারী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ফজলে কবির।
মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় ফজলে কবির বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও বৈদেশিক ঋণের দায়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গতির সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতাও কিছুটা কমানো হবে। তবে তা সমন্বয়ে জুন পর্যন্ত সময় পাবে ব্যাংকগুলো। এসময় তিনি ব্যাংকগুলোকে একদিকে আমানত সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন, অন্যদিকে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরও সর্তক হতে বলেন।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সংকট রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘ইন্টারনেটভিত্তিক ই-কমার্স খাতে আসা বিদেশি আয় ব্যাংকের মাধ্যমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশ থেকে আয় আনতে যে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করা হচ্ছে, তা প্রতিরোধে ও দমনে জোরালো কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।’
আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের গতিশীলতার কথা তুলে ধরে গর্ভনর বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতিতে উৎপাদন কর্মকাণ্ডের মূলধনী যন্ত্র ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির জোরালো প্রবৃদ্ধি এসেছে।’ তার দৃষ্টিতে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড প্রসারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলোর নিরসনে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

এই অগ্রগতিকে ‘আকস্মিক’ অভিহিত করে গর্ভনর বলেন, ‘এই জোরালো গতিবেগ সামনের দিনগুলোয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য বেশ ইতিবাচক হয়েছে। তবে একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন খাতে স্থিতিশীলতার জন্য নিকটমেয়াদি ঝুঁকিও অনেকটা বেড়েছে। গড় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ উর্ধ্বসীমার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।’ আমদানি ব্যয়ের চাপ গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ স্থিতির ওপরও পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ছয় শতাংশের কম মূল্যস্ফীতিতেও দেশজ উৎপাদনে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির ৭.৪ শতাংশ সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত হবে বলে মনে করেন ফজলে কবির। তার ধারণা, নির্বাচনের বছর হওয়া সত্ত্বেও সরকারের ব্যাংক ঋণ ব্যবহারে ঋণাত্মক ধারা রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি পরিমিত রেখে মূল্যস্ফীতি চাপ উপশমে সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, ‘করপোরেট গ্রাহকদের মেয়াদি প্রকল্প বিনিয়োগ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিনির্ভরতার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে এদের মূলধন বাজারে বন্ড ইস্যু করে অর্থায়ন সংগ্রহে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হবে।’

মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী ও এস এম মুনিরুজ্জামান, প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সল আহমেদ, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত