প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোচিং বন্ধ, অফিস খোলা

ডেস্ক রিপোর্ট : মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সরকারের এ নির্দেশনা মানছেনা অনেক কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টারের বাইরে বন্ধের নোটিশ টানানো থাকলেও আড়ালে অফিসের কার্যক্রম চালু রেখেছে। গতকাল ফার্মগেট ও ধানমণ্ডি এলাকার বেশ কিছু কোচিং সেন্টারে সরজমিন দেখা গেছে, ২৪শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা দিয়ে নোটিশ টাঙিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর বাইরেও রাজধানীর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো ঘুরে প্রায় এই অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি কোচিং সেন্টার রয়েছে ফার্মগেট এলাকায়।

ফার্মগেট সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থিত কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এলাকাটির গ্রিনরোড সড়কের ডান পাশে কায়খসরু ভবনে এডমিশন এইড, ইউনি এইড ও মিরপুর ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটি ২৪শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা সংবলিত নোটিশ টাঙিয়ে রেখেছে। দরজাগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। বন্ধ রাখা আছে অফিসগুলোও। তবে মিরপুর ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের শাখা অফিস খোলা পাওয়া গেছে। অফিসটি দেখাশোনা করছেন সাদ্দাম নামের কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সঙ্গে আমাদের কোচিং কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে আমাদের সব কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একইভাবে গ্রিনরোডের পূর্ব পার্শ্বে আইডিয়াল ল’ কলেজ ভবনে ইউসিসি কোচিং সেন্টারে দেখা গেছে অর্ধাকারে শাটার লাগানো। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সবচেয়ে মুখরিত এই কোচিং সেন্টারটি একেবারে প্রাণহীন হয়ে পড়ে আছে। অফিস খোলা থাকলেও দেখা যায়নি কোনো কর্মকর্তাকে। বাইরের দেয়ালে ঝুলছে কোচিং বন্ধের নোটিশ। নোটিশ দেখে অনেক শিক্ষার্থীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অমিত রেজা নামের কোচিং শিক্ষার্থী বলেন, আমি জানতাম না কোচিং বন্ধ রাখা হয়েছে। নোটিশ পড়ে জানতে পারলাম কেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিটিআই জেনারেল প্লাজায় গিয়ে দেখা গেছে, সাইফুর’স কোচিং সেন্টারে যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ক্লাসরুমে তালা লাগানো আছে। প্রয়োজনীয় কিছু কাজের জন্য খোলা রাখা হয়েছে অফিসকক্ষ। কোচিং সেন্টারটির শাখা ম্যানেজার মিনহাজুল ইসলাম শোহান বলেন, সরকারের নির্দেশ মতো কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকার পরেও কোচিং সেন্টারের অনেক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত অর্কিড প্লাজায় সংশপ্তক, জাবি এইড, গ্রিনভিউ সুপার মার্কেটে আইকন, ইউসিসি শাখা এবং কনকর্ড ভবনে রেটিনা, উন্মেষ, ক্যারিয়ার এইড, এখিলিস এডুকেশন, ফ্রেন্ডস এডমিশন কনসালটেন্ট ও বিটিআই জেনারেল প্লাজায় মেরিন এডমিশন কোচিং, বিসিএস কানফার্ম, ওরাকল ও সাইফুর’স কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ দেখা গেছে। ক্লাসরুমের পাশাপাশি অফিসের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা আছে। তবে কিছু কিছু কোচিং সেন্টারের অফিস কার্যক্রম চালু রাখতে দেখা গেছে।

ধানমণ্ডির বিভিন্ন সড়কে অবস্থিত কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ক্লাস নেয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রেখে কিছু কিছু কোচিং সেন্টারের শুধুমাত্র অফিস রুম খোলা থাকতেও দেখা যায়। তাদের দাবি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালানোর জন্যেই অফিস রুম খোলা রেখেছেন তারা। জিগাতলার গুরুগৃহ কোচিং, মল্লিক কোচিং সেন্টার, আই ল্যাব কোচিং সেন্টার সবগুলোতেই বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে তালা লাগানো রয়েছে। ধানমণ্ডি শংকরের কচিকণ্ঠ কোচিং সেন্টারের অফিস খোলা থাকতে দেখা যায়। অফিস খোলা রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তালা বন্ধ ক্লাসরুম দেখিয়ে তারা (কোচিং কর্তৃপক্ষ) জানান, আমরা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কিছু কাজের জন্যে অফিস খোলা রেখেছি। এখন না হয় কোচিং বন্ধ রাখলাম, কিন্তু পরীক্ষার পরতো আমাদের কোচিং চালাতে হবে। এই জন্যে প্রতিদিন শুধুমাত্র অফিস রুমটা খোলা রাখা হয় বলে জানায় কোচিং কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়াও ধানমণ্ডিতে অবস্থিত টিউটোরা, ভারটিক্যাল, ইডুহলিকস্‌, উদয়, স্টাডি কেয়ার, স্যার স্কয়ার, ভারটিক্যাল হরাইজোন, হেডওয়ে, রংধনু, ফেইম টিচিং হোমসহ সব কোচিং সেন্টারগুলোতেই তালা ঝুলতে দেখা যায়। তারা জানান মূলত শিক্ষামন্ত্রীর আদেশ মতেই তারা কোচিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রাণলয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউই কোচিং সেন্টারগুলোতে ক্লাস শুরু করবেন না বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সব কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভাগে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় তদারক কমিটির পক্ষ থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নির্দেশনা চলবে গত শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শেষ দিন ২৪শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত