প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডেট লাইন ৮ ফেব্রুয়ারি
করণীয় নিজেই জানাবেন খালেদা জিয়া

মামুন : কী হবে করণীয়— দলের পক্ষ থেকে হয়নি স্থির সিদ্ধান্ত। বেড়েই চলেছে অস্থিরতা। নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা— কী ঘটবে ৮ তারিখ। ঘণ্টারর পর ঘণ্টা চলছে গুলশান ও নয়া পল্টনজুড়ে বৈঠক। বিএনপি নেতারা বলছেন, গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মামলায় রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, সন্দেহ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন খালেদা জিয়া নিজে।

শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে ঘিরে কোনও কঠোর বা সহিংস আন্দোলনে যাবে না বিএনপি। এখন পর্যন্ত বিএনপি এই সিদ্ধান্তে অটল যে, আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনও কর্মসূচিতেই যাবে না বিএনপি।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিনে বিএনপির চারটি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি প্রকাশ্যে, দু’টির তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলের যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে তিনি বৈঠক করেছেন সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে।

দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দলের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে আগামী দিনের রূপরেখা দেবেন খালেদা জিয়া নিজেই। ওই দিনই তিনি জানাবেন, ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মী ও ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে।

উভয় বৈঠকেই অংশ নেওয়া নেতারা জানান, বিএনপির কৌশল কী হবে, কর্মসূচি কী আসবে— এসব নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। রবিবার রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও কৌশল সম্পর্কে কোনও আলোচনা হয়নি। জোটের সমন্বয়ক সভা শুরুর আগে শরিক দলগুলোকে এজেন্ডা জানানোর সময় বলেন, ‘আজকের বৈঠকে কৌশল নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে ম্যাডামকে আপনাদের অবস্থান তুলে ধরুন।’ পরে শরিক নেতারাও খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের বেশিরভাগের আলোচনাতেই খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশংসাসূচক বক্তব্য থাকায় মির্জা ফখরুল সবাইকে প্রশংসাসূচক বিশেষণ রেখে মূল বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘‘আমাদের বলা হয়েছে, ‘নন ভায়োলেন্ট’ থাকতে। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মহাসচিবের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন রাজপথে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোনও অবস্থাতেই সহিংস না হওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ওই নেতার ভাষ্য, ‘আমাদের পক্ষ থেকে একটি ঘটনা ঘটলে সরকার ও গোয়েন্দাদের তরফ থেকে আরও ১৫টি ঘটনা ঘটানো হবে। পরে সবকিছুর দায় চাপানো হবে বিএনপির ওপর।’

সূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের গ্রেফতার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি রাতেও বিএনপির মহানগরের কয়েকজন নেতা গুলশানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গোপনে কার্যালয় ত্যাগ করেন।

বিএনপির দায়িত্বশীলরা বলছেন, একের পর এক বৈঠক করে খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের মনোভাব যাচাই করছেন। তার মামলার রায়ের পর অবস্থান কী হবে, সে কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে আরও চার দিন অপেক্ষা করতে হবে। ৩ ফেব্রুয়ার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেই বিএনপির পথ-পরিক্রমা বলে দেবেন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা আসবেন, তারা বলবেন। দল মিটিং ডেকেছে, এটা তো শুধু মামলার রায়কে কেন্দ্র করে না। এটা নির্বাহী কমিটির জরুরি মিটিং। কমিটি হওয়ার মিটিং হয় নাই। পার্টির কিছু কর্মকাণ্ড একসারসাইজ হবে। মিটিং কোনোকিছু কেন্দ্র করে না।’
এদিকে, আগামী ৩০ জানুয়ারি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি। এই বৈঠকে খালেদা জিয়া মামলার রায়, আগামী নির্বাচন, মামলার তথ্য-প্রমাণের ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিফ করা হবে বিদেশি কূটনীতিকদের। বাংলা ট্রিবিউন, যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত