প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘যদি মরে যাই’ শিরোনামে ছোট্ট নোট থাকে আফগানদের পকেটে

পরাগ মাঝি : যুদ্ধ জীবনকে বদলে দেয়। এই যেমন কাবুলের অধিবাসী মুজিবুল্লাহ দস্তগীরের মানিব্যাগ থেকে যে কাগজের টুকরোটি বেড়িয়ে আসলো তাতে কয়েকটি জরুরী ফোন নম্বর, রক্তের গ্রুপ এবং কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা লেখা। আল-জাজিরার সাংবাদিকদের মুজিবুল্লাহ বলেন, ‘যদি কোন আক্রমণে আমি আহত কিংবা মরে যাই, তবে ডাক্তাররা আমার এই ছোট্ট কাগজ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাবে।’
কাবুলের অন্য অধিবাসীদের মতো ২৮ বছর বয়সী মুজিবুল্লাও তালেবানদের অব্যাহত হামলার জন্য আশাহত। সর্বশেষ একটি আত্মঘাতী হামলায় দেশটিতে ১০৩ জনের প্রাণহাণী ঘটেছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২৩৫ জন। ওই ঘটনায় মুজিবুল্লার এক বন্ধু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বন্ধু ও স্বজনেরা তার খোঁজ পেতে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাইছে। এমন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা আফগানিস্তানে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরেই আফগানিস্তানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে। জন্মের পর থেকেই মুজিবুল্লাহ এমন পরিস্থিতি দেখে আসছে।
সময়ের বাস্তবতায় বিকল্প পথও অনুসরণ করছে আফগানরা। পকেটে কাগজের টুকরোতে নাম ঠিকানা ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় লিখে রাখা এখন তাদের কাছে একটি সাধারণ ব্যপার। ফজিলা শাহেদি নামে ২০ বছরের এক আফগান তরুণীও আল-জাজিরা টিমকে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত দুটি নোট রয়েছে তার কাছে। একটি তার জ্যাকেটের পকেটে অন্যটি পার্সে। কোন আক্রমণ কিংবা দুর্ঘটনায় একটি নোট ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেলে অন্যটি যেন ডাক্তার কিংবা স্বেচ্ছাসেবীরা খুঁজে পায়। ফজিলা কাবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ে। এম্বুলেন্সের সাইরেন শুনলেই তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সে মনে মনে ভাবে, ‘আজ কি ফিরে আসা হবে?’ এত কম বয়সে ফজিলা মরে যেতে চায়না।
আল-জাজিরার দলটি আফগানদের কাছে রাখা নোট সম্পর্কে আরও খোঁজ খবর করে অবাক হয়ে যায়। দেখা গেছে, অসংখ্য আফগান নারী-পুরুষ এটি করছে, যেন মরে গেলে তার লাশটির পরিচয় জানা যায় এবং স্বজনদের কাছে পৌঁছে যায়। আল-জাজিরা অবলম্বণে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত